Home > সারাদেশ > নুসরাতের রেজাল্ট পেয়ে কাঁদল পরিবার-বন্ধুরা

নুসরাতের রেজাল্ট পেয়ে কাঁদল পরিবার-বন্ধুরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারেনি। এর আগেই তাকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চলে যেতে হয়েছে ওপারে। তিনি ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

বুধবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। যৌন নিপীড়নের পর হুমকি-ধামকি মাথায় নিয়ে আলিম পরীক্ষায় দুটি বিষয়ে অংশ নেন নুসরাত। ফলাফলে দেখা গেছে, কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলে হাদিস পরীক্ষায় নুসরাত ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে।

নুসরাত নেই, কিন্তু এসেছে তার পরীক্ষার ফল। আর এই ফল পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ও সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলছেন, নুসরাত বেঁচে থাকলে ভালো রেজাল্ট করত।

কান্না জড়িত কণ্ঠে নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘‘নুসরাত মেধাবী ছিল। ২৭ তারিখের দুর্ঘটনার পর আমরা তাকে পরীক্ষা দিতে নিরুৎসাহিত করেছিলাম। কিন্তু সে ১ ও ২ এপ্রিল দুটি পরীক্ষায় অংশ। পরে ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

ফল প্রকাশের পর নুসরাতের রেজাল্ট দেখে কেঁদেছেন তার সহপাঠীরা। শিক্ষকরাও অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হুসাইন বলেন, নুসরাত জাহান রাফি মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারলে ভালো ফল করত।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ন করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে সিরাজকে আটক করে পুলিশ।

৬ এপ্রিল নুসরাতকে কৌশলে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়।

সেখানে ১০ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে নুসরাতের মৃত্যু হয়।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ