মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ডিজিটাল গেম

১৯৭১ সালের বাংলাদেশ। মধুমতি নদীর তীরে শনির চর। আগ্নেয়াস্ত্র বুক পানি ঠেলে প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পাঁচ কমান্ডো- কবির, বদি, সজল, তাপস ও শামসু। কালি লেপ্টে আড়াল করা হয়েছে চেহার। এদের মধ্যে দু’জনের হাতে লাইট মেশিনগান, একজনের হাতে একটা হেভি মেশিনগান এবং বাকি দু’জনের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ইস্যু রাইফেল। প্রত্যেকের বেল্টেই তিনটা করে গ্রেনেড। লক্ষ্য গ্রমের একটা স্কুল পাক হানাদার ক্যাম্প দখল। এই ক্যাম্পটি দখল করতে হলে খেলতে হবে ১৬ পর্বের থার্ড পার্সন শ্যুটার গেম- ‘হিরোজ অব ৭১’।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধের আবহে বাংলাদেশেরই একদল তরুণ গেমাররা তৈরি করেছে প্রথম মোবাইল গেম- ‘হিরোজ অব ৭১’।

এখন থেকে গুগল অ্যাপস্টোর থেকে গেমাররা তিনটা ক্যারাক্টার নিয়ে খেলতে পারবেন। এই যুদ্ধে যোদ্ধাকে তিনটি ক্যারাক্টারের অস্ত্র ও দক্ষতা ব্যবহার করে ক্যাম্প রক্ষা করতে হবে। প্রতিটি পর্বে পাক সেনাদের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। আর তাদেরকে কুপোকাত করেই ক্যাম্প দখল মুক্ত করে ওড়াতে হবে লাল-সবুজের পতাকা।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গেরিলা হামলার ঘটনাগুলোকে নিয়ে তৈরি ‘হিরোজ অব ৭১’নামের থার্ড পারসন শুটিং ক্যাটেগরির এ গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘পোর্টব্লিস গেইমস’।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘পোর্টব্লিস গেইমস’ জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের লড়াই আর প্রতিরোধের গল্পগুলো গেমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা থেকেই গেমটি নির্মাণ করেছেন তারা।

গেমটির ব্যাপারে ‘পোর্টব্লিস গেইমস’-এর কারিগরি উন্নয়ন বিভাগের প্রধান মাশা মুস্তাকিম জানান, গেমটি গেইমারদের মোটর স্কিল এবং বুদ্ধিমত্তা দুটোকেই চ্যালেঞ্জ করবে।গেমটাতে আসলে দৃশ্যত কোনো লেভেল নেই। তবে ১৬টি ডিফিকাল্টি লেভেল আছে। গেমাররা তিনটা চরিত্র নিয়ে খেলতে পারবে এবং তাকে এই তিনটি চরিত্রের অস্ত্র ও দক্ষতা ব্যবহার করে ক্যাম্প রক্ষা করতে হবে। ক্রমাগতভাবে পাকিস্তানি সেনা আসতে থাকবে। গেমারকে এদেরকে মারতে হবে।

তিনি বলেন, প্রথম লেভেলে অল্পকিছু সৈন্য আসবে, পরবর্তীতে সেনার সংখ্যা, অস্ত্রের ড্যামেজ, প্রকারভেদও বাড়তে থাকবে। ১৬ টি লেভেল পার করতে পারলেই গেমার ক্যাম্পকে রক্ষা করতে পারবে। তিনি আরও জানান, মূলত ফ্রিলান্সিং থেকে আয় করা টাকা থেকেই গেমটির বড় খরচগুলো করা হয়েছে। পাশাপাশি বুয়েটের বড় ভাইরা আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে পাশে দাড়িয়েছেন।

পুরো গেমটির গল্প লিখেছেন ওমর রশিদ চৌধুরী। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট এবং অন্যান্য কাজে ছিলেন রকিবুল আলম, আরিফুর রহমান, অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী, অভিক চৌধুরী, আবদুল জাওয়াদ, পাপন জিত্ দে, রেহাব উদ্দিন, তপেশ চক্রবর্তী ও প্রিয়ম মজুমদার।

ভিডিওঃ পৃথিবীতে খুজে পাওয়া কিছু মৃত দেহ যার রহস্য এখন জানা যায়নি

১ জিবি র‌্যাম আছে এমন যে কোনো আন্ড্রয়েড ডিভাইসে খেলা যাবে গেইমটি, আর ফাইল স্টোরেজে জায়গা নেবে মাত্র ৫০ মেগাবাইট। গেমটি আজ থেকে গুগল প্লে স্টোরের https://goo.gl/xSfQor এই ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

%d bloggers like this: