প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার হুমকি

বিনা নোটিশে সিটি কর্পোরেশন ঝুলন্ত তার অপসারণ কার্যক্রম আগামী ১৭ অক্টোবরের মধ্যে বন্ধ না করলে, ১৮ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা সারাদেশে ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সেবা বন্ধের হুমকি দিয়েছে আইএসপিএবি ও কোয়াব।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও কেবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) নেতৃবৃন্দ সেবা বন্ধের এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যাংকসহ সব পর্যায়ে ইন্টারনেট ডাটা কানেক্টিভিটি এবং ক্যাবল টিভি বন্ধ রাখার প্রতীকী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আইএসপিএবি ও কোয়াব।

বক্তারা জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না করে বিনা নোটিশে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক অপসারণের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে গত দুই মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্যাবল সংযোগ দিতে হয়েছে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি অপারেটর ব্যবসায়ীরা।

আইএসপিএবি সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, ‘আগামী ১৭ অক্টোবরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না করা হলে আগামী ১৮ অক্টোবর রোববার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সারাদেশে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, ব্যাংকসহ সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট ডেটা কানেক্টিভিটি ও কেবল টিভির সেবা প্রতীকীভাবে বন্ধ রাখা হবে, যতদিন না আমাদের এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে।’

আইএসপিএবি সভাপতি লিখিতভাবে পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো: ১. স্থায়ী সমাধান না করা পর্যন্ত কোনো ঝুলন্ত তার অপসারণ করা যাবে না। ২. আইএসপিএবি, কোয়াব, বিটিআরসি, এনটিটিএন এবং সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে লাস্ট মেইল কেবল স্থাপন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে একটি কমিটির মাধ্যমে সরেজমিন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাসা-বাড়ি, অফিস-ব্যাংকসহ সকল পর্যায়ের ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সেবার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। ৪. গ্রাহক পর্যায়ে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সেবা দিতে এনটিটিএন এর মূল্য সরকার থেকে নির্ধারণ করতে হবে। ৫. এনটিটিএনগুলোর (নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) গ্রাম পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতের সার্বিক সক্ষমতা আছে কিনা তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক, কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস কে আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

%d bloggers like this: