Home > সারাদেশ > উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বেহালদশা

উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বেহালদশা

নিউজডেক্স, জনতারবাণী: উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে গতি নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অস্থিরতা না থাকলেও দেশে এডিপি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বেহালদশা বিরাজ করছে। গত তিন অর্থবছর ধরেই প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ক্রমেই নিন্মমুখী। সরকারি হিসাবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাস্তবায়ন হার মাত্র ৭ শতাংশ। যেখানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে একই সময়ে এই হার ছিল ১০ শতাংশ। আর গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গড় অগ্রগতি মাত্র ৪ শতাংশ।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূলায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের উন্নতি আনতে পারছে না পরিকল্পনা কমিশন। এমনকি প্রতি বছর এডিপির প্রকল্প মূল্যায়ন করে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমইডি) বিভাগ থেকে যেসব সুপারিশ করা হয় তাও পরিপালন করছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। ফলে সমস্যা একই অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। সমস্যা উত্তরণে মন্ত্রণালয়গুলো থেকে কোনো ধরনের জোরাল পদক্ষেপ নেয়া হয় না। পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডি থেকেই সুপারিশ করা হচ্ছে প্রতি বছর। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। আবার দেখা যায়, প্রকল্প অনুমোদনের পর তা সঠিক গতিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না সে ব্যাপারেও মন্ত্রণালয়গুলো থেকে মনিটরিং করা হয় না।
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের হার হলো মাত্র ৭ শতাংশ। যেখানে ২০১৪-১৫ বা গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৯ শতাংশ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই হার ছিল ১০ শতাংশ। ফলে তিন বছরে গতি কমেছে ৩ শতাংশ। চলতি বছরে অর্থ ব্যয়ের হারও কম। আর এ ক্ষেত্রে প্রকল্প সহায়তার অর্থ ব্যবহার সবচেয়ে কম হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যেখানে প্রকল্প সাহায্যের অর্থ ব্যয় হয়েছিল ৮ শতাংশ, সেটা কমে এখন ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জিওবির অর্থ ব্যবহারও ১২ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলে তিন মাসে ব্যয় করেছে ছয় হাজার ৫০১ কোটি ৯৭ লাখ ১৯ হাজার টাকা। যার মধ্যে প্রকল্প সাহায্যের অর্থ মাত্র এক হাজার ৬০১ কোটি টাকা। অথচ এই অর্থবছরে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা মাত্র ৬০টি। যেখানে গত অর্থবছর ছিল ২১৫টি এবং ২০১৩-১৪তে ছিল ২৪৫টি। পুরনো প্রকল্প হওয়ার পরও তার বাস্তবায়ন হার কম।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়গুলোর বাস্তবায়ন অবস্থারও দৈন্যদশা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিভাগ মাত্র ৩ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৪ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৪ শতাংশ, সেতু বিভাগ ৪ শতাংশ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় মাত্র ৩ শতাংশ। ১ থেকে ২ শতাংশ বাস্তবায়ন হার হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের। তিন মাসে সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন ৩৭ শতাংশ হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। যার বরাদ্দই হলো দুই প্রকল্পে ৫২৬ কোটি টাকা। কোনো ধরনের অগ্রগতি নেই এমন মন্ত্রণালয় হলোÑ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। থোক বরাদ্দসহ ১১ শতাংশ বাস্তবায়ন হার হলো স্থানীয় সরকার বিভাগের। যার প্রকল্প সংখ্যা ১৫৮টি।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি বলেন, অর্থবছর বর্ষা সময়ে শুরু হওয়ায় প্রথম তিন মাস উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয়। তাই শেষ দিকে চাপ পড়ে। এ চাপের ফলে কাজের মানও কিছুটা তি হয়। তবে মিডিয়া এটাকে বেশি করে ফলাও করে। তিনি বলেন, যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি ১ থেকে ৬ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, কয়েক বছর ধরে এডিপিতে নতুন প্রকল্পের চেয়ে পুরনো প্রকল্পের সংখ্যাই বেশি থাকে। ফলে নতুন প্রকল্প শুরু করতে যে ধরনের সময় লাগে পুরনো বা চলমান প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা হওয়ার কথা না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কাজ না আগানোর বিষয়টি তাদের কাছে পরিষ্কার না। প্রকল্প দীর্ঘায়িত করার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাদের মতে, এই প্রবণতা নতুন নয় পুরনো। প্রকল্প শেষ বা বাস্তবায়ন বেশি দেখাতে শেষ প্রান্তিকে এসে চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফলে মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায় এবং জোর করে প্রকল্প শেষ করার ফল নেতিবাচক হয়। এতে করে বেসরকারি খাতও উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। তারা বলেন, আমাদের এখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন বলতে টাকা ছাড়করণকে বোঝানো হয়। বাস্তবতা হলো টাকা ছাড়করণ নয়, প্রকল্পের মান ঠিক রেখে যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করাটাই হলো বাস্তবায়ন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী
শিরোনামঃ