Home > সারাদেশ > দেয়াল ভেঙে পড়ায় বেরিয়ে এলো বাঁশ

দেয়াল ভেঙে পড়ায় বেরিয়ে এলো বাঁশ

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।

সোমবার ওয়াস ব্লক ভেঙে পড়লে ভেতরে রডের স্থলে বাঁশের ব্যবহার দৃশ্যমান হয়। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ‍দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আমতলী উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাত লাখ টাকা ব‌্যয়ে ওয়াশ ব্লক নিমার্ণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ঠিকাদার নুরজামালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।

ব্লক নিমার্ণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাঁধা দেয়। কিন্তু বিদ্যালয় কতৃপক্ষের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুরজামাল কাজ করেন। তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি। তৎকালিন উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে আঁতাত করে ঠিকাদার রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নিমার্ণ কাজ করে ঠিকাদার। ২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়। ওই সময়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যায়ন চায়। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় তিনি প্রত্যায়ন দেননি।

সুলতানা রাজিয়া বলেন, ওয়াস ব্লক নির্মাণের তিন বছরের মাথায় টয়লেট ও ওয়ালে ফাটল ধরে। ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য এ বছর বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়।

শনিবার ওয়াস ব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার মিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার কাজের শুরু করলেই মুহূর্তের মধ্যে ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ও দেওয়াল ভেঙে পড়ে। এরপরই লেন্টিন থেকে বেড়িয়ে আসে রডের পরিবর্তে বাঁশ। তাৎক্ষণিক রাজ মিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন। প্রধান শিক্ষক রডের পরিবর্তে বাঁশ দেখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানান।

রবিবার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বিদ্যালয় ভাঙ্গা ওয়াস ব্লক পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল গিয়ে ভাঙা ওয়াস ব্লক থেকে বাঁশের লেন্টিন ও কাঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ওয়াস ব্লকের ভিতরে লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙে পড়া নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। লেন্টিনের মধ্যে রডের পরিবর্তে বাশ কাঞ্চি দেওয়া আছে।

স্থানীয় মুরাদ খান, দেলোয়ার হোসেন ও এনামুল খাঁন বলেন, ‘ঠিকাদার নুরজামাল রডের পরিবর্তে বাঁশের কাঞ্চি দিয়ে ওয়াস ব্লক নিমার্ণ করেছে। ঠিকাদার নুরজামালের বিচার দাবী করছি। বিদ্যালয় দপ্তরি মো. শাওন খলিফা বলেন, প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল এসে বাঁশ দিয়ে নিমার্ণ করা ভেঙ্গে পড়া লেন্টিন সরিয়ে ফেলেছে। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা শুনেনি। পরে গোপনে আমি ভাঙা লেন্টিনের দুইটি টুকরো লুকিয়ে রেখেছি।

যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার নুরজামাল বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বদনাম করতে একটি মহল এমন গুজব রটনা করছে, যাতে আমাকে ফাঁসানো যায়। আমি রড ব্যবহার করেই কাজ করেছিলাম।’

আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে।

আমতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ