Home > সাহিত্য ও সংস্কৃতি > কি দেবো গল্পের নাম

কি দেবো গল্পের নাম

আম্মু,
তুমি কই গেলা ????
আমি তো মইরা যামু।
> কী হয়েছে কী,
এত্ত চিল্লাচিল্লি করছিস কেন। (আম্মু)
.
– আম্মু শেষ বারের মতো
তোমার পোলাডার মুখ দর্শন কইরা নাও
> এবার কিন্তু থাপ্পড় খাবি,
ফাজলামি ছেড়ে বল কি হইছে?(আম্মু)
.
– আমি না চকলেট মনে করে,
তোমার যেই ভাঙ্গা লিপস্টিক আছে,
ওইটা খেয়ে ফেলছি।
> কিই?
এত্ত চকলেট ক্যান তোর
খাওয়া লাগবে বলতো?
আর কত জ্বালাবি আমাকে?
.
তারপর মা
সায়মাকে কল দিলেন।
> হ্যালো সায়মা কই তুই?(আম্মু)
> এই তো আন্টি মেডিকেল থেকে মাত্র বাসায় আসলাম। (সায়মা)
> একটু তারাতারি
আয় না মা আমাদের
বাসায়
> কেন আন্টি কিই হইছে আবার?
> আর বলিস না
বাঁদরটা আজকে চকলেট মনে করে
আমার লিপস্টিক
খেয়ে ফেলছে।(আম্মু)
> কিই?
আজকে ওর একদিন কী
আমার একদিন,
নিজেতো শান্তিতে থাকতে পারে না,
কাউকে থাকতেও দিবে না,
আমি এক্ষুনি আসতেছি।(সায়মা)
– আম্মু আমি মনে হয়
মইরা যামু,
আমার মাথা ঘুরতেছে,
বমি বমি ভাব হইতেছে, আল্লাহরে!
আল্লাহ আমি এখন মইরা
যামু তো,
কিই হইব আমার।(আমি)
> ঐ থামবি তুই,
সায়মা তো আসতেছেই
– কিই??
তুমি ওই ডাইনিরে ক্যান আসতে বলছ?
ও আসলে তো আমারে
এমনিই মেরে ফেলবে।
আমার কিই হইলরে,
আর জীবনেও
চকলেট খামু না আমি।
.
> ক্যান খাবি না ক্যান?
আরো খা,
মানা করছে কে? (সায়মা)
– (ডাইনিটারে দেখে
আরো জোরে জোরে চিল্লানি দিলাম) আমি আর বাঁচমু নারে,
ও আল্লাহ
আমার এমন হইতেছে ক্যান?(আমি)
> ঐ চুপ কর হারামি,
লিপস্টিক খেলে
কেউ মরে হুমম?
বাঁদরামি করার জায়গা
পাস না?(সায়মা)
*
এইযে বন্ধুরা,
আপনারা কি ভাবছেন?
সত্যি সত্যি আমি লিপস্টিক খাইছি?
আরে না,
আমি বলি কি হয়েছিলো,
আসলে কাল থেকে
সায়মারে দেখি নাই।
তাই মানে আম্মু
সায়মারে যেন ডেকে আনে,
সেই জন্য এই প্লানটা করা,
.
ও হ্যা
আমাদের পরিচয় টা দিয়ে ফেলি,
আমি আপনাদের ফেসবুক ফ্রেন্ড ইমরান।
আর ঐটা হল,
আমার জানের জান সায়মা।
অনেক ভাল স্টুডেন্ট।
মেডিকেল এ পড়ে একদম ফাস্ট গার্ল, আমার যত সমস্যা
সব সেই ঠিক করে।
.
দুজনে সারাদিন ঝগড়া করি,
আমি ওরে সেই কবে থেকে ভালবাসি,
আমি জানি সেও ভালবাসে,
না হলে কোন মেয়ে আমার দিকে একটু তাকালে,
ওই মেয়েরে সেই বকা দেয়,
সায়মারও কোন ছেলে বন্ধু নেই,
সারাদিন পড়াশুনা আর আমাকে নিয়েই থাকে।
আমি তো জাতের একটা গর্ধব,
হিহিহি
.
যাহক পরে
> ঐ ফাজিল হা করে কী দেখছিস,
আর হ্যা তুই আবার ক্লাস টেষ্ট
পরিক্ষাই ফেল করছিস।(সায়মা)
– ঐ তুই কেমনে জানলি?(আমি)
> কিইই?
তার মানে সত্যি সত্যি
ফেল করছিস?
– ইয়ে মানে. . .
> দাঁড়া আন্টিরে বলতেছি
– প্লিজ প্লিজ আম্মুরে বলিস না,
আমারে সারাদিন পিটাবে
> হুম,
সেটাই তো চাই আমি,
দাঁড়া বলতেছি,
আন্টি আন্টি।(সায়মা)
> কিরে মা কি হয়েছে?(আম্মু)
> তোমার গুনধর ছেলের পড়ালেখার যে হাল,
এমন চলতে থাকলে, . .
আচ্ছা কিছু না
আমার এক্সাম শেষ হয়েছে,
ওরে আমার কাছে পড়তে
পাঠাই দিও।
> হুম রে মা
তুই একটু পড়ালেতো
ভালই হয়,
তাও যদি বাঁদরামিটা ওর
মাথা থেকে যায়।(আম্মু)
– আম্মু আমি ওর কাছে পড়ব না,
এমনি আমারে খালি মাইর দেয়।
> কি?
আর একবার বলতো শুনি?(আম্মু)
– না না কিছু না,
পড়ব তো।(আমি)
> হুম আজকে থেকেই পড়বি। (সায়মা)
– আল্লাহ!
আমার জীবনটা এবার গেল,
এমনিতো ও একটা বইপোকা,
আমারেও তাই বানাইব।
ধুর
জেনে শুনে খাল কেটে
কুমির আনলাম
.
> ওই কি ভাবছিস?
এবার যা বই নিয়ে আয়। (সায়মা)
– কি এখনই?
– হুম যা বলছি তাই কর,
না হলে কিন্তু মাইর খাবি।
– ধ্যাত ভাল লাগে না
.
তারপর বই নিয়ে আসলাম।
> চল এবার ছাদে যাই (সায়মা)
– ও*****কে
.
> দেখি বই,
এই গুলো না দেখে বল?(সায়মা)
– হেহেহে
কোনদিন পড়িইনি আবার না দেখে?(আমি)
> কিইইই….
আচ্ছা না পড়লে কেমনে হবে বল?
– আমার পড়া ভাল লাগে না তো
.
ওমনি আমার চুল ধরে টান দিল,
আমি কান্নার ভাব করতেই
সে বলল,
> ইস !
খুব জোরে লেগেছে তাই না?
সরি বাবু
.
সায়মার চোখও অশ্রুসিক্ত
– হিহিহি
> ঐ হাসছিস কেন?
– না মানে,
এই প্রথম দেখলাম
আমি ব্যথা পাওয়াতে তুই কাদছিস
> কি বললি কুত্তা,
আমি কাঁদতেছি?
– হিহিহি হুম তাই তো,
> Huh তাতে তোর কি?
– আচ্ছা তোর কোলে
মাথা দিয়ে পড়ি প্লিজ?
.
একটু ভেঁবে হ্যা বলল।
আমি ওর কোলে মাথা রেখে পড়তেছি,
আহা !
কি যে শান্তি ইস !
এমন হলে তো আমি
সারাজীবন পড়তাম,
আহা মাথায় হাত বুলাইও দিচ্ছে,
মনে হয় ঘুমাই পড়ব এক্ষুনি।
এমন সময় আম্মুর ডাক,
.
– সায়মা মা,
বাদরটাকে নিয়ে খেতে আয়
> হুম আন্টি আসছি
.
তারপর আমাকে বলল,
> ওই এবার উঠ।
– ধুর!
কেবল একটু পড়াই মন বসল,
এমন করলে পড়া হয় নাকি?
(আমি রেগে)
> এহ হয়েছে এবার চল
.
পরে খেতে চলে গেলাম,
আম্মু আমাদের খাবার দিয়ে চলে গেল।
> ঐ খা,
এমন ভাবে বসে আছিস ক্যান?(সায়মা)
– আমারে একটু
খাইয়ে দেনা প্লিজ।(আমি)
.
> অনেক সাহস হয়ে গেছে তাই না?
এবার কিন্ত মাইর খাবি
– ওকে ওকে
দিতে হবে না।(আমি)
.
এর মধ্যে
সায়মার মা আসল,
আমার আম্মু বলল,
> আরে ভাবি কি
হয়েছে? হঠাৎ এমন সময় যে?
> আর বইলেন না,
সায়মার সেই কোন
সম্পর্কের দাদু নাকি সায়মাকে দেখবে। গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন দিছিল,
আমরা তো যেতে পারব না,
অনেক কাজ,
আপনার ছেলে
ইমরান যদি সায়মার সাথে যেত…
> আরে কি যে বলেন না ভাবি,
ইমরান যাবে সমস্যা নেই।
.
ওদের কথা শুনে
আমি তে হাতে চাঁদ
পাওয়ার মতো অবস্থা,
সায়মার সাথে
এ কয়দিন থাকতে পারব আহা!
হঠাৎ
আমার সেই আশায়
গুড়ি বালি দিয়ে সায়মা বলল,
> কিন্তু মা আমি যাব না,
গ্রামে গেলেই সবাই কেমন করে!
এত বড় হয়ে গেছিস!
অনেক সুন্দরি হয়েছিস।
ধ্যাত এসব ভাল্লাগেনা,
আমি যাব না ব্যাস।(সায়মা)
– ঐ যাবি না মানে কি হু?
আন্টি আপনি
কোন চিন্তা কইরেন না,
আমি রাজি করাইতেছি,
কালকে সকালেই আমরা রওনা দিব।
(আমি)
.
তারপরে
অনেক কষ্টে সায়মারে বুঝাইলাম।
পরেরদিন সকালে রওনা
দিলাম,
গ্রামের উদ্দেশ্যে।
কিন্তু বাসের মধ্যে পাকাই ফেলছি ভেজাল,
আমিও বসব জানালার সাইটে,
সায়মাও বসবে জানালার সাইটে,
অত:পর
দুই জনকেই ত্যাগ
করে বাস চলে গেল,
.
রাস্তাই হাঁটতেছি দুইজন।
> আমি এজন্য
তোর সাথে যাইতে চাইছিলাম না,
এবার নে হাঁট।(সায়মা রেগে)
– আরে বাবা
আমি জানি নাকি বাস কন্টাক্টর এত্ত খারাপ হইব?(আমি)
.
তার অনেক পরে
আর একটা বাস ধরে
চলে গেলাম,
কিন্তু তখন অনেক সন্ধা হয়ে গেছে। এমনিতেই গ্রামের পথ,
একটু কাঁচা রাস্তা
আর একটু আগে আসলে
ভ্যান পাওয়া যেত।
.
– কিচ্ছু করার নাই
ম্যাডাম চলেন হাঁটা দেই।
.
তারপরে
দুইজন হাঁটতে লাগলাম।
বিলের মাঝ পথে এসেই শুরু হলো,
ঝি ঝি পোকার ডাক,
আর শিয়ালের হাক,
.
সায়মা ভয়ে একদম চুপসে গেছে,
আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে।
আমি বল্লাম,
– আমি শুনছি এই রকম
রাস্তা দিয়ে নাকি আগে ভূত যাইত।
ওমনি
আমাদের সামনে দিয়ে একটা কুকুর দৌড় দিল,
.
এবার সায়মা
আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে
ধরে ফুফাইতেছে।
মনে হয় এই কেঁদে দিবে
.
যাহক
তারপর চলে চলে আসলাম,
সায়মার চাচার
বাড়ি।
যেতে না যেতেই সবাই
সায়মাকে নিয়েই
পড়ে আছে,
.
তারপরে
আমরা সেদিন রাতে খেয়ে
শুয়ে পড়লাম,
আমি এক রুমে,
সায়মা এক রুমে,
সারারাত মশার কামড়ে ঘুম হয়নি,
সকালে সায়মার ডাকে ঘুম ভাংল।
– ঐ এমন মরার মতো ঘুমাইতেছিস ক্যান।(সায়মা)
– দুঃখের কথা
কি আর কইতাম!
সারা রাত মশার জ্বালায়
ঘুম হারাম হয়ে গেছে।(আমি)
.
তারপরে
সকালে খেয়ে ঘুরতে
গেলাম।
একটু দূরেই একটা নদী আর অনেক বড় ব্রিজ,
স্রোতও আছে অনেক।
পোলাপান লাফালাফি করছে,
আমি আগে থেকেই সাঁতার জানতাম।
না একটু মজা করি,
যদি ওর মুখ থেকে
ভালবাসার কথাটা শুনতে পাই।
.
– সায়মা
আমি না তোকে হেব্বি ভালবাসি, যদি ভালবাসি না বলিস,
তাহলে আমি
ঐ নদীতে ঝাপ
দিয়ে মইরা যামু।
> হুহহ
জানা আছে তোর সাহস,
বয়েই গেছে তোরে ভালবাসতে (সায়মা)
– সত্যি সত্যি ঝাপ দিমু কইলাম।
> হুম দে তো দেখি।
.
যেই কথা সেই কাজ,
এক দৌড়ে স্রোতের মধ্যে ঝাপ দিলাম।
হায় হায় !
কি বিপদেই না পড়লাম,
এমন জোরে স্রোত আসল,
মিনিটের মধ্যে
হারাই গেলাম।
.
আমি জানি সায়মা এখন
কান্না শুরু করে দিছে,
মন স্থির করলাম,
না বেশি সাঁতার কাঁটা যাবেনা,
যত দূরেই যাই,
দেহটাকে কন্ট্রোল করা লাগবে,
সায়মার জন্য হলেও বাঁচতে হবে।
.
অনেক দূরে চলে গেলাম,
তারপরে উঠতে
পারছি,
উঠার পরে
সায়মা চাচার বাসায় যেতে
সন্ধা লেগে গেল।
.
হায় হায় এত্ত মানুষ ক্যান!
সবাই বলা বলি করছে,
এই বাড়িতে
একটা ছেলে বেড়াতে এসে
ডুবে মারা গেছে,
অনেক চেষ্টা করেও
তার লাশ নাকি পাওয়া যায় নি,
আর একটা মেয়ে নাকি
পাগল এর মতো
আচরণ করছে।
.
আমি একজন কে বললাম
– ভাই কি হইছে?
– আরে মিঞা,
একটা পোলা নদীতে ঝাপ দিয়া মইরা গেছে।
হায় হায় জলজান্ত একটা
পোলা মইরা গেলো!
.
তখন আমি বল্লাম,
– আরে ভাই,
যেই পোলা মইরা গেছে
সেটাই আমি (চিৎকার করে বললাম)
.
ওমনি সবাই থেমে গেল,
হায় হায় !
আব্বু আম্মু আন্টি আংকেল সবাই আসছে।
.
আম্মু কেঁদে কেঁদে শেষ! এসেই একটা চর
> ঠাসসসসসসসস,
তার পরে আব্বু একটা,
.
আম্মু জড়াই ধরে কাঁদতেছে।
.
আর যার জন্য লাফ দিলাম
সে কই??
দেখি সায়মা অজ্ঞান হয়ে আছে, কাঁদতে কাঁদতে
এমন হয়ে গেছে।
.
সবাই তো কি বকা আমারে,
অমনি আমি মুখ ফসকে বলে দিলাম
– আরে তখন
ও আমাকে ভালবাসি
বললেই তো হত।
.
তারপরে
সায়মার কাছে গিয়ে বললাম,
– উঠরে পাগলি,
প্লিজ আর দুষ্টুমি করব না, এই কান ধরছি,
.
একটু পর
সায়মার জ্ঞান ফিরল,
সবার মাঝে ও আমাকে
জড়াই ধরে কাদতে কাদতে বলল
> অনেক ভালবাসিরে তোকে,
অনেক ভালবাসি,
– আমার বিশ্বাস হয়না।
আর যদি ভালবাসতি তাহলে আগেই বলে দিতিস।(আমি)
> সত্যি বলছি,
আমি তকে অন্নেক ভালবাসি রে(সায়মা)
– তাহলে প্রমাণ. .
.
কথা শেষ না করতেই
দেখি সায়মা সবার সামনে
আমাকে জড়িয়ে ধরে,
তার দুটি ঠোট আমার কপালে মিলিয়ে দিলো।
পরে সবাই ডিসিশন নিল,
এই পাগল পাগলি দুইটারেই বিয়ে দেওয়া লাগবে।
*
তারপর এই তো,
এখন পাগলির কাঁধে
মাথা দিয়ে বাসার দিকে আসতেছি,
.
হিহিহি ভাগ্যিস
ঝাপটা দিয়েছিলাম।
বউ প্লাস একটা
ডাক্তারও ফ্রি তে পেয়ে গেলাম।
হাহাহাহা
*
**সমাপ্ত**

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ