Home > সারাদেশ > জাতীয় মঞ্চে মুন্ডা, হো, ওঁরাও

জাতীয় মঞ্চে মুন্ডা, হো, ওঁরাও

ঝাড়খণ্ডের চাইবাসায় আদিবাসী সংস্কতি উত্সব ‘আদিবাসী আদিবিম্ব’-র আয়োজন করেছে এনএসডি৷ সারা ভারতের আদিবাসী শিল্পীদের পাশাপাশি পারফর্ম করবেন মুন্ডা, হো এবং ওঁরাও সম্প্রদায়ের শিল্পীরাও৷ খোঁজ নিলেন ইন্দ্রনীল শুক্লা

রাজ্যের নামটার মধ্যেই একখণ্ড বিভাজন ইঙ্গিত রয়েছে৷ নিন্দুকেরা বলেন, ‘বিহারের ঝাড় হয়ে যাওয়া খণ্ড৷’ ঝাড়খণ্ড! আর এ রাজ্যের রাজধানীর নামটা করলে বাঙালি অন্তত খানিক মুচকি হাসবেই৷ ‘পাগলা গারদ কোথায় আছে নেই কি তোমার জানা!’ ষোলো বছর আগে বিহার ভাগ হয়ে তৈরি হয়েছিল এই রাজ্য, যার রাজধানী রাঁচি৷ রাজ্য তৈরিই হয়েছিল বহু বছরের আন্দোলনে৷ আর তৈরি হওয়ার পর গত দেড় দশকে নানান আলাদা আলাদা কারণে খবরে এসেছে ঝাড়খণ্ড৷ বার বার সরকারের পতন ঘটেছে৷ অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনে যেতে হয়েছে৷ রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে৷ মাওবাদী আন্দোলন ভয়াবহ রকমের মাথাচাড়া দিয়েছে৷ আবার ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বাবাদের ঘুম ছুটে গিয়েছে শিশু অপহরণের বর্ধিত হার লক্ষ্য করে৷ এইসবের আবর্তে পড়ে ঝাড়খণ্ডের আসল চার্ম বোধ করি হারিয়ে গিয়েছে অনেকের মন থেকেই৷ বাঙালির পছন্দের প্রিয় পশ্চিমের দেশ-এর বেশিরভাগটাই তো অধুনা ঝাড়খণ্ডে৷ চমত্কার এক মালভূমি৷ মাইলের পর মাইল টেবিলল্যান্ড, গর্ভে আকরিক নিয়ে ঘুমিয়ে আছে বছরের পর বছর৷ আছে দিগন্ত বিস্তত সবুজ বনভূমি৷ মনে হয় যেন কয়েক হাজার বছর আগে পৃথিবীটা এমনই ছিল৷ আর বনের ভিতরে আছে অসংখ্য ঝিরঝির স্বতোয়া ঝরনা৷ বাঘ আছেন৷ হাতি আছেন৷ পাখি-রা রয়েছেন৷ আর হ্যাঁ, অবশ্যই আছেন বনভূমির মানুষ৷ ধামসা মাদলের দ্রিমি ছন্দ, মহুয়ার গন্ধ সে অরণ্যেরই অঙ্গ৷ এখানে পৌঁছে গুপী-বাঘার মতোই বিস্ময়ে সুর বেরিয়ে আসে: ‘এ যে দৃশ্য, দেখি অন্য/ এ যে বন্য, এ অরণ্য/ হেথা দিনেতে অন্ধকার/ হেথা ঊর্ধ্বে উঠায়ে মাথা দিল ঘুম/ যত আদিম মহাদ্রুম!’ এই ভুলতে বসা ঝাড়খণ্ড চার্মকে উসকে দিয়েই সে রাজ্যের চাইবাসায় আদিবাসী সংস্কতি উত্সব ‘আদিবিম্ব’ আয়োজন করতে চলেছে দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয়)৷ অনুষ্ঠানের সূচনা ১৫ নভেম্বর৷ উত্সব চলবে ১৭ তারিখ পর্যন্ত৷ ১৫ নভেম্বর ঝাড়খণ্ডের স্থাপনা দিবস৷ আবার বীরসা মুণ্ডার জন্মদিনও বটে৷ তিনিই তো একমাত্র আদিবাসী নেতা, যাঁর ছবি টাঙানো আছে পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে৷ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আদিবাসী আন্দোলন সংগঠিত করে জেলে যিনি প্রাণ দিয়েছিলেন মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে৷ তিনদিনের এই উত্সবটি উত্সর্গ করা হয়েছে তাঁকে ও তাঁর প্রিয় আদিবাসীদেরই৷

এনএসডি-র চেয়ারম্যান রতন থিয়ামের থেকে জানা গেল উত্সবে অসমের খামতি সম্প্রদায়, ত্রিপুরার মগ সম্প্রদায়, মিজোরামের মিজো সম্প্রদায়, মণিপুরের কম ও থাঙ্কুল সম্প্রদায়, পশ্চিমবঙ্গের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা পারফর্ম করবেন৷ আসছেন ওড়িশা, বিহার, মধ্যপ্রদেশের আদিবাসীরাও৷ এ ছাড়াও বিশেষ আকর্ষণ ঝাড়খণ্ডের মুন্ডা, হো এবং ওঁরাও সম্প্রদায়ের শিল্পীরা৷ এতদিন তাঁদের গান-বাজনা-নাটক সংস্কতি সীমাবদ্ধ ছিল নিজেদের মধ্যেই৷ জঙ্গলে নিজেদের উত্সবে তাঁরা মেতে উঠেছেন বার বার৷ কিন্ত্ত এমন একটি জাতীয় মঞ্চে তাঁদের দেখা মেলেনি৷ সেদিক দিয়ে এ উত্সব এক বড় সুযোগ৷ এছাড়াও ঝাড়খন্ডের আদিবাসীদের নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ হবে উষা মিশ্র-র পরিচালনায়৷ সুবোধ পট্টনায়েকের ওড়িয়া থিয়েটার গ্রুপ নাট্যচেতনা পরিবেশন করবে ‘নিয়ান’ নাটকটি৷ অসমের হাজং নাট্যগোষ্ঠী অভিনয় করবে ‘সংঘাত’ নাটকটি৷ পরিচালনায় প্রবীণ হাজং৷

কেন ঝাড়খণ্ডকে এ বারের উত্সবস্থল করা হল? প্রশ্নের উত্তরে রতন থিয়াম বললেন, ‘ভারতের সংস্কতির একটা বড় অংশকে ধরে রেখেছেন তো আদিবাসীরাই৷ তাঁদের বাদ দিয়ে ভারতীয় কালচারকে বোঝানো তো সম্ভব নয়৷ আর ঝাড়খণ্ড রাজ্যটা তো আদিবাসীদেরই জায়গা৷ নিজেদের সংস্কতি বাঁচিয়ে রাখার তাগিদেই তাঁদের গান-নাচ-নাটক প্রমোট করা দরকার৷’

রাজ্যে আদিবাসীরা কি অবহেলিত বলে তিনি মনে করেন? রতন বলেন, ‘এটা একটা ইয়াং স্টেট৷ কয়েক বছর হল তৈরি হয়েছে৷ রাজ্যের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে গভর্নমেন্ট ইজ ট্রায়িং হার্ড৷ আমি দেখেছি৷ একটু সময় তো লাগবেই৷ কিন্ত্ত আমার যেটা মনে হয়েছে যে রাজ্যের আর্ট অ্যান্ড কালচার প্রিজার্ভ করার উপর আরেকটু জোর দেওয়া দরকার৷’

সে ব্যাপারটা কেমন? রতন বুঝিয়ে বলেন, ‘এ রাজ্যের শিল্প-সংস্কতি খুব উচ্চ মানের৷ নারচার করলে এর একটা ব্রাইট ফিউচার আছে৷ সেটা বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারি উদ্যোগ তো লাগবেই৷ আমরা এনএসডি-র তরফ থেকে একটা চেষ্টা করছি৷ আমি কিছুদিন আগে এখানকার একটা আর্ট একজিবিশন দেখলাম৷ ট্রাইবাল লাইফ-স্টাইল, ইনস্পিরেশন এর উপর ভিত্তি করে আসাধারণ কাজ! এসব তো দেশের মানুষের দেখা দরকার৷ আমরা সবসময়ে একটা এক্সপেকটেশন নিয়ে থাকি যে ওরা আমাদের কাছে আসবে৷ এই অ্যাপ্রোচটা বদলাতে চাইছি৷ বরং আমরাই আদিবাসীদের কাছে যাবো৷ তাদের চেনা জানা পরিবেশের মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে বসে কাজ দেখবো৷ আদিবাসী শিল্প-সংস্কতিকে অন্তরে উপলব্ধি করব৷ এটাও তো হতে

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ