Home > সারাদেশ > ফারাক্কা খুলে দেওয়ায় রাজশাহীসহ কয়েকটি জেলায় ব্যাপক বন্যা

ফারাক্কা খুলে দেওয়ায় রাজশাহীসহ কয়েকটি জেলায় ব্যাপক বন্যা

নিউজ ডেস্ক
জনতার বাণী,
ঢাকা: ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রায় সব গেট খুলে দেয়ার কারণে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলায় নতুন করে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে।
প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এসব জেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের মানুষ হঠাৎ বন্যার কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টের পানি ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভেড়ামারা শহর রক্ষা বাঁধও হুমকির মুখে। তবে দু-এক দিনের মধ্যে পদ্মার পানিপ্রবাহ খানিকটা স্থির হবে বলে মনে করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।
রাজশাহী থেকে জানা যায়, ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ার কারণে রাজশাহীতে পদ্মার পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে বন্যা। রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ নিয়েও মানুষের মাঝে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
এরই মধ্যে জেলার পবা উপজেলার মাঝচর, চর খানপুর, খিদিরপুর, বাঘার গড়গড়ী ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের ১৫টি চরসহ নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। বিশেষ করে পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর পশ্চিমাঞ্চলের দিকে শহর রক্ষা বাঁধ পড়েছে নতুন করে হুমকির মুখে। বাঁধ রক্ষায় আবার বালুভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। নগরীর পূর্বাঞ্চলের কাজলা ও তালাইমারী এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলোর বেশ কিছু বাড়িঘর এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রাজশাহী অফিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, শনিবার বেলা ৩টায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ০.১১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ সময় পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৮.০৩৯ মিটার।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ০.১৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই সময় পানির উচ্চতা ছিল ১৮.৩১ মিটার।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ০.২৮ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই সময় পানির উচ্চতা ছিল ১৮.২২ মিটার।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপদসীমার ০.৪০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই সময় পদ্মায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ১৮.১০ মিটার ওপর দিয়ে। রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা হচ্ছে ১৮.৫০ মিটার।
এদিকে পাউবোর রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, যে হারে পানি বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে সোমবার পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও বাঁধের উচ্চতা বেশি থাকায় খুব বেশি ভয়ের কারণ নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ফারাক্কা থেকে ধেয়ে আসা পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ। এরই মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। আরো ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মায় পানির উচ্চতা ছুঁয়েছে ২১.৩৮ মিটার। সাপের কামড়ে ও বন্যার পানিতে ডুবে জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ফারাক্কা গেট থেকে ধেয়ে আসা পানির গতি কিছুটা কমলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পাকা পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার পদ্মা বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তবে আগামী দু-এক দিনে পদ্মার পানিপ্রবাহ খানিকটা স্থির হবে বলে মনে করছেন তারা। কারণ ভারতের পাটনা অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হ্রাস পেয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে গঙ্গা পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
উজানের পানিপ্রবাহ হ্রাস পেলে ভারত নিজ স্বার্থেই অতিরিক্ত খুলে দেয়া গেট বন্ধ করে ফেলবে জানিয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, ভারত এরই মধ্যে ৫০টি গেট বন্ধ করে দিয়েছে। এতে পানির বৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়ে এসেছে। কিন্তু গত পাঁচ দিনেই জেলায় হঠাৎ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দ্রুত পানি বৃদ্ধির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার অন্তত ১১টি ইউনিয়ন হঠাৎ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু রাস্তায় বা শহরে কোনো স্বজনের বাড়িতে।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর, বাখের আলী, বাগডাঙ্গা, আলাতুলী, সুন্দরপুর, শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, দুর্লভপুর, পাকা, উজিরপুর ও ছত্রাজিতপুর ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজিব রাজু জানান, দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার ইউনিয়নের গাইপাড়া, মনোহরপুর, ঘুঘুডাঙ্গা, ডাকাতপাড়া, হাসানপুর, খাগচাপাড়া, সোনাপুর, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নামোজগনাথপুর, দোভাগী, আইয়ুব বিশ্বাসের গাঁসহ প্রায় ১০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ তিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্লভপুর ইউনিয়নের আইয়ুব বিশ্বাসের গ্রামের সাদিকুল ইসলাম জানান, পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে বাধ্য হয়েই রাস্তার ওপরে পরিবার নিয়ে দাঁড়িয়েছি।
পাকা ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। নিশিপাড়া, বিশ্বাসপাড়া, হলদিবনা, দশরশিয়া, বিশরশিয়া, লক্ষ্মীপুর, চরলক্ষ্মীপুর, ভাটাপাড়া, ডাইড়াপাড়াসহ প্রায় ২০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। অন্তত ২০ হাজার মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করছে।
উঁচু স্থান না পাওয়ায় অনেকেই বাঁশের মাচা তৈরি করে পানির ওপরেই থাকছেন। মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি, হঠাৎপাড়া, তারাপুর, ঠুঠাপাড়া, মুন্সীপাড়া, সিংনগর, চরসিংনগর, ভবানীপুর, শ্যামপুর, চরহাঙ্গামীসহ ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আলাতুলী ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান কামাল জানান, তার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের অবস্থা শোচনীয়। রানীনগর, ব্যারাপাড়া, কামারপাড়া, বালিগাঁ টিকরিপাড়া, ছয়রশিয়া, বৃহৎমধ্যচর প্রভৃতি গ্রামের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী। আকস্মিক বন্যায় এরা সহায় সম্পদ হারিয়েছেন। বেশির ভাগ মানুষ পাশের গোদাগাড়ী উপজেলায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
শাজাহানপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম জানান, তার এলাকার হাকিমপুর, দুর্লভপুর, সেফালিপুর, হরিশপুর, রাবনপাড়া, বিলকান্দি প্রভৃতি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাস্তাঘাট শেষ হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশু ও সাপের কামড়ে একজন মারা গেছে।
সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের জয়ন্দিপুর কাঞ্চিপাড়া গ্রামের আবদুস সামাদ ছবির ছেলে মেহেদী হাসান (৭) শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে ডুবে যায়। একই ইউনিয়নের কালিনগর দড়পাড়া গ্রামের মিছু (৬০) বৃহস্পতিবার সাপের কামড়ে মারা যান।
অন্য দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার চর হাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সানাউল্লাহ বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে মারা যায়। সানাউল্লাহ দুর্লভপুর ইউনিয়নের নামোজগন্নাথপুরের সৈয়দ মণ্ডলের গ্রামের মাহিবুর রহমান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরতি মহিলা সদস্য সায়েমা বেগমের ছেলে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, ফারাক্কা খুলে দেয়ায় কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে পানি বিপদসীমা থেকে মাত্র ৬ সেন্টিমিটার দূরে রয়েছে। শনিবার রাতের মধ্যেই নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আরো চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে গড়াই নদীর পানি বেড়ে কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলার বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। অনেক পরিবারকে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রাম ছাড়তে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফারাক্কার সব গেট খুলে দেয়ায় প্লাবিত হয়েছে জেলার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রাম। এছাড়া পাশের ভেড়ামারা উপজেলার দুটি গ্রামও প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় দুই চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩০টি শিাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ফসল। পানিবন্দী রয়েছেন প্রায় ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।
বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু এবং রোগীরা চরম বিপদে আছেন। এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ রাতের বেলা সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে ঠিক মতো ঘুমাতেও পারছেন না। গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছে বানভাসী মানুষ। বিশেষ করে কোরবানির পশু নিয়ে কৃষকেরা পড়েছেন চরম বিপদে। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব শাখা নদীতেও অব্যাহতভাবে পানি বাড়ছে। ফলে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেছেন স্থানীয়রা।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমুল হক জানান, বর্তমানে পদ্মা নদীতে প্রতি ঘণ্টায় এক সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। শনিবার রাতের মধ্যেই পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
তিনি জানান, পানি বাড়ায় শহর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুর রহমান জানান, তাৎক্ষণিক দুই ইউনিয়নে ১৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুজিব উল ফেরদৌস জানান, পানি বাড়ার পর কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তার হিসাব করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ত্রাণের চাল পাঠানো হয়েছে। পানি নামার পর কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত গৃহ নির্মাণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে পদ্মার পানি বেড়ে হুমকির মুখে পড়েছে ভেড়ামারা শহর রক্ষা বাঁধ। রায়টা বাঁধ ও মসলেমপুর বাঁধে পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা দেখে দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহরের দিকে পানি চলে আসতে পারে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।
শনিবার দুপুরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সকালের দিকে তা স্থিতি অবস্থায় থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানি বেড়েছে। এ সময় পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.১৫ মিটার। তিন ঘণ্টায় পানি বেড়েছে তিন সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার মাত্র ১০ সেন্টিমিটার নিচে। সকালে লালন শাহ ব্রিজে পানি মাপার স্কেলটি দেখা গেছে ডুবু ডুবু অবস্থায়।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তিমণি চাকমা জানিয়েছেন, ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেয়ায় এবং উজানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় পদ্মায় পানি বেড়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পদ্মার পানি প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিন ঘণ্টা অন্তর অন্তর পানিপ্রবাহ পর্যবেণ করার জন্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কন্ট্রোল রুম খুলেছে। কন্ট্রোল রুমের প্রধান সমন্বয়কারী ও কুষ্টিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমুল হক জানিয়েছেন, সর্বশেষ তিন ঘণ্টায় পানি বেড়েছে তিন সেন্টিমিটার। বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ