‘বরেন্দ্র চরিতকোষ’ : বইমেলার নতুন বই

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ এ আসছে ‘বরেন্দ্র চরিতকোষ’। ‘বরেন্দ্র চরিতকোষ’ গ্রন্থটির প্রণেতা বিশিষ্ট লেখক, পরিবেশ গবেষক ও সাংবাদিক সরদার আবদুর রহমান। ভিন্নধর্মী নতুন নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ইতোপূর্বে তাঁর রচিত ‘উড়িষ্যা-কামরূপ বিজয়ী বাঙালী বীর কালাপাহাড়’ নামক গ্রন্থটি হেরিটেজ রাজশাহী প্রকাশ করেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়- অসম, উড়িষ্যা, উত্তর ভারত এবং বিহারের ইতিহাস ও সাহিত্যে কালাপাহাড় একটি আলোচিত চরিত্র। বাংলার ইতিহাসে ক্ষণজন্মা এই বীরপুরুষ আমাদেরই বরেন্দ্রের মানুষ- এই তথ্যটি আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। আপোষহীন এই বাঙালি বীরের জীবন ও কর্ম নিয়ে সরদার আবদুর রহমান গ্রন্থটি রচনা করে সাহস এবং দক্ষতার সাক্ষর রেখেছেন।
‘বরেন্দ্র চরিতকোষ’ নামক নতুন এই গ্রন্থে উল্লিখিত মানুষেরা তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং বরেন্দ্র ভূমি তথা সমগ্র দেশকে আলোকিত করেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই দেশের গন্ডী পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে যশস্বী হয়েছেন। এই সকল মানুষদের যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় করে রাখার একমাত্র অবলম্বন হলো এই গ্রন্থখানি।
বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চল বেশ প্রাচীন ইতিহাসের ধারা বয়ে চলেছে। এখানকার ভূমি ও মানুষের নানান বিপাক ও প্রক্রিয়ায় আবর্তিত হওয়ার কথা আমরা ইতিহাসে জানতে পারি। আর এই বিপুল ঐতিহাসিক ধারাকে বুকে টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে এখানকারই আরেক দল মানুষ। এভাবেই ঘটে চলেছে ইতিহাসের পরম্পরা। তাই এর প্রধান কৃতিত্বই মানুষের।
এই যে কৃতি-কর্ম, তার ইতিবৃত্ত নানা স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ইতিহাস রচয়িতার কাজ সেসবকে একত্রিত ও পুনর্গঠিত করে উপস্থাপনের উপযোগী করা। তারই একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস এই ‘বরেন্দ্র চরিতকোষ’ রচনা। ইতিহাস ও তার কীর্তিগুলি যেহেতু মানুষকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়, সেহেতু সেই মানুষদেরকেই এই চরিতকোষের পাত্র-মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃতি মানুষদের পরিচয় সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব মানুষদের মধ্যে আছেন বিশিষ্ট রাজনীতিক, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, প্রত্মতত্ববিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ প্রমুখ। রাজশাহী অঞ্চলে জন্ম বা মৃত্যু কোনটিই ঘটেনি- এমন কিছু ব্যক্তিত্ব এতে স্থান পেয়েছেন। এর কারণ তাঁরা রাজশাহীর অঞ্চলের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সমাজে এমন অবদান রেখেছেন যে কারণে তাঁদের এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। এটি বস্তুনিষ্ঠ করতেও যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু মানুষের কৃতিত্বকে অতি সাধারণ বলে মনে হলেও কে জানে ইতিহাসের কোনো এক পর্যায়ে তিনি আলোচিত হয়ে উঠবেন। তখন এই গ্রন্থের তথ্য হয়তো অতি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্সের মর্যাদা পেয়ে যাবে। বলতে দ্বিধা নেই, এটি এধরণের পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ নয়- একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টামাত্র। ইতিহাস সর্বদা চলমান। তাই এর যাত্রাপথও অফুরান। ফলে কেবল সময়ের একটা সীমানাকে আটকে রেখে এধরণের গ্রন্থ রচনা করা ছাড়া গতি থাকে না। এটাও দাবী করা যায় যে, রাজশাহীতে এধরণের গ্রন্থ প্রকাশের প্রয়াস এই প্রথম। জাতীয় পর্যায়ে এবং অন্য জেলায় এধরণের কাজ হয়ে থাকলেও রাজশাহীতে তা এর আগে দৃষ্টিগোচর হয়নি।

%d bloggers like this: