পলাশ-শিমুলের রঙে সেজেছে মেরিন ড্রাইভ

ফাল্গুনে অপরূপ রূপে সেজেছে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ। পাহাড় আর সাগরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কের দুইপাশের গাছে গাছে রং ছড়াচ্ছে পলাশ, শিমুলসহ বাহারি ফুল। আমের মুকুল শোভা বাড়িয়েছে বহুগুণ। গাছে গাছে পাখির কলতান আর মৌমাছির গুঞ্জনে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন পরিবেশ। পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্বভালোবাসা দিবসে প্রকৃতির এমন রূপ দেখে মুগ্ধ পর্যটকরা। ভালোবাসা স্মরণীয় করে রাখতে অনেক যুগল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি মেরিনড্রাইভের অপরুপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করছেন।

বসন্ত উৎসব উপলক্ষে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল হাতে নিয়েছে পর্যটকদের জন্যে নানা আয়োজন। প্রশাসন থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকার সাভার থেকে আসা দম্পতি মো. সাব্বির ও রেহেনা ইয়াসমিন জানান, কক্সবাজারে সমুদ্রের টানে আসলেও সাগর-পাহাড়ের মধ্যের মেরিন ড্রাইভ রোডের দুইপাশে ফুটে থাকা পলাশ, শিমুল ফুল দেখে মুগ্ধ তারা। বসন্ত বাতাসের দোল লেগেছে বনে। মনে লেগেছে ভালবাসার দোলা।

গত বছর মিডিয়ায় মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য্য দেখে এবার কক্সবাজার ছুটে এসেছেন বলে জানান তারা।

ভ্রমণপিপাসু সেঁজুতি তৌফিক বলেন, শুধু সমুদ্র সৈকত নয়, কক্সবাজারে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। যেমন সরু মেরিন ড্রাইভের দুইপাশে ফুলগাছ। একপাশে সমুদ্র আর অন্যপাশে পাহাড়। এসব কক্সবাজারে বাড়তি সৌন্দর্য দিয়েছে। এসব দেখতে ভালো লাগে। মন চায় বারবার ফিরে আসতে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ জানায়, মেরিন ড্রাইভ সড়কে ২০১২-১৩ অর্থবছরে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ১০ হাজার চারা রোপণ করা হয়। পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচুড়া, রাধাচুড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির এসব গাছে ফুল ফুটেছে। এ সব গাছে পাকপাখালির কলতান আর মৌমাছির গুঞ্জনে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন পরিবেশ। এর ধারাহিকতায় মেরিন ড্রাইভের হিমছড়িতে ক্যাকটাস হাউজ, অর্কিট হাউজ নির্মাণ ও আরও তিন হাজার শোভাবর্ধনকারী চারা রোপণ করা হচ্ছে বলে জানায় বনবিভাগ।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত বছর ৮০ কিলোমিটারের এই সড়কে টেকনাফ পর্যন্ত আরও ১০ হাজার শোভাবর্ধনকারী চারা রোপণ করবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যা কয়েক বছর পর প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করবে।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, প্রাকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে কক্সবাজারের ছুটে এসেছে হাজার হাজার পর্যটক। সৈকতের বালিয়াড়িতে সমুদ্রের লোনাজলে গা-ভাসিয়ে আত্মহারা তারা। ফুলের দোকানেও লেগেছে ভিড়। অনাবিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের কমতি নেই পর্যটকদের মধ্যে। করোনা সংকটে সরকারি নির্দেশনা মতে নিয়মনীতি মেনে পর্যটকদের সেবা দেয়া হচ্ছে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসসহ কক্সবাজারে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তারা।

%d bloggers like this: