চট্টগ্রাম নগরজুড়ে এডিস মশার কারখানা

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার কারখানায় পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা টিমের অনুসন্ধানে নগরীর প্রায় ১৫টি স্পটে এডিসের লার্ভার সন্ধান মিলেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিলেও এডিসের লার্ভা ধ্বংস এবং মশা মারতে চোখে পড়ছে না সিটি করপোরেশনের কোনো ক্রাশ প্রোগ্রাম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরী ও শহরের বাইরে হাটহাজারী উপজেলার ৫৭টি স্পট থেকে জমে থাকা পানি সংগ্রহের পর ১৫টি স্পটের পানিতে এডিসের লাভা পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূইয়ার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি গবেষক দল এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

রোববার (১ আগস্ট) গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূইয়া জানান, চট্টগ্রাম গত ৫ জুলাই থেকে এডিস মশার লার্ভার উৎস গবেষণার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫১টি স্পট এবং হাটাহাজারী উপজেলাধীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি স্থান থেকে জমে থাকা পানি সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি স্পটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এর অধিকাংশ স্পটই চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায়।

সংগ্রহ করা মশার লার্ভা থেকে ইতিমধ্যে এডিস মশার জন্ম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব এডিস মশা ধ্বংসে কি ধরনের ওষুধ কার্যকর তা প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিগগিরই তার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রতিবেদন দেওয়ার পর সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, বৃষ্টি ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে রয়েছে দিনের পর দিন। নগরীর জিইসি ও আর নিজাম রোড সংলগ্ন একটি বহুতল বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য পাইলিংএর মাটি খোঁড়ার পর উক্ত প্রকল্প জুড়ে কয়েক মাস ধরে পানি জমে রয়েছে। এই জমে থাকা পানির কারণে উক্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মশার উৎপাত বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, মশা নিধনের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এডিস মশার লার্ভার উৎসস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের অভিযানও চলমান আছে।

%d bloggers like this: