Home > সারাদেশ > তানোরে গ্রেফতার বাণিজ্যে বেপরোয়া ওসি

তানোরে গ্রেফতার বাণিজ্যে বেপরোয়া ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতারবাণী999999 :
রাজশাহীর তানোর থানার ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বিভাগীয় তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত ছাড়াও পুলিশের আইজিপি ও ডিআইজি বরাবর গেলো সপ্তায় অভিযোগ করেছেন। এছাড়া আনসার ভিডিপির জেলা কমান্ডার আশরাফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।
অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার যশপুর গ্রামের কফিল উদ্দিনকে চলতি বছরের ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এরপর থানার ওসি তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। টাকা না দেবার কারণে তার বিরুদ্ধে গাঁজা বিক্রি ও সেবনের মামলা দেয়া হয়।
কফিল উদ্দিন জানান, তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। গাঁজা বিক্রি তো দূরের কথা তিনি বিড়ি কিংবা সিগারেট সেবনে অভ্যাস্ত নন। কিন্তু থানার ওসি তার প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। বিষয়টি বিভাগীয় তদন্তের জন্য ওসির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
শুধু কফিল উদ্দিন নয় তার মত ওসির বেড়াকলে পড়েন তানোর পৌর এলাকার সিন্দুকাই গ্রামের বাসিন্দা আনসার ভিডিপির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন। তাকে গত ১৯ জুন বিকেলে থানার সামনে থেকে আটক করা হয়। এরপর মাদক স্পট থেকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা মাসুয়ারা চান ওসি। এতে রাজি না হলে পরের দিন (২০ জুন) তার বিরুদ্ধে হিরোইন ব্যবসায়ীর মামলা দেয়া হয়।
এনিয়ে কমান্ডার সেকেন্দার আলী জানান, রিয়াজকে গ্রেফতারের দিন তিনি অফিসিয়াল কাজে নাটোরে ছিলেন। তাকে ছাড়াতে মোবাইলে তদবির করেন তিনি। এতে ওসি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকেও ওই মামলায় জড়িয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু পুলিশের তথ্যমতে জানা যায়, ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার কলমা ইউপির বিল্লিবাজারে অভিযান চালিয়ে ৮ লিটার চোলায়মদসহ ইসমাইলের পুত্র ইমাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে থানার এএসআই হাফিজুর রহমান। পরে তাকে ছেড়ে দেবার নামে ৩৫ হাজার টাকা নেন ওসি। কিন্তু তাকে ছেড়ে দেয়া হয় নি। ইমাজ উদ্দিনের নিজ নাম ও পিতার নাম ঠিক রেখে ঠিকানা পরির্বতন করা হয়। ঠিকানায় তানোর পৌর এলাকার হঠাৎপাড়া গ্রামের নাম ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার পরিবর্তে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেয়া হয়। যার নম্বর-২৭/১৬।
পুলিশের তথ্যে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের রুহুল আমিন ও তানোর পৌর এলাকার মাসিন্দা গ্রামের লিটনকে ৩ বোতল ফেন্সিডিলসহ কালিগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থানার দালাল নামে পরিচিত স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা তাদের ছাড়াতে তদবির শুরু করে। পরে লিটনের স্ত্রীর কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর ওসিকে কিছু পরিমান টাকার ভাগ দেন যুবলীগ নেতা। পরে ওসি জানতে পারেন বেশি টাকা নিয়ে তাকে কম টাকা দেয়া হয়েছে। একারণে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে লিটনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করেন। মামলা নম্বর- ২১১/১৬। কিন্তু রুহুল আমিনের পরিবারের কাছে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেবার পর তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার পরিবর্তে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেয়া হয়।
এছাড়া জুলাই মাসের ১ তারিখে জেলার বাগমারা উপজেলার মোহনপুর গ্রামের জেহের আলীকে চুরাই ছাগলের খাসিসহ তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় নামক স্থান থেকে আটক করা হয়। এরপর থানার ওসি গোপনে তার পরিবারের কাছে যোগাযোগ করে। পরে তাকে ছেড়ে নেবার নামে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে ওসি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার পরিবর্তে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেয়া হয়। যার নম্বর ১৯/১৬।
অপরদিকে, গত প্রায় দেড় মাস আগে থানা মোড়ের ইসলামী হোটেলের সামনে চুরাই মোটরসাইকেলসহ কাশিম বাজার এলাকার শওকত নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে ওসির টেবিলে এক কৃষক লীগ নেতার তদবিরে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। শুধু এসব ঘটনা নয়। থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার বাণিজ্যের বেপোয়ারা আলামত রয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ, এসব অনিয়মে কোন পুলিশ অফিসার ও সদস্য রাজি না হলে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এছাড়া চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা জানান, থানা পুলিশ একদিকে কথিত অভিযোগে অথবা অনুমান নির্ভর সন্দেহের বসবতি হয়ে যে কাউকে ধরছেন আবার তার নিয়োগকৃত দালালদের তদবিরসহ নানা অজুহাতে গ্রেফতারকৃতদের ছেড়েও দিচ্ছেন। ওসির এই ধরা-ছাড়ার মাঝে পড়ে ভুক্তভোগীদের পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বড় অংকের অর্থ। এতে করে ওসি লাভবান হলেও হয়রানি ও চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগী নিরীহ জনসাধারণ।
এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির্জা আব্দুস সালাম জানান, রাজনৈতিক চাপে অনেক কিছুই করতে হয়। আপনাকেও গ্রেফতারের জন্য রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। এখন সময় খারাপ বেশি লেখাখেলি না করায় ভাল। এসংক্রান্ত ব্যাপারে পত্রিকায় খবর পাওয়া গেলে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুমকি দেন ওসি।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ