Home > অন্যান্য > ফিচার > নওগাঁয় বরো ধানের বাম্পার ফলন :মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব

নওগাঁয় বরো ধানের বাম্পার ফলন :মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব

ছবি:আব্দুল কাদের নাহিদ

মিনহাজুল ইসলাম:চলতি মৌসূমি আবহাওয়া ভাল থাকায় এবার সারাদেশের মত উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোতে ধানের ফলন ভাল হয়েছ।

নওগাঁয় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। বন্যার কারনে এবার ধানচাষীরা সংকিত থাকলেও সেই সংকা কাটিয়ে অনুকূল আবহাওয়ায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন বোরো ধানের হিল্লোল। আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।

এখন এক মাত্র ভয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ থেকে রক্ষা পাওয়া গেলে তাদের কষ্টের ফসল তুলতে পারবে ঘরে। এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি উপকরণসহ সকল দ্রব্য মূল্যে ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি কৃষকরা চাচ্ছেন উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য। ধানের উপযুক্ত মূল্য না হলে আগামীতে ধান চাষ ব্যাহত হবে এমনটি আশঙ্কা সুধীমহলের। সরকার ৯০০ টাকা মণ বিক্রয় মূল্য বেধে দিলেও এ ধান প্রকৃত কৃষকরা গোডাউনে দিতে পারবে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এবার বোরো ধান চাষ লক্ষমাত্র ছাড়িয়ে গেছে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন। গত মওসুমে বোরো ও আউস ধানের ফলন বিপর্যয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবারে এলাকায় অনেক বেশি জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। আর ফলন দেখেও মনে হচ্ছে বাম্পার ফলন হবে। তবে এখন কৃষকের একমাত্র আশঙ্কা প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তা থেকে রক্ষা পেলে তারা সোনালী ধান ঘরে তুলতে পারবে। জেলার মান্দা,সাপাহার,আত্রাই,ধামরাইহাট, উপজেলা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এবছর ধানের ফলন ভাল হয়েছে কিন্তু গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে নিচু জমির ধানগুলো ডুবে যাওয়াতে আধাপাকা ধানই কাটতে হচ্ছে। বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন তারা। তেঘড়িয়া গ্রামের ধানচাষি বাবুল ইসলাম জানান, ২০ বিঘা জমিতে এবারে বোরো ধান চাষ করা হয়। ইতিমধ্যে ৫ বিঘা জমির জমির আগাম স্থানীয় বি-২৮ জাতের ধান কাটা হয়েছে। ধানের ফলন অত্যন্ত ভালো। একই ভাবে মান্দার সাবাইহাট গ্রামের লিটন আহমেদ জানান, জমির ধান বেশী ভাগ পেকে গেছে, ধানের ফলন গত কয়েক বছর থেকে ভালো। তিনি জিরা ধানের চাষ করেছেন বিঘা প্রতি ধানের ফলন ২২ থেকে ২৫ মন তবে সব জিনিসের দাম বেশী হবার কারণে শ্রমিকের দামও বেড়ে গেছে। ফলে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে পুষাবেনা।

বর্তমানে শতকরা ৪০ভাগ জমির ধান কাটা পড়েছে। কিছু ধান কাঁচাসহ শ্রমিক সংকট রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে চলতি বছর বোরোর রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হবে। দুর্যোগ এড়াতে ধানের ৯০ ভাগ পেকে গেলেই অতিসত্বর কেটে নেয়ার পরার্মশ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ