Home > শিক্ষাঙ্গন > দূর করুন পরীক্ষাভীতি

দূর করুন পরীক্ষাভীতি

এমন অনেকেই আছেন পরীক্ষা তো দূরের কথা পরীক্ষার নাম শুনলেই ভয়ে অস্থির হয়ে যান। এই সমস্যা যে শুধু স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেখা যায় এমনটা নয়, বরং এমন কেউ কেউ আছেন যারা লেখাপড়ার শেষ পর্যায়ে এসেও এখনো যে কোনো ধরনের পরীক্ষার নাম শুনলেই চমকে ওঠেন। কিন্তু এসবের ঝামেলাতে পড়ে আমরা ভুলেই যাই পরীক্ষা নিয়ে আমরা যতবেশি স্থির আর শান্ত থাকবো আমাদের মনোযোগ ও স্মরণশক্তি ততবেশি ভালো কাজ করবে।
পরীক্ষা ভীতির শিকার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উপকারী কিছু পরামর্শ: প্রথমেই ভেবে নিন কোথা থেকে শুরু করবেন। নিজের সুবিধা অনুযায়ী পড়াগুলো পুনরায় পড়তে শুরু করুন। এভাবে আস্তে আস্তে রিভাইজ দেওয়া শুরু করলে দেখবেন প্রশ্নের উত্তর আপনার জন্য সহজ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা প্রশ্নের নোট রেখে পড়ুন। আর সব প্রশ্নগুলো আলাদা আলাদাভাবে লিখতে চেষ্টা করুন। অনেক সময় দেখা যায় মুখস্থ করার থেকে লিখে লিখে পড়লে পড়া বেশি মনে থাকে। যা আপনার পরীক্ষার হলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
গ্র“প স্টাডি করতে পারেন। গ্রুপ স্টাডি আপনার পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। নিজের পড়ার মান পরীক্ষা করতে আপনার বন্ধুর সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু যাদের দলে বসে পড়তে সমস্যা হয় তাদের জন্য গ্র“প স্টাডি না করাই ভালো।
সব বিষয় এক সাথে পড়তে না বসে সময় ভাগ করে নিন। প্রতিটা বিষয়ের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করুন। এতে করে আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে ও পড়া গুলিয়ে যাবে না।
পরীক্ষার দিনে আপনার লিখার ধরন বা লিখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রশ্ন প্রথমে লিখতে চান সেটা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। যাতে করে কোন অংশ থেকে শুরু করবেন এটা ভাবতে যেয়ে পরীক্ষার হলে সময় অতিবাহিত না হয়ে যায়।
পরীক্ষার পড়ার প্রস্তুতির ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নিতে ভুলবেন না। একটানা না পড়ে বিরতি নিয়ে পড়ুন এতে আপনার মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া পরীক্ষার আগের রাতে দীর্ঘক্ষণ পড়ার টেবিলে থাকবেন না, তাতে আপনার শরীর খারাপ করার সম্ভাবনা থেকে যায়।
পরীক্ষার সময়গুলোতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে আপনি সুস্থ থাকবেন সাথে পরীক্ষার সময়গুলোতে আলাদা উদ্যমও পাবেন। পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতির একটি অন্যতম বড় উপাদান হলো আত্মবিশ্বাস। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন দেখবেন আপনার প্রস্তুতি নিঃসন্দেহে ভালো হবে। মনে রাখুন হতাশা আর উদ্বেগ আপনার বোধশক্তি হ্রাস করে ফেলে। আপনি পরীক্ষা নিয়ে যতবেশি আতঙ্কিত হবেন আপনার মানসিক অবস্থা ততবেশি খারাপের দিকে যাবে। তাই পরীক্ষা নিয়ে যতোটা পারেন শান্ত থাকতে চেষ্টা করুন। যদি পরীক্ষার কোনো প্রশ্ন আপনার কমন না পড়ে বা আপনার মাথা থেকে প্রশ্নের উত্তর বের হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে উত্তেজিত না হয়ে লম্বা শ্বাস নিন আর ভালো করে দেখুন প্রশ্নপত্রে হয়তো এমন কোনো প্রশ্নও আছে যেটা আপনি সহজেই উত্তর করতে পারেন। আর যদি একান্তই কিছু মনে না পড়ে তাহলে কিছুটা সময় নিয়ে আপনার সাধ্য মতো মনে করার চেষ্টা করুন। অনেকেই সারাবছর ঠিকঠাক না পড়ে পরীক্ষার আগের রাত বা পরীক্ষার দিন সকালে সবটা একেবারে পড়ে শেষ করতে চান, শেষ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না আপনার পরীক্ষা ভীতির আরও একটি অন্যতম কারণ আপনার এই অভ্যাস হতে পারে। আমাদের মস্তিষ্ক এমন কোনো বিশেষ উপাদানে বানানো নয় যাতে করে আপনার পরীক্ষার দিন সকালের একবারের পড়ায় সমস্ত পড়া একেবারে মনে থাকবে। তাই পরীক্ষা ভীতি কমাতে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিনই শেষ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরীক্ষা ভীতির আরও একটি অন্যতম কারণ হতে পারে না বুঝে পড়া। আমরা অনেকেই না বুঝে কেবল পড়া আগাগোড়া মুখস্থ করার প্রতি বেশি গুরুত্ব প্রদান করি। যার প্রভাব পড়ে পরীক্ষার ওপর, দেখা যাচ্ছে পরীক্ষার সময় আপনার মুখস্থ পড়া আর কোনো কাজে আসছে না। কিন্তু আপনি যদি পড়া বুঝে পড়তেন তাহলে পরীক্ষার হলে পড়া মনে না পড়লেও আইডিয়া থেকে ঠিকই লিখতে পারবেন। তাই পরীক্ষা ভীতি কমাতে মুখস্থ পড়া বাদ দিয়ে বুঝে পড়ার অভ্যাস করুন। পরীক্ষা ভীতি দূর করতে আপনার আরও একটি কার্যকর পদ্ধতি হলো যখনই পড়তে বসবেন মনোযোগ কেবল পড়ার প্রতি রাখতে চেষ্টা করবেন। পড়তে বসার সময় টিভি, মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক সবটা বন্ধ রাখুন। আর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাইমার ফিক্সড করে রাখুন। টাইমলি পড়া শেষ করে একটা বিরতি নিন। দেখবেন পড়া ভুলে যাওয়া সমস্যা আর থাকছে না। আর যখন পড়া ভুলে যাবেন না তখন পরীক্ষা ভীতিও থাকবে না।
পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় শেষ হয়ে যাওয়া পরীক্ষা নিয়ে আর বেশি মাথা ঘামাবেন না। হতেই পারে আপনার বিগত পরীক্ষা খারাপ হয়েছে কিন্তু আগামী পরীক্ষাগুলো ভালো মতো দিতে চাইলে খারাপটা নিয়ে বেশি না ভাবাই উত্তম। দেখা যাচ্ছে বেশি ভাবার ফলে পরেরবার পরীক্ষা হলে আপনার মধ্যে পরীক্ষা ভীতি কাজ করছে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ