Home > শিক্ষাঙ্গন > দাবি আদায়ে শিক্ষকদের রাজপথে নামার তাগিদ

দাবি আদায়ে শিক্ষকদের রাজপথে নামার তাগিদ

জিডিপির ৬ শতাংশ বাজেট শিক্ষায় বরাদ্দ করা, নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তি, শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণসহ ২০১০ সালের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায়।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নবম জাতীয় সম্মেলনে অজয় রায় আন্দোলনের এই তাগিদ দেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই শিক্ষাবিদ বলেন, এই দাবি আদায়ের জন্য বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিকে প্রবল আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন সভাকক্ষ কিংবা সেমিনারের বাইরে সবচেয়ে বেশি রাজপথে হবে। রাজপথে শোভাযাত্রা করতে হবে, মিছিল-মিটিং নিয়ে নামতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে প্রয়োজন হলে অবস্থান ধর্মঘট করতে হবে।

এই পর্যায়ে শিক্ষক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজয় রায় আরও বলেন, ‘এই ব্যাপক কর্মসূচি যদি আপনারা না গ্রহণ করেন, তাহলে যে শিক্ষানীতি আমরা চাই তা বাস্তবায়িত হবে না। কাজেই আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

এ ছাড়া হেফাজতে ইসলামের চাওয়া অনুসারে পাঠ্যপুস্তকে ‘সাম্প্রদায়িক পরিবর্তন’ আনা হয়েছে মন্তব্য করে এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করেন অজয় রায়। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর চেয়েও এই মুহূর্তে সব চাইতে ক্ষতিকর সংগঠন হিসেবে হাজির হয়েছে হেফাজতে ইসলাম।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সর্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজশিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বালা বিজয় কুমার শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টিকে দেখে অপচয় হিসেবে। আমি বলব আপনারা এটাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখুন।’

একই সঙ্গে নিয়মিত পঠন-পাঠনের বাইরে এসে সমাজকে ‘শিক্ষিত’ করার জন্য শিক্ষকদের নিজ নিজ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বালা বিজয় কুমার।

বিশ্ব শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজা খানম বলেন, ‘সমাজ-রাষ্ট্র গঠনে একজন শিক্ষকের যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব আছে এই শিক্ষক সমাজের প্রতি। রাষ্ট্রকে সেই দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে।’

বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, একটি জাতিকে পঙ্গু করতে হলে প্রথমে আঘাত হানতে হয় শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। আজ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে।’ এ ছাড়া নিজেদের দাবি-দাওয়াসহ হেফাজতে ইসলামের নির্দেশনা মোতাবেক পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বের শুরুতে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। তিনি সম্মেলনের সফলতা কামনা করে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে একটি শোভাযাত্রায় অংশ নেন সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকেরা। বেলা আড়াইটার পর থেকে শুরু হয় সাংগঠনিক অধিবেশন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ