Home > সারাদেশ > বন্যা সহনশীলতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

বন্যা সহনশীলতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

গাইবান্ধা: বন্যা সহনশীলতা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে গাইবান্ধা
শহরে অনুষ্ঠিত হয়। কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর সহযোগিতায় স্থানীয় সংস্থা‘‘এসোড” ফ্লাড রেজিলিয়েন্স বা বন্যা সহনশীলতা প্রকল্পের মাধ্যমে সভাটির আয়োজন করে।

বাংলাদেশে প্রকল্পটি কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর সহযোগিতায় জুরিখ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে, এসোড, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলা এবং গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে উপজেলার বন্যাকবলিত চরাঞ্চলে বাস্তবায়ন করছে।

‘‘মানুষের জীবনে বন্যা যেন কোন নীতিবাচক প্রভাব না ফেলে” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বন্যা সহনশীলতা উন্নয়নে কমিউনিটিকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটি কাজ করছে।

স্থানীয় পর্যায়ে বন্যা সহনশীলতার চর্চার উন্নয়নের দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।সর্বোপরি বন্যা সহনশীলতা কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ততা তৈরি করেছে, যার ধারাবাহিকতায় এই
সভাটির আয়োজন করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গাইবন্ধা জেলার প্রথমআলো, ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, বৈশাখী টিভি, চ্যানেল ২৪, বিটিভি,মাই টিভি সহ প্রায় বিশ জন মিডিয়া প্রতিনীধি।

জনাব সাঈদ মাহমুদ রিয়াদ হেড অব চর এন্ড কোষ্টাল প্রোগ্রাম, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড, সহ কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং এসোড এর কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন জনাব মো: ওহিদুল ইসলাম, ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং শাহীন আহমেদ, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, এসোড। পরবর্তীতে উন্মুক্ত আলোচনায় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন।

জনাব মাহমুদ রিয়াদ বলেন- “এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটির সাথে কাজ করে বন্যা সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কিছু সফল উদাহরণ তৈরি করেছি। যার মাধ্যমে স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে বন্যা সহনশীলতা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নীতি কাঠামোতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন্যা সহনশীলতা প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবন-জীবিকা যেন বন্যার প্রভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। আমরা আশা করি মিডিয়ার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন তথ্য, প্রতিবেদনের মাধ্যমে বন্যার দুর্যোগ ঝুঁকি- হ্রাসের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে তুলে ধরবেন। তিনি প্রাকৃতিক সম্পদ ভিত্তিক বন্যা ব্যবস্থাপনার কথাও উল্লেখ করেন।”

আলোচনায় সভায় সাংবাদিকগন বন্যা সহনশীলতায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, বন্যার আগাম সতর্কবার্তা ও প্রস্ততির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বন্যার প্রস্ততির সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সহ সকল ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রনয়নের ব্যাপারেও পরামর্শ প্রদান করেন।
প্রতিবছরই সরকারী এবং বেসরকারী খাত থেকে বন্যার জন্য ত্রাণ এবং বন্যা পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হয়।বক্তারা বলেন ,যদি বন্যার পূর্বে বন্যা সহনশীলতার বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হতো তাহলে প্রতি বছর সরকারকে বন্যার ত্রাণ এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হতো না।

প্রকল্প উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয় বন্যা সহনশীলতা কার্যক্রমে কমিউনিটি আরও বেশি বন্যাসহনশীল হতে পদক্ষেপ নিতে পারে এবং জীবন ও জীবিকার ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে পারে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য বন্যার আগাম পূর্বভাস ব্যবস্থা, অবকাঠামো, আর্থিক সুরক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অভিযোজিত কৃষি ব্যবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর স্থানীয় পর্যায়ের বন্যা সহনশীলতার বিভিন্ন প্রয়োজন ও ফলপ্রসূ কার্যক্রম নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকল্পের পক্ষ থেকে, চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সকল মিডিয়া প্রতিনিধিদেরকে স্থানীয়ভাবে বন্যা সহনশীলতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী
শিরোনামঃ