Home > সম্পাদকীয় > রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করা কি আদোও সম্ভব ❓

রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করা কি আদোও সম্ভব ❓

রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করা কি আদোও সম্ভব ❓
.
উত্তর হ্যা! তবে এখানে অনেকগুলো ব্যাপার জড়িত। ভূরাজনীতি, স্বার্থ ও সক্ষমতা। আমরা সবাই জানি আমেরিকা তাদের কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব দিয়েছে যে, রাখাইনকে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করে দেয়ার। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেখানে এর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে কেউ কিছুই বলেনি। তারমানে আমেরিকানদের মাথায় বিষয়ার রয়েছে।

আমেরিকা কেন হঠাৎ এমন একটি বিষয় সামনে নিয়ে আসলো?? নিশ্চয়ই এর কারন রয়েছে। তার প্রধান কারন হচ্ছে তারা বাংলাদেশকে তাদের ব্লকে নিতে চাচ্ছে। কেন তারা বাংলাদেশকে তাদের পাশে চায়? তেল? গ্যাস? কিংবা খনিজ সম্পদ?? উত্তর না! কারন এখানে মধ্যেপ্রাচ্যের মত অঢেল কোনো খনি নেই। সুতরাং বাংলাদেশ এদিক থেকে বেঁচে গেছে।

তাহলে কেন আমেরিকা বাংলাদেশকে এত গুরুত্ব দিচ্ছে? তার সোঁজা উত্তর হচ্ছে চীন!! জি, এঅঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থ এখন কেবল চীন ঠেকাও এর কারনে।

তাহলে রাখাইন ইস্যু কেন টানলো আমেরিকা তাও বাংলাদেশের অযুহাতে? কারন রাখাইনে চীনের প্রভাব। সেখানে তারা বন্দর নির্মান করছে যা কিনা ভবিষ্যতে সামরিক কাজেও চীন ব্যাবহার করতে পারবে। সেই সাথে রয়েছে বঙ্গোপসাগরে সাথে রাজ্যটির সরাসরি সংযোগ।

এখন আমেরিকার পরিকল্পনা হলো রাজ্যটিকে আলাদা করে দেয়া অথবা বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করে দেয়া যাতে এখানে তাদের প্রভাব থাকে।

রাখাইন বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হলে বাংলাদেশের লাভ কোথায়?

লাভটা অনেক গভীরে। প্রধান লাভ হলো দেশের আয়তন বাড়বে। যা ঐতিহাসিকভাবে একসময়ে বাংলাদেশের অংশ ছিলো তা ফিরে পাবে। সেই সাথে তিনদিকে ভারতের অবস্থানের ফলে যেমন আমরা তিন দিক থেকে ব্লক ছিলাম সেখান থেকে অনেকটা মুক্তি। আরেকটি লাভ হলো প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি অংশ বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হওয়ার পরে যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে।

তাহলে রাখাইন কিভাবে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হবে? বিষয়টা যে খুবই সহজ না তা মানছি। মিয়ানমার কখনোই চাইবেনা তাদের এত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য হাতছাড়া হোক। কিন্তু তারপরও ব্যাপারটি অসম্ভব নয়। কেননা আমরা যদি দক্ষিণ সুদান, পূর্ব তিমুর, ইসরায়েল সৃষ্টির বিষগুলো দেখি সেখান থেকেই ধারনা পেতে পারি। জাতিসংঘে যদি একটি প্রস্তাব আনা হয় যে রাখাইনকে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করে দেয়ার ব্যাপারে সাধারণ পরিষদে একটি বিল পাশ হয় তাহলেই যুদ্ধ ছাড়া রাখাইন বাংলাদেশের।

রাখাইনের বিদ্রোহীরা, আচ্ছা বিদ্রোহ কেন করছে? ওদের মৌলিক অধিকারের জন্য। নাগরিকত্বের জন্য। সুতরাং বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হলে ওরা এমনিতেই সকল নাগরিক অধিকার পাবে। তাদের সাথে আলোচনা করে তাদের সাথে সমঝোতা করে এসব বিষয়ে মিমাংসা করা যাবে।

এবার আসেন চীন রাশিয়া ফ্যাক্ট! রাখাইন যদি বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হয়ও চীন কি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে?? এটা অসম্ভব। কারন এদেশে তাদের স্বার্থ। বাংলাদেশ যদি চীন বিরোধী অবস্থানে চলে যায় তাহলে বঙ্গোপসাগরে চীনের দাদাগিরি বন্ধ। রাশিয়াও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান কোনোভাবেই নেবেনা। এর কারন হলো তারা রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে আগে থেকেই সব যানে।

এখন আসেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশ্বের প্রায় সকল দেশই যানে রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা কি করেছি। সুতরাং মানবিক দিক থেকে হলেও সবাই বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে। সেই সাথে রোহিঙ্গারা মুসলিম বলে মুসলিম বিশ্বের সমর্থন যে বাংলাদেশই পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

এবার আসেন বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের কথায়, ভারত কখনই চাইবেনা বাংলাদেশের আয়নত বাড়ুক। কেননা এতে বাংলাদেশের উপর তাদের প্রভাব থাকবেনা।

শেষকথা, আমেরিকা কি স্বার্থ ছাড়াই রাখাইনকে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করতে এত কিছু করবে? কখনোই না। তারা চাইবে রাখাইনে একটি সামরিক ঘাটি করতে। আমার ব্যাক্তিগত মতামত হলো যেহেতু আমাদের এখানে তেলের খনি নেই সেহেতু আমেরিকা থেকে আমাদের কোনো নিরাপত্তা হুমকিও নেই। তাই রাখাইনে অনেকগুলে দ্বীপের মাঝে একটি আমেরিকাকে ২০ বছরের জন্য সামরিক ঘাটি করতে দিলে সমস্যার কিছু নাই। এতে বাংলাদেশ সামরিক এবং অর্থনৈতিক দুভাবেই লাভবান হবে অন্তত চীনের সাথে থেকে যেই লাভটা হচ্ছেনা।

এখন কথা হচ্ছর রোহিঙ্গারা তো মূর্খ। এরা যুক্ত হলে তো বোঝা বাড়বে?? কিন্তু আসলেই কি তাই? মনে করে দেখেন তো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা কি ছিলো! কতটা বৈষম্যের স্বীকার হয়েছি আমরা। স্বাধীনতার পর বলা হয়েছিলো ‘তলা বিহিন ঝুড়ি’ কিন্তু আজ আমরা কোথায়। সুতরাং এদেরকে শিক্ষা দিলে এরাও মানুষ হবে।

চিন্তাটা থাকা দরকার গভীরে।

(ভুলত্রুটি সংশোধনযোগ্য, ভদ্র ভাষায় নিজের মতামত দিন)

লেখকঃ Tajwar Abrar Omar

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ