Home > সারাদেশ > আমের টুকরি ব্যবহার না হওয়ায় কারিগরা বাদ দিচ্ছে টুকরি তৈরী।

আমের টুকরি ব্যবহার না হওয়ায় কারিগরা বাদ দিচ্ছে টুকরি তৈরী।

Bagha Tukryআব্দুল কাদের নাহিদ বাঘা: আম বাজার জারতকরনের একধনের ঝুড়ির স্থানীয় নাম (টুকরি)-আমের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী জেলার অন্যতম বাঘা উপজেলা,পদ্মার তীরবর্তী এই উপজেলার আম আগের যুগে রাজধানী ঢাকা সহ দেশে বিভিন্ন জেলায় নদী পথে নৌকাতে আম পাঠানো হত। তখন থেকে আম বাজার জাতকরনের প্যাকিং হিসেবে ব্যবহার করা হত বাঁশের তৈরী টুকরি। তার পর সড়ক পথে ট্রাকে আম পাঠানো হত তখনোও ব্যবহার হত টুকরি। গত কয়েক বছর আগে ২০১২ সাল থেকে আমের প্যাকেটজাত করতে মানুষ হুমরি খেয়ে পরে প্লাষ্টিকের তৈরী কেরেটের উপর আর টুকরির ব্যবহার লাটে উঠে। বাঘার গাওপাড়া ও মশিদপুরের একটি জনগোষ্টি কুঠির শিল্পের সাথে জড়িত তারা বছরে একবার আমের মৌসুমে ৪ মাস কাজ করে বাঁশ দিয়ে টুকরি তৈরীর। ভাল উর্পাজন করতো কিন্তু কেরেটের প্রচলোন বেড়ে যাওয়ায় আমের ব্যপারী ছেরে দিয়েছে  টুকরির ব্যবহার লোকসানের মুখে এই কাজ বাদ দিয়েছে বেশির ভাগ কারিগর।

উপজেলার দক্ষিন গাওপাড়া গ্রামের টুকরি তৈরীরর কারিগর আজমল হক ছোট বেলা থেকে তিনি এই কাজের সাথে জড়িত তিনি ৬০ বছর যাবৎ এই পেশায় জড়িত তিনি জানান একজন কারিগর দিনে ১০০ থেকে ১২০ টিরও বেশি টুকরি তেরী করতে পারেন প্রতিটি টুকরি চাহিদা অনুযায়ী ২০ থেকে ২৫/৩০ দাম বাড়লে ৪০ টাকা দামে বিক্রি হত তাতে বছরে ভাল অর্থ উর্পাজিত করা যেত কিন্তু বর্তমানে টুকরি বিক্রি করে লাভ করা খুব কঠিন।তিনি আরোও জানান আমাদের ব্যবসা শেষ করে দিয়েছে কেরেট। তার মতে এলাকায় আগে ৩৫০ থেকে ৪০০ টি বাড়ির সদস্যরা টুকরি তৈরির কাজ করতো বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ বাড়ির সদস্যরা টুকরি তৈারীর কাজ করে।

গ্রামে আরেক কারিগর রওশন আরা বলেন আমের জন্য এখন আর কেউ টুকরি কিনতে আসে না কিছু টুকরির ব্যাপারী কিনতে আসে কিন্তু ভাল দাম দেয়না যে টুকরি আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হত বর্তমানে একই টুকরির দাম পায় ১৮ থেকে ২০ টাকা। আরেক ব্যপারী মশিদপুর গ্রামে শহিদুল ইসলাম তিনি যানান আগে টুকরি বিক্রি করে ভাল টাকার উর্পাজন করেছি কিন্তু এখন পেট চলে না কোন রকম  বেঁচে থাকার মত আমার গত বছরের ৫০ টি টুকরি বিক্রি না হওয়ায় ঘরে রাখা হয়েছিল সেগুলো পুরাতন হিসেবে এ বছর বিক্রি হয়েছে সবগুলো মাত্র ১৫০ টাকায়। নাটোরের লালপুর থেকে টুকরি কিনতে এসেছে ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম তিনি বলেন এলকায় আমের জন্য টুকরি ব্যবহার না হওয়ায় বর্তমান টুকরির বিক্রি করি পাবনার দাশুড়িয়া ও দিনাজপুরের কিছু ব্যপারির কাছে যা লিচু বাজার জাতকরনে ব্যবহার করা হয়।

উপজেলার এক সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মিঞা তিনি জানান টুকরি মুলত আমের জন্য বেশি জনপ্রিয় ছিল বর্তমানে আমে ব্যবহার না হওয়ার কারনে এই কুঠির শিল্পটা লোকসানের মুখে রয়েছে। আম ও টুকরির ব্যপারে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোসাঃ সাবিনা বেগম জানান বর্তমান বিশ্বের সাথে তুলনা করলে কেরেট এর ব্যবহার বেশি ও পরিবহনের জন্য টেকশই যা আম বিদেশে রপ্তানির কাজেও কেরেট ব্যবহার হয় যার করনে আমের জন্য টুকরির ব্যবহর হচ্ছেনা ।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ