Home > সারাদেশ > আমদানি-রপ্তানি কমেছে সোনামসজিদ বন্দরে: বিপাকে ব‌্যবসায়ী-শ্রমিক

আমদানি-রপ্তানি কমেছে সোনামসজিদ বন্দরে: বিপাকে ব‌্যবসায়ী-শ্রমিক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর। প্রতিদিন শত শত ট্রাকভর্তি পণ‌্য আসে এই বন্দর দিয়ে। সকাল থেকে শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। কিন্তু এখন চিত্র অনেকটাই ভিন্ন।

করোনার কারণে এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

মসলা আমদানিকারক বাবুল হাসনাত বলেন, ‘‘সারা বছরই পেঁয়াজ, জিরা, মরিচ, হলুদসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করি। করোনার আগে প্রতিদিন ৫০-৬০ লরি করে পেঁয়াজ ও বিভিন্ন ধরনের মসলা আসত। ১৪ সেপ্টেম্বর মাত্র ৩০-৩৫ লরি পেঁয়াজ এ বন্দর দিয়ে প্রবেশ করেছে। এরপর পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

‘করোনার আগে এ বন্দরে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। আমদানি-রপ্তানিকারক এবং শ্রমিকদের সমাগমে বন্দর জমজমাট থাকত। বন্দরকে কেন্দ্র করে কিছু দোকানপাটও চালু ছিল। কিন্তু বর্তমানে অর্ধেক শ্রমিক কাজ করছে। আমদানি-রপ্তানিকারক ছাড়াও বন্দরের আশেপাশের ছোট ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও বন্ধ হতে চলেছে।’

সোনামসজিদ স্থলবন্দর এক্সপোর্টার অ‌্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ স্থলবন্দর দিয়ে দেশের নামকরা গার্মেন্টস কারখানাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ গেঞ্জি ভারতে সরবরাহ করা হয়। এখন গেঞ্জিসহ, পাটের তৈরি বস্তা, প্লাস্টিক পণ‌্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া পেঁয়াজসহ বিভিন্ন দ্রব‌্য আমদানি হচ্ছে না।’

ক্ষুদ্র ব‌্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, ‘করোনার কারণে আগের মতো পণ‌্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে না। মজুরি ভিত্তিতে আগে কাজ করতাম। এখন কাজ বন্ধ। সংসার নিয়ে খুব বিপদে আছি।’

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘চলতি অর্থ বছরে এ বন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ কোটি টাকা ধরা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১৭০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। গত বছর একই লক্ষ‌্যমাত্রা নিয়ে এই সময়ে ২৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। শেষ সময় পর্যন্ত লক্ষ‌্যমাত্রা প্রায় সম্পূর্ণ অর্জিত হয়েছিল। এবার করোনার কারণে লক্ষ‌্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কায় আছি। আশা করছি, পরিস্থিতির উন্নতি হলে এ বন্দরে আগের মতো আমদানি-রপ্তানি বাড়বে এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সারা বছরই ফল, কয়লা, পাথর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা ও কৃষিপণ্য আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হয় গেঞ্জি, চটের বস্তা ও বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পণ‌্য।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ‌্যান্ডএফ এজেন্ট অ‌্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আওয়াল বলেন, ‘‘করোনার সময়ে দেশের অন্য স্থলবন্দরগুলোর মতো সোনামসজিদ স্থল বন্দরেও সংকট তৈরি হয়েছে। মার্চের ২৪ তারিখ থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বন্দর বন্ধ ছিল। এরপর খুলে দেওয়া হয়েছে।

‘করোনার আগে শতাধিক ভারতীয় লরি সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করত। বর্তমানে সেটি অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে পরিমাণ পণ্য ভারত থেকে আসত তার পরিমাণও এখন প্রায় অর্ধেক। ফলে দুই দেশের মধ্যে যে ব্যবসায়িক লেনদেন সেটি কমে গেছে।’’

আবদুল আওয়াল বলেন, ‘এ বন্দর দিয়ে এখন পাথর, ভুট্টা, খৈল ও বিভিন্ন ফল আসছে ভারত থেকে। তবে পেঁয়াজ ও পাথরসহ বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী আমদানি বন্ধ রয়েছে।’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ