Home > সারাদেশ > নওগাঁয় গ্রাহদের সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে এনজিও উধাও

নওগাঁয় গ্রাহদের সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে এনজিও উধাও

নিজস্ব প্রতিনিধি: নওগাঁয় ‘স্বদেশ উন্নয়ন সংস্থা (সুখ)’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ঋণ দেয়ার নামে গ্রাহদের নিকট থেকে সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর সংস্থার কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি শহরের জগৎসিংহপুর মহল্লার বটতলা মোড় সংলগ্ন শামসুল হক নামে এক ব্যক্তির বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে ‘স্বদেশ উন্নয়ন সংস্থা (সুখ)’ কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা জেলার সাইফ হোসেন সংস্থার পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলার তাজবীর জুয়েল ম্যানেজার পরিচয় দেন। এরপর তারা সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলপুর, রামজীবনপুর, আদম দূর্গাপুর, কাদোয়া, ফতেহপুর, চন্ডিপুর ও নগর কুসুম্বিসহ কয়েকটি গ্রামে নারীদের জীবন মানোন্নয়ন ও ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি চালু করার জন্য উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে গ্রামের নারীদের হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, সেলাই, বেতের কাজ ও মৎস্য খামার অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেন।

এছাড়া ক্ষুদ্র ঋণদান প্রকল্পে দুইবছর মেয়াদী একলাখ টাকার বিপরীতে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় ও ১৫ হাজার টাকা সুদ নেয়া হবে বলে স্থানীদের বুঝানো হয়। ঋণ দেয়ার কথা বলে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪০ জন অসহায় মানুষের কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। ঋণ নেয়ার জন্য গ্রাহকরা গত বুধবার (৩ মার্চ) অফিসে আসতে বলা হলেও গ্রাহকরা অফিস বন্ধ পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে অফিস তালাবদ্ধ ও সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের ফোনও বন্ধ রয়েছে।

রামজীবনপুর গ্রামের গৃহবধূ পাখি, নুরুপ ও পাপিয়া বলেন, ‘আমাদের সেলাইয়ের কাজ শিখাতে চাওয়া হয়েছিল। এজন্য ফরম ৫০ টাকা ও সঞ্চয় বাবদ ২০০ টাকা নেয়া হয়। তারা টাকা নেয়ার পর থেকে আমাদের এলাকায় আসেনি। পরে শুনছি এনজিওটি উধাও হয়ে গেছে।’সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের ইন্টিতলা মোড়ের বাসিন্দা শারমিন। তিনি স্বদেশ উন্নয়ন সংস্থার (সুখ) অফিস সহায়ক পদে চাকরি করতেন। তিনি বলেন, ‘ওই অফিসে আমি ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে অফিস সহায়কের চাকরি করতাম।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সাড়ে সাত হাজার টাকায় ভাড়া এবং দুই লাখ টাকা সিকিউরিটি হিসেবে বাসায় ওঠে। অফিসে কাগজপত্রসহ চেয়ার টেবিল নিয়ে আসে। গত বুধবার (৩ মার্চ) সিকিউরিটি ও বাসা ভাড়ার টাকা, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারপর থেকে তাদের ফোন নম্বর বন্ধ এবং অফিসে কেউ আসছে না। নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী
শিরোনামঃ