Home > সারাদেশ > পুঠিয়ায় রায়হানা ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে সিজারিয়ান: পেট কেটে রামেকে প্রেরণ

পুঠিয়ায় রায়হানা ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে সিজারিয়ান: পেট কেটে রামেকে প্রেরণ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রায়হানা ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে রুগির পেট কাটা হলেও বাচ্চা বের করতে না পেরে গুরুতর অবস্থায় রোগিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে ফের অপারেশন করে কন্যা শিশুর জন্ম হয়।

তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছেন রুগির চিকিৎসা করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মেরিনা খাতুন। রোগির ছাড়পত্রেও মেরিনা খাতুনের সাক্ষর ও সিল রয়েছে। তবে ডা. মেরিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে এ ব্যপারে রুগির পরিবার ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করিয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করানোয় শুষ্ঠ তদন্ত করে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া ছাড়াও ক্লিনিকের কাছে ক্ষতি পূরন দাবী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগের প্রায় মাস পেরিয়ে গেলেও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।

গত ২৬ শে জানুয়ারী উপজেলা সদরে অবস্থিত বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রায়হানা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে এবং গত ৩০ শে জানুয়ারী ভুক্তভুগির বাবা আলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অভিযোগ করেন। ভুক্তভুগি প্রসুতি হলেন, আলিয়া বেগম (২৫) তিনি চকদুর্লøভপুর গ্রামের একরামুল হকের স্ত্রী ও একই গ্রামের আলাল উদ্দিনের মেয়ে। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গত ২৬ শে জানুয়ারী আলিয়া বেগমের প্রসব ব্যাথা উঠলে উপজেলা সদরে অবস্থিত রায়হানা ক্লিনিকে নিয়ে যান। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রুগির অবস্থা ভালো না বলে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করে বাঁচ্চা বের করতে হবে বলে জানায়।

বিকেল ৪ টায় ডা. মেরিনা খাতুন এসে অপারেশন করবে বললে রুগির পরিবার রাজি হয়ে ক্লিনিকে ভর্তি করে ২ হাজার ৭০০ টাকা জমা দেয়। তবে দুপুর ২ টার সময় তারা রুগিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই রুগির অপারেশন করে কিন্তু বাচ্চা বের করতে পারেনি। পরে পেট কাটা অবস্থায় রুগিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।

প্রসুতির বাবা আলাল উদ্দিন জানান, তিনি অপারেশন থিয়েটারে উকি মেরে কোন ডাক্তার দেখতে পাননি এমনকি ডা.মেরিনা খাতুনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে ক্লিনিকে কর্মরত কয়েকজন পুরুষ কর্মচারী বসে ছিলেন। তিনি ডা. মেরিনা খাতুন কে ভালোভাবেই চেনেন বলেও জানান।

আলাল উদ্দিন আরো জানান, ডা.মেরিনা ক্লিনিকে আসবেন বিকেল ৪ টায় তাহলে দুইটার সময় কে অপারেশন করলো ? এবং ডা. মেরিনা খাতুন কোথায় ? ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে এমন প্রশ্ন করলে তারা রুগি ও তার পরিবারের সঙ্গে অশালিন আচরন করে হুমকি ধামকি দিয়ে ক্লিনিক থেকে বের করে দেন।

পরে নিরুপায় হয়ে মাইক্রোবাসে করে আলিয়া বেগমকে পেট কাটা অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে ফের অপারেশন করে বাঁচ্চা বের করেন। ক্লিনিকে পেট কাটা অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রসুতি রক্ত শুন্যতায় ভোগে ফলে সেখানে রুগিকে অতিরিক্ত ১০ ব্যাগ রক্ত দেয়াসহ প্রায় ৩৫ হাজার টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়। তিনি এর সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচার দাবী করা ছাড়াও আর্থিক ক্ষতিপূরন দাবী করেন।

তিনি আরো বলেন, ভর্তির সময় আমার কাছে ১০,হাজার টাকার চুক্তি হয়েছে তাৎক্ষনিক ২৭০০ টাকা জমা দেয়া হলেও সেই টাকাও ফেরত দেয়নি। এমনকি পরবর্তিতে সে টাকা চাইতে গেলে টাকা ফেরত দেয়া হয়নি উল্টো যা পারেন তা করেন বলে জানানো হয়।

জানা গেছে, মোজাফ্ফর হোসেন রায়হানা ক্লিনিকের মালিক হলেও ক্লিনিকটি পরিচালনা করেন তার ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজু আহম্মেদ। তিনি উপজেলা পরিষদে ঠিকাদারেরও কাজ করেন বিধায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সক্ষতা গড়ে উঠেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে প্রশাসন।

সোমবার দুপুরে এব্যপারে ডাক্তার মেরিনা খাতুনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, আমি আগামীকাল বিকেলে ক্লিনিকে আসবো আপনি সেখানে আসুন সরাসরি কথা বলবো।

তবে ডা. মেরিনা খাতুনের অপারেশন করার বিষয়টি স্বীকার করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজু আহম্মেদ জানান, ঘটনার সময় আমি ক্লিনিকে উপস্থিত ছিলাম। রুগির সমস্যা হচ্ছে “প্লাসেন্টা প্রিভিয়া” অর্থাৎ বাঁচ্চার মাথা সামনে থাকার কথা থাকলেও ফুল সামনে এসেছিলো ফলে রক্তের প্রয়োজন ছিলো তাৎক্ষনাত আমাদের এখানে পর্যাপ্ত রক্ত না থাকায় রুগিকে রামেক হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

ভুয়া ডাক্তারের বিষয়সহ অভিযোগ গুলোর ব্যপারে তিনি বলেন, এগুলো অপ-প্রচার। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, আমি জয়েন্ট করেছি কয়েকদিন হলো অভিযোগটি এখনও দেখিনি। তবে অভিযোগটি দেখে আমাদের প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেয়ার থাকলে নেব বলেও জানান তিনি।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ