Home > সারাদেশ > পুঠিয়া থানায় এবার গাঁজা কেলেংকারি, এসআই ক্লোজড:

পুঠিয়া থানায় এবার গাঁজা কেলেংকারি, এসআই ক্লোজড:

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পুঠিয়ায় থানায় এবার গাঁজা কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে। এক এসআই মালখানা থেকে পাঁচ কেজি গাঁজা বিক্রি করে দেয়। সেই গাঁজাসহ র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে তিন মাদক ব্যবসায়ী। বিষয়টি পুলিশ সুপারের কানে গেলে তাৎক্ষনিক ভাবে ওই এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগেই এ থানায় এধরনের একাধিক ঘটনা ঘটে। সাধারণ লোকজনকে মাদক দ্রব্য দিয়ে মামলা ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে পুলিশের অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে। এমনকি সিগারেট খাওয়ার অপরাধে তরুণ-তরুনীকে রাতভর থানা হাজতে আটকে অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দেয়ায় মাদক সেবী হিসেবে তাদের চালান দেয়ার ঘটনা ঘটেছে এ থানায়। পুলিশের এই বানিজ্য থেকে রেহায় পায়নি সাংবাদকর্মীও।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে র‌্যাব-৫ এর একটি দল পুঠিয়া পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ কেজি গাঁজা তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তারা র‌্যাবকে জানায় গাঁজাগুলো তারা কিনেছেন পুঠিয়া থানার এসআই মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন, পুঠিয়া পৌরসভার এলাকার মৃত শেখ ফরিদ হোসেনের ছেলে জহুরুল ইসলাম বকুল (৩০), গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকারের ছেলে শ্রী গনেশ চন্দ্র সরকার (৩৮) এবং একই এলাকার আনছার আলীর ছেলে শিমুল ইসলাম (৩০)।

এদিকে, গাঁজা বিক্রির ঘটনায় এসআই মনিরুল ইসলাম শুক্রবার প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহম্মেদ।

তবে গাঁজা কেলেংকারির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ওসি সাকিল দাবি করেছেন, ‘একটি মাদক মামলার তদন্তে ধীর গতি থাকায় এসআই মনিরুলকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

অপরদিকে পুলিশ ও র‌্যাবের সূত্র জানায়, গত ২৭ এপ্রিল পুঠিয়া সদরে একটি কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি করে ৯৬ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৫। পরে র‌্যাব বাদী হয়ে ২৮ এপ্রিল পুঠিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পুঠিয়া থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, র‌্যাবরে ৯৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই মনিরুল ইসলামকে। মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত ৯৬ কেজি গাঁজা তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুলের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। পরে এসআই মনিরুল জব্দকৃত গাঁজাগুলো মালখানায় না রেখে থানা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে রাখেন। সেখান থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ কেজি গাঁজা মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বকুলের কাছে বিক্রি করে দেয়। তবে ওই রাতে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর বকুল র‌্যাবকে জানায় এসআই মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে এই পাঁচ কেজি গাঁজা তারা কিনেছেন। বিষয়টি র‌্যাবের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে জানানো হলে শুক্রবার এসআই মনিরুলকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে গাঁজা বিক্রির কথা অস্বীকার করে মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা র‌্যাবের কাছে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। মামলা থেকে বাঁচতে তারা আমার উপর দোষ চাপিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ