‘ওরা ভদ্রলোক নয়, ডাকাত’

চেহারা-সুরতে ভদ্র, কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। অনেকে তাদেরকে নেতা হিসেবে চেনেন। প্রকৃত অর্থে তাদের পেশা ডাকাতি। ছদ্মবেশে বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মোটা অংকের টাকা লুট করে নেওয়াই তাদের পেশা।

দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ডাকাতি করে আসছে তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে পাঁচ লাখ টাকা ডাকাতি করে আত্মগোপনে যায় দলটি। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর কোতোয়ালী থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গোমর ফাঁস হয়ে যায় তাদের। ছদ্মবেশী এই ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ডাকতদলের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসি এস এম মেহেদী হাসান।

গ্রেপ্তারকৃত ছয় ডাকাত সদস্য হলেন- কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর হালিরচর কালা মিয়া সওদাগরের বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেরে মো. কামাল হোসেন (৩০), চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার ৮ নম্বর শুলকবহর এলাকার মৃত ইউনুছের ছেলে মোক্তার হোসেন (২২), সাতকানিয়া উপজেলার দোলার পাড়া ফজল হাজি বাড়ির মৃত নুরুল কবিরের ছেলে সাদ্দাম (২৬), ফটিকছড়ি উপজেলার বিবিরহাট বাজারের দক্ষিণ ধুরং এলাকার কোরবান আলী প্রকাশ মুনু ড্রাইভারের ছেলে শেরআলী (৩২), আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামের সৈয়দ বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল আলমের ছেলে মাসুদুর রহমান (৪০) ও সীতাকুণ্ড উপজেলা ফৌজদারহাট নিচের বাজার এলাকার হোসেন মাস্টার বাড়ির মৃত শামছুল হকের ছেলে মো. এরশাদ (৩৩)।

ডিসি এস এম মেহেদী হাসান জানান, গত ১৬ জুন দুপুর দেড়টার দিকে ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা তোলেন  মো. ফারুক আহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি। ফেরার পথে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের পশ্চিম গেটের কাছে তার পথ আটকায় দলটি। ফারুকের কাছে থাকা পাঁচ লাখ টাকাসহ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা।

এ ঘটনার পর একটি মামলা দায়ের করেন ফারুক আহাম্মদ। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ভদ্রবেশী ডাকাতদলের সন্ধান পায় পুলিশ।

এস এম মেহেদী হাসান আরও জানান, ঘটনাস্থলে ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ জুন পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে ডাকতদলের ছয় জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এই দলের সদস্যরা ভদ্রবেশে বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে অবস্থান করে। তারা ইশারা ইঙ্গিতে একে অপরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করে। পরে সুবিধাজনক স্থানে ওই ব্যক্তির গতিরোধ করে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।

একটি ডাকাতির ঘটনার পর চক্রটি কিছুদিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যায়। লুটের টাকা শেষ হয়ে গেলে তারা আবার একত্রিত হয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুই রাউন্ড কার্তুজসহ একটি দেশিয় অস্ত্র, তিনটি ছোরা, দুটি মোটরসাইকেল ও ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেন পুলিশ পরির্দশক কামরুজ্জামান, এসআই সজল কান্তি দাশ, এসআই সুকান্ত বিশ্বাস, এসআই এইচএম এরশাদ উল্লাহ, এসআই কেএম তারিকুজ্জামান, এএসআই অনুপ কুমার বিশ্বাস, এএসআই রুহুল আমিন, এএসআই সাইফুল আলমসহ কোতোয়ালী থানার সমন্বিত টিম।

%d bloggers like this: