গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি

নিজস্ব প্রতিনিধি
জনতার বাণী,
গাইবান্ধা: প্রবল বর্ষণে বাড়ছে নদ-নদীর পানি।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় গাইবান্ধা
জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি
হয়েছে।
এর ফলে পানিবন্দি পরিবারগুলো পড়েছে চরম
দুর্ভোগে। বাড়ি ছেড়ে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয় স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিচ্ছে
তারা।
বানভাসি বিপর্ষস্ত মানুষেরা তাদের গৃহপালিত
পশুপাখি নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।
তাদের কষ্টার্জিত সব সহায় সম্বল নিঃশেষ হবার
পথে।
দেখা গেছে, নিরুপায় পরিবারগুলো তৃতীয় দফায়
বন্যার পানি আসার কারণে ভেলা বানিয়ে পানির
উপর বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
শনিবার সকালে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১২ সে.মি. বৃদ্ধি
পেয়ে বিপদসীমার ৪৮ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি
১ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৬ সে.মি. উপর
দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে করতোয়ার পানি ২০ সে.মি. ও তিস্তার
পানি ২৪ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে গত এক দশক ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো সংস্কার না করায়
ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পানি ভেতরে ঢুকে
পড়ায় গোটা জেলায় এবার নতুন নতুন এলাকায়
জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দু’সপ্তাহের এই
অব্যাহত বন্যায় জনদুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাপক
ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার ৭টি
উপজেলার ৮২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬২টি ইউনিয়নের
৩৬৭টি গ্রামের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এসব এলাকার ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে
বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, টয়লেট সমস্যা, গো-
খাদ্য সংকটসহ নানা দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা এলাকার যোগাযোগ
ব্যবস্থা।
সরকারিভাবে ত্রাণ বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ার কারণে
নিম্নআয়ের মানুষদের অবস্থা এখন খুবই নাজুক।
দু-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেসরকারি কোন সংস্থাই
এখন পর্যন্ত দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। বন্যায়
জেলার প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন,
বীজতলা, শাকসবজি, আদা ও কলার ক্ষেত বিনষ্ট
হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়া নদী তীরবর্তী
এলাকাগুলোতে বন্যায় এবার ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
হয়েছে। এ কারণে খাদ্যে উদ্বৃত্ত গাইবান্ধা জেলার
মানুষকে খাদ্য ঘাটতির মোকাবেলা করতে হবে বলে
আশঙ্কা করা হচ্ছে।

%d bloggers like this: