চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণের রকেট উন্মোচন

ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, তার নতুন রকেটটি মহাকাশ ভ্রমণকে বিমান ভ্রমণের মতো সাধারণ ব্যাপার করে তুলতে পারবে। চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে শহর তৈরি করার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মহাকাশ ভ্রমণ সেবায় মার্কিন বিলিয়নিয়ার ও রকেটনির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই প্রধান নির্বাহী বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্টারশিপ’ রকেট আনুষ্ঠানিক ভাবে উন্মোচন করেছেন। এটিকে লঞ্চে সক্ষম বাহনটি ইতিমধ্যে ‘সুপার হেভি’ নামে পরিচিত। এই স্টারশিপ রকেটে করেই ভ্রমণার্থীদের চাঁদে বা মঙ্গলগ্রহে নেওয়া হবে।

টেক্সাসে ‘স্টারশিপ’ উন্মোচন অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন বিমানের মতোই কাজ করতে পারবে স্টারশিপ রকেট- উড্ডয়ন এবং অবতরণের সময় কোনো ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

কোনো রকেট যখন লঞ্চ করে গ্রহ অথবা উপগ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তখন সেটা পুনরায় ব্যবহার উপযোগী থাকে না। রকেট লঞ্চের পর সেটা নিয়ন্ত্রণ করে ল্যান্ড করানো কষ্টসাধ্য। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার এই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছে স্পেসএক্স। কিন্তু ল্যান্ড করানো গেলেও দেখা যায় পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণজনিত কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চাঁদের বুকে কলোনি স্থাপন করতে চান ইলন মাস্ক। তারই খসড়া এই ছবিটি।

এই সমস্যা মোকাবেলায় নতুন রকেটটি স্টিল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যার উচ্চ গলনাঙ্ক রয়েছে এবং উপদানগুলো দ্রুত রিকভার করতে পারে। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হিসেবে পৃথিবীতে ফিরে আনার ক্ষেত্রে যা বেশ কার্যকরী।

স্টারশিপের দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার, ওজন ১২০ টন এবং এতে ছয়টি ইঞ্জিন রয়েছে, তিনটি চারপাশে চলাচল করবে এবং তিনটি স্থির ভ্যাকুয়াম ইঞ্জিন থাকবে। মহাকাশ বিজ্ঞানের হিসাবে, এমন ফিচারকে দুর্দান্ত অর্জন বলে অভিহিত করেন তিনি।

চাঁদ, মঙ্গলগ্রহ সহ সৌরজগতের যেকোনো জায়গায় ক্রু এবং কার্গো বহনের ‍উপযোগী স্টারশিপ। এটি অনুভূমিকভাবের পরিবর্তে লম্বভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে বলে জানান, মাস্ক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মহাকাশ ভ্রমণকে বিমান ভ্রমণের মতো সহজ করতে কাজ করছে স্পেসএক্স। মঙ্গল গ্রহে কিভাবে ডক করতে হয় তা ইতিমধ্যে শিখেছে সংস্থাটি। এবার সেখানে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করতে চায়। পাশাপাশি চাঁদেও কলোনি স্থাপন করবে।

%d bloggers like this: