ভয়েস টাইপিংয়ের দারুণ কার্যকরী একটি অ্যাপ

একটা সময় ছিল টাইপরাইটারের। সে সময় মানুষ চাকরির সিভিতে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে লিখতো টাইপরাইটিং দক্ষতা। এরপরে এলো কম্পিউটার, এখানেও টাইপিং স্পিড চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতো। মানুষ ওয়ার্ড প্রসেসর বা এক্সেলের কাজ আলাদা অফিস কোর্সে শিখতো। এমনকি কিছু কিছু সরকারি অফিসে এখনও কম্পিউটার অপারেটর নামক পোস্ট আছে।

তবে যুগের সাথে মানুষের দক্ষতা বেড়েছে। মানুষ এখন মজার ছলেই টাইপিং শিখে যায়। আর স্পিড? সেটা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া এই জেনারেশনের আলাদা করে অফিস কোর্স করতে হয় না, এমনিতেই তারা টাইপিং পারে। এর প্রধান কারণ ল্যাপটপ বা পিসি’র সসহজলভ্যতা।

কিন্তু তারপরও মানুষ খুঁজে চলে আরাম। আরও কত সহজে সকল কাজ সারা যায়। আর এর উদাহরণ হলো ভয়েস টাইপিং প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে মুখে বলে টাইপ করা যায়। টেক জায়ান্ট গুগল অনেক দিন থেকেই এ ধরনের সেবা সীমিত আকারে দিয়ে আসছে।

তবে এবার ভয়েস টাইপ মানে কথাকে টেক্সটে রুপান্তর করতে এমন একটি অ্যাপ এসেছে, যার সাহায্যে ৪০টিরও বেশি ভাষায় কথাকে টেক্সটে রূপান্তর করা যায়। সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো, এর নির্ভুলতা প্রায় ৯০ শতাংশের উপরে! তাছাড়া এই অ্যাপ পৃথিবীর প্রায় ৮০ শতাংশ ভাষাকে টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে। ‘ডিক্টানোট’ নামের এই অ্যাপের প্রো সংস্করণ খুবই নির্ভুল। আর আপনি চাইলে এদের ওয়েবে গিয়ে কথাকে টেক্সটে রূপান্তরের পদ্ধতি যাচাই করতে পারেন। সেটার জন্য কোনো টাকা পয়সা লাগবে না, শুধু ফেসবুক বা জিমেইল দিয়ে ঢুকলেই হবে। বাংলা ভাষার বানানগুলো নির্ভুলভাবেই লিখেছে, যখন এই লেখক নিজে যাচাই করেছেন। এবং তা কপি করার উপায়ও বেশ সহজ, এক ক্লিকেই কপি হয়ে যায়। আপনার সুবিধামতো বিরামচিহ্ন ব্যবহার করতে পারবেন। পারবেন, মাউস, কিবোর্ড ছাড়াই লিখতে। আবার আপনি চাইলে কথার সাথে মাউস বা কিবোর্ডও একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন।

এই অ্যাপ কিন্তু ফ্রি কোনো অ্যাপ না, একে পেতে হলে আপনাকে ১৯ ডলার খরচ করতে হবে। কি বেশি মনে হচ্ছে? আসলে এর দাম ছিল ১৮০ ডলার! এখন অফারে ৮৯ শতাংশ ছাড়ে ১৯ ডলারেই পাওয়া যাবে এই কার্যকর অ্যাপ।

%d bloggers like this: