Home > অন্যান্য > ফিচার > গ্রামীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে গ্রামবাসীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

গ্রামীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে গ্রামবাসীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

ছবি:আব্দুল কাদের নাহিদ

মিনহাজুল ইসলাম:

গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি অংশ লাঠি খেলা। ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি এখনো বেশ জনপ্রিয়। আবহমানকাল ধরে গ্রামাঞ্চলে এক সময় বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে লাঠি খেলা। কিন্তু কালের বির্বতণে মানুষ আজ ভুলতে বসেছে এই খেলাটি।

আর তাই নিজেদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং লাঠি খেলাকে বাচিয়ে রাখতে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার কুমারখালী গ্রামে গ্রামবাসীরা নিয়েছে এক ব্যতিক্রম উদ্যোগ।

প্রতিদিন কাজের ব্যস্ততা শেষে রাত ৯ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত এলাকার যবুকদের লাঠি খেলার প্রশিক্ষন দেওয়া হয়।

ঢোল আর লাঠির তালে তালে নাচা নাচি। অন্য দিকে প্রতিপক্ষের হাত থেকে আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বনের প্রচেষ্টা সম্বলিত টান টান উত্তেজনার একটি খেলার নাম লাঠি খেলা। লাঠি খেলা অনুশীলনকারীকে লাঠিয়াল বলা হয়। এই খেলার জন্য লাঠি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা, তবে প্রায় তৈলাক্ত হয়। প্রত্যেক খেলোয়ার তাদের নিজ নিজ লাঠি দিয়ে রণকৌশল প্রদর্শন করে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা জানা যায় তাদের পূর্ব পুরষেররা এই খেলার হাতেখড়ি করে গেছেন। বৈশাখ জৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে প্রতি বছর এই খেলার আয়োজন করতেন তারা। বেশ কয়েক বছর ধরে খেলাটি বন্ধ হয়েছিল। এ অবস্থা চলতে দেখে আলহাজ্ব ওমর আলী নামে একজন মুরব্বী এই প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন। ওমর আলী সরকারের বয়স এখন ৯৫ এর কোঠায়। তিনি জানালেন, তার বাবার কাছ থেকে মাত্র ১০ বছর বয়সেই এই লাঠি খেলা শিখেছেন তিনি। তখন থেকেই বাবার সাথে লাঠি খেলাগুলো জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে খেলে থাকতেন। কোন মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা শুনলে আশেপাশের গ্রামের শতশত মানুষ আসতো খেলা দেখতে।
২০০৪ সালের সারা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে এই খেলাগুলো মোটামুটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত হয়ে যান

ওমর আলী সরকার ১৮ বছরের মৃদুল

জানায়, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ লাঠি খেলা আজ বিলুপ্ত প্রায়। আমাদের অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের লাঠিখেলা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সড়কি খেলা, ফড়ে খেলা, ডাকাত খেলা, বানুটি খেলা, গ্রুপ যুদ্ধ,নরি বারী খেলা এবং দা খেলা ইত্যাদি।
গ্রামের সাধারণ মানুষেরা তাদের নৈমিত্তিক জীবনের উত্সববাংলা বর্ষবরণ,বিবাহ,অন্নপ্রাশন ইত্যাদি উপলক্ষে লাঠি খেলার আয়োজন করে থাকেন। এক্ষেত্রে সাধারণত কোনও লাঠিয়াল দলকে ভাড়া করে আনা হয়। বিগত দশকেও গ্রামাঞ্চলের লাঠি খেলা বেশ আনন্দের খোরাক জুগিয়েছে। সাধারণ মানুষের হূদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিল এ খেলাটি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত এই খেলা দেখার জন্য।

এখনও বিভিন্ন জায়গায় মাঝে মধ্যে এই খেলা দেখা গেলেও তা খুবই সীমিত। এ খেলাটি দিন দিন বিলুপ্তি হওয়ার কারণে এর খেলোয়ার সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে না কোন নতুন খেলোয়াড়।

াড়।

এ ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্রের দেখা মিলেছে কুমারখালি গ্রামে সেখানে শুধু যবুকরাই নয় শিশু বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ নিয়েছেন লাঠিখেলার প্রশিক্ষণে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ