সহিংসতায় কাউন্সিলর নিহত: প্রতিপক্ষের বাড়ি হামলা-অগ্নিসংযোগ

সিরাজগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের পর সহিংসতায় নবনির্বাচিত কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় এলাকাবাসী পরাজিত প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেনের বাড়িঘরে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এ সময় শাহাদাৎ হোসেন ও তার আত্মীয়-স্বজনের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণের পর সন্ধ্যায় ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তরিকুল ইসলামকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আজিজার রহমান জানান, তরিকুল ইসলাম ডালিম প্রতীকে ৮৫ ভোটে জয়লাভ করেন।

পুলিশ জানায়, এরপর সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভার নতুন ভাঙ্গাবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে তরিকুল ইসলামের সমর্থকদের সঙ্গে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেনের সমর্থদকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় তরিকুল ইসলাম ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ৮টার দিকে তরিকুলের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী।

তরিকুল ইসলাম খানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গভীররাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেনের পৌরসভার ব্যাপারীপাড়ায় হামলা করে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে শহরের ব্যাপারীপাড়ার আব্দুস সালামের বাসভবনে হামলা চালানো হয়। এ সময় বাসার গ্যারেজে থাকা একটি প্রাইভেটকার, দুটি পিকআপ ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এছাড়াও তখন আরও দুটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

এদিকে, হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রোববার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নতুন ভাঙ্গাবাড়ী এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি মিছিল ব্যাপারীপাড়ায় প্রবেশ করে। তখন তারা আওয়ামী লীগ নেতা ও পরাজিত প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেনের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট করে। তারা দু-একটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

টনি স্টোরের মালিক ছানোয়ার হোসেন বলেন, তার দোকানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনে দোকানের সব পুড়ে গেছে। এতে তার ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মুক্তিযোদ্ধা গাজী আজিজুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমাদের পরিচয় দিয়ে বার বার নিষেধ করলাম। এরপরও তারা আমার বাড়িতে ভাঙচুর করে।’

ক্ষতিগ্রস্ত বাসভবনের মালিক আব্দুস সালাম বলেন, ‘কেন আমার বাড়িতে হামলা করা হলো বুঝতে পারছি না। আমার বাড়ির একটি প্রাইভেটকার, দুটি পিকআপ ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।’

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

%d bloggers like this: