Home > শিক্ষাঙ্গন > কোচিং ফাঁদে শিক্ষার্থীরা

কোচিং ফাঁদে শিক্ষার্থীরা

সরকারি আইন অমান্য করে কোচিং বাণিজ্যে তৎপর হয়ে উঠেছে রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় স্কুলের শিক্ষকরা। ক্লাস পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে বাধ্য করে বাসায় বা নিজেদের কোচিং সেন্টারে পড়াচ্ছে। শিক্ষকদের এই কোচিং সেন্টারে না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাই সুনজরে আসার জন্য বাধ্য হয়েই কোচিংয়ে ব্যাচ করে স্কুল শিক্ষকদের কাছে তাদের সন্তানদের পড়াতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

সরেজমিন অনুসন্ধানকালে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ব্যাচভিত্তিক পড়ানো, মডেল টেস্ট নেয়া, বড় আকারের কোচিং ইত্যাদি নানা স্টাইলে চলছে বেআইনী কোচিং। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীপ্রতি সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। এতো টাকা নেয়া হলেও সপ্তাহে প্রতি ব্যাচ মাত্র তিনদিন পড়ান শিক্ষকেরা। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের কোচিংপাড়া হিসেবে খ্যাত শাহজাহানপুর এলাকা। উত্তর শাহাজানপুরের অন্তত শতাধিক বাড়ি, দক্ষিণ শাহজাহানপুরের শিল্পী হোটেলের গলি, বেনজির বাগান, মুগদাপাড়া শাখা, বনশ্রী এলাকায়ও অনেকেই পড়িয়ে থাকেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাচ ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে শিক্ষার্থী পড়ানো হয়। শিক্ষার্থীদের হৈ চৈ ও হুল্লোড়ে বাসাবাড়িতে বসবাস কঠিন হয়ে পড়ে। বাড়ির মালিকেরা ফ্যামিলি ভাড়াটিয়ার চেয়ে তুলনামূলক বেশি ভাড়া পান কোচিং সেন্টারকে বাসা দিয়ে। এরমধ্যে কেবল শাহজাহানপুর এলাকায় এ ধরনের শতাধিক ভবনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশিরভাগই পরিচালনা করছেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকরা।

দেখা গেছে, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ব্যাচে কোচিং দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো শিক্ষক একাই ৩০০ থেকে ৭০০ ছাত্রছাত্রী পড়ান। প্রতিটি ব্যাচ সপ্তাহে তিনদিন পড়ছে। ব্যাচ পড়াতে কয়েকটি ফ্ল্যাটে শিক্ষকদের প্রস্তুতিও রীতিমতো নজরকাড়া। উত্তর শাহজাহানপুর এলাকায় দেখা যায়, খিলগাঁও ফ্লাইওভারের শাহজাহানপুর অংশে গোড়ায় পশ্চিমপাশে ৬১০ নম্বর বাড়িতে পুণম ফার্নিচারের দোতলায় ৭/৮জন শিক্ষক কোচিং পসরা নিয়ে বসেছেন। ভেতরে গিয়ে মনে হল কোনো স্কুল সেটা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গিয়ে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষক আবদুল জলিল একটি কক্ষে টেবিল নিয়ে বসে আছেন। কয়েকশ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সেখানে গিজ গিজ করছে। আবদুল জলিল প্রতিদিনের সংবাদেনর এই প্রতিবেদককে প্রথমে বলেন, তিনি নবম-দশম শ্রেণির কমার্সের শিক্ষক। স্কুলে কমার্সে শিক্ষার্থী নেই। তাই তিনি কোনো কোচিং করান না। পরে তার টেবিলে দেখা যায়, তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বিষয়ের মডেল টেস্টের প্রশ্ন এবং চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের গণিতের স্পেশাল মডেল টেস্টের পরীক্ষার সময়সূচি। ‘বার্ষিক পরীক্ষা-২০১৬’ লেখা এই সময়সূচিতে ৬ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর কবে কোন বিষয়ে মডেল টেস্ট নেয়া হবে- সে তথ্য। নীচে লেখা আছে, এ বাবদ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেড় হাজার টাকা করে দিতে হবে। তবে যারা তার কোচিংয়ের ছাত্র তাদের ৫০০ টাকা দিলেই চলবে। বি: দ্র: দিয়ে লেখা আছে- সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত যে কোনো সময়ে শিক্ষার্থীরা মডেল টেস্ট দিতে পারবে। শিক্ষক জলিল নিজেই এই সময়সূচি এই প্রতিবেদকের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, সরকার বেতন বাড়িয়ে দিক কোচিং আর করাব না। এভাবে কোচিং করানো সম্মানজনকও নয়। ‘সরকার তো দ্বিগুণ করেছে বেতন’- এমন কথার জবাবে তিনি বলেন, এতে হয় না। যা বাড়িয়েছে তার বেশি ট্যাক্স নিচ্ছে। বাসা ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবদুল জলিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মিনি স্কুলে তিনি একা আইডিয়াল স্কুলের নন বরং নিগার সুলতানা, আবদুস সালাম, মোতালেব, জয়নাল আবেদীন, আলী নেওয়াজ আল করিম এবং মতিঝিল মডেল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক কবির হোসেনসহ আরও কয়েকজন পড়ান। তিনি বলেন, ওই এলাকায় কেবল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষকদেরই আরও কয়েকশ বাড়িতে কোচিং সেন্টার আছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল ও কলেজে গত ২৫ অক্টোবর টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে ওয়ারেসুল ইসলাম হিমেল নামে এক ছাত্রকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেন রসায়নের শিক্ষক ফখরুদ্দীন। আহত হিমেল এবং তার মা জেসমিন নাহারের অভিযোগ, ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় এভাবে কাঠের বেতন দিয়ে পেটানো হয়। হিমেল দশম শ্রেণিতে ওঠার পর থেকেই মূলত এই শিক্ষক প্রাইভেট পড়ার জন্য চাপাচাপি করছিলেন।

উত্তর শাহজাহানপুর ৪৯১/সি নম্বর বাড়িতে মিনি স্কুল খুলে বসেছেন মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম। ছোট্ট কক্ষে ৮-১০টি লো-হাই বেঞ্চ পাতা আছে। সেখানে ২০-২৫জন ছাত্রকে দেখা গেছে। অভিভাবক পরিচয়ে এই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বাসার পেছনে নিয়ে যান। এরপর বলেন, ‘আপনাদের দেখে মনে হচ্ছে অভিভাবক নন। অভিভাবকদের পীড়াপীড়িতে আমি অল্প কজনকে পড়াই।’

শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য সম্পর্কে অভিভাবকরা মুখ খুলতে চান না। এই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ও কেন্দ্রীয় অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘আইড

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ