Home > সারাদেশ > বন্যা অপরিবর্তিত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

বন্যা অপরিবর্তিত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

কক্সবাজার: বর্ষণের মাত্রা একটু কমলেও বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। তবে ডুবে যাওয়া উঁচু জায়গা থেকে পানির মাত্রা একটু কমেছে। এদিকে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। শনিবার পাহাড় ধসে আরো দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পাওয়া গেছে নিখোঁজ দুজনের মৃতদেহ। সব মিলিয়ে জেলায় গত ৩ দিনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় পানিতে ভেসে, পাহাড় ও দেওয়াল চাপায় এদের মৃত্যু হয়।

বানবাসীরা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও পড়েছে খাদ্য সঙ্কটে। এতে বন্যা কবলিত এলাকায় চলছে হাহাকার। খাদ্যের সঙ্কটে খালিমুখে সেহেরি ও ইফতার সারছেন অনেকেই।

অন্যদিকে বন্যা দুর্গতদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। পাশপাশি ত্রাণ সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। তবে ত্রাণ সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছেন দুর্গতরা। দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সাথে সব সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ৮ উপজেলাতেই খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুর্গতের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে শুকনো খাবার ও পানি। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে। মৃতদের প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রামুতে ৭জন, টেকনাফে ৪ জন ও কক্সবাজার শহরে ১জন, চকরিয়ায় ১ জন ও পেকুয়ায় ১ জন। কক্সবাজার ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে রামুর গর্জনিয়ায় নিহত হন রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের কিয়াজরবিল এলাকার বশির আহামদের মেয়ে কামরুন্নাহার (২০) এবং এরশাদ উল্লাহর মেয়ে হুমাইরা বেগম (০৮)। শনিবার সকালে ওই এলাকা থেকেই তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার পানিতে ডুবে উপজেলার ফতেঁখারকুল ইউনিয়নের আমতলিয়া পাড়ার হালিমা বেগম, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মিতারছড়ার জাকির হোসেনের ছেলে রিদুয়ান, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ বিটের জিনু মিয়া, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে আমির হোসেন, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়ার সুলতানের মেয়ে খতিজা বেগম মারা যান। এছাড়া টানা বর্ষণে রামুর ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি। দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা এলাকায় সড়ক প্লাবিত হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার সকালে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে দেয়াল চাপায় কোনারপাড়া এলাকার নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৫) ও তাদের শিশু সন্তান মোহাম্মদ জিসান (৪) মারা গেছে। সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, শুক্রবার ঝড়ো হাওয়ায় ঘরের ওপর নারিকেল গাছ চাপা পড়ে মা ও শিশু মারা যায়। এতে আরও কয়েক জন আহত হন।

শনিবার ভোরে টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর ইউনিয়নের পুরাতনপাড়ায় পাহাড় ধসে মা ও কিশোরী মেয়ে নিহত হয়েছে। এরা হলেন- পুরাতন পাড়ার আবুল মঞ্জুরের স্ত্রী মছুদা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে শাহিনা আক্তার (১৪)। শামলাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী
শিরোনামঃ