Home > সারাদেশ > নওগাঁয় অর্ধশত ভবন পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হলেও ঝুঁকি নিয়েই চলছে বসবাস ও ব্যবসা বাণিজ্য

নওগাঁয় অর্ধশত ভবন পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হলেও ঝুঁকি নিয়েই চলছে বসবাস ও ব্যবসা বাণিজ্য

রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর নওগাঁ পৌরসভার প্রায় অর্ধশত ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর তিন বছর পার হলেও সেগুলো ভাঙা বা বন্ধের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অনেক পরিবার বসবাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছেন।গংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যেভাবে ভূমিকম্প হচ্ছে তা বেশি মাত্রায় হলে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গুরুদাস দত্ত জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন ও মার্কেটগুলোর তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর সুপারিশ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে ভবনগুলো ভেঙে ফেলা ও অপসারণের জন্য মার্কেট ও ভবনের মালিকদের নোটিশও দেয়া হয়। তবে কেন ভবনগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি তা তার জানা নেই। ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরাতন প্রায় ৩০টি, বড় মার্কেট ৩টি এবং মোবাইল টাওয়ার স্থাপনজনিত ২৫টি। পুরাতন ভবনগুলো হলো-নওগাঁ পৌরসভার মালিকানাধীন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, জেলা সমবায় অফিসারের কার্যালয়, চকএনায়েত মহল্লার প্রি-ক্যাডেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ডাবপট্টির বদীর বিল্ডিং, পুরাতন হাসপাতাল সড়কের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, চুড়িপট্টির ভবানী ভান্ডার, হাট নওগাঁর বিধি বাবুর বিল্ডিং, ব্রিজের মোড়ের মহেশ সাহার ভবন, ব্রিজের মোড় সুলতান মাহমুদের ভবন, ডাবপট্টির দুলাল রায়ের পুরাতন ভবন, পুরাতন কাঠহাটি রোডের আহসান মঞ্জিল।এছাড়া লাইব্রেরি পট্টির কিশোর লাইব্রেরি ভবন, পুরাতন হাসপাতাল রোডের সাবেক রূপালী ব্যাংক ভবন, বজরং আগরওয়ালা ভবন, হোয়াইট হাউজ, পুরাতন সিদ্দিক প্রেস নাসিম ভবন, তরকারি বাজারের মুক্তিযোদ্ধা পৌর মার্কেট, হাট-নওগাঁর মাল্টিপারপাস সোসাইটি ভবন, সোনালী ব্যাংক রোডের সাবেক সেঞ্চুরী টেইলার্স ভবন, সুলতানপুরের স্যান্যাল বাড়ি মাদরাসা ছাত্রাবাস, ট্রাক বন্দোবস্তকারী অফিসের সামনের ওয়াদুদ ভবন, পার নওগাঁর ময়েজ বিল্ডিং এবং পার নওগাঁ সান্তাহার রোডের হোটেল ফারিয়াল।এছাড়া মোবাইল টাওয়ার স্থাপন জনিত কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে- চকমুক্তারের ডা. রওনক জাহানের ভবন, কাজীর মোড়ের সাহারা প্লাজা, সরিষাহাটি মোড়ের আলহাজ কমপ্লেক্স, বাঙ্গাবাড়ীয়া ধানসিঁড়ি মেসের কাছে মাহতাব ভবন, বাঙ্গাবাড়ীয়া হাসপাতাল রোডে খাদেমুলের ভবন, কাজীর মোড়ে প্রাক্তন শিক্ষক আজাহার আলীর ভবন, দফতরিপাড়ার আজিজুল ইসলামের ভবন, বলিহার হাউজ সংলগ্ন ক্রাফট ওয়ার্ল্ড, বাঙ্গাগাবাড়ীয়া সুইচ গেট সংলগ্ন এ্যাড. আব্দুল গফুরের ভবন।এছাড়া কোমাইগাড়ীর ডা. মঈনুদ্দিনের চক্ষু ভবন, বালুডাংগা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মিঠু ব্যুরো টাংগাইল, পোস্ট অফিস পাড়ার আব্দুল খালেক, কাপড়পট্টির মক্কা মার্কেট, কালিতলার নিশিত কুমার বসাক, হাট নওগাঁ মৃধাপাড়া রোডের সেকেন্দার সাইকেল স্টোর, হাট নওগাঁর হাজী টাওয়ার, আনন্দ নগর রোডের হাবিবের ৫তলা ভবন, পার-নওগাঁর হোটেল অবকাশ, আলুপট্টির বেলাল কমপ্লেক্স, চকরামপুর ট্রাক টার্মিনালের জোয়ার্দার মার্কেট, বিজিবি রোড পার-নওগাঁ ময়েজ বিল্ডিং এবং চকরামপুর নওগাঁর দাবি এনজিও সংস্থা।বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মহসিন রেজা জানান, নওগাঁ শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে লোকজন বসবাস করে এবং ভবনগুলোর নিচ তলায় রয়েছে মার্কেট। ঘোষিত পরিত্যক্ত ভবনগুলো শহরের প্রাণকেন্দ্র বাজার এলাকায় ও জনবহুল ব্যস্ততম সড়কের পাশে হওয়ায় একেকটা ‘মরণ ফাঁদ’ এ পরিণত হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যখন তখন ভূমিকম্প হচ্ছে। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে যে কোনো মুহূর্তে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই ঘোষিত পরিত্যক্ত ভবনগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।নওগাঁ পৌরসভার মেয়র আলহাজ নজমুল হক সনি জানান, নোটিশ পাওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন অপসারণ বা ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ইতোমধ্যে কয়েকটি ভবনের মালিক নিজ উদ্যোগে তাদের ভবন ভেঙে ফেলেছেন।এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, সাধারণ মানেষের জানমাল রক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ