Home > শিক্ষাঙ্গন > ভূমিকম্পে ক্ষতি: পাবনায় ৬১ স্কুলের পাঠদানে বিপর্যয়

ভূমিকম্পে ক্ষতি: পাবনায় ৬১ স্কুলের পাঠদানে বিপর্যয়

নিজস্ব প্রতিনিধি
জনতার বাণী,
পাবনা: সাম্প্রতিক
ভূমিকম্পে পাবনার নয়
উপজেলায় ৬১টি সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
ভবন ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। জেলা
প্রাথমিক শিক্ষা
কার্যালয় এসব ভবনকে
ব্যবহার অনুপযোগী বলে
ঘোষণা করেছে।
এর ফলে প্রায় ১২ হাজার
শিশু শিক্ষার্থী
ঝুঁকি নিয়ে এসব ভবন ও
খোলা আকাশের নিচে
ক্লাস করছে। এতে
শিক্ষা কার্যক্রম
মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক
শিক্ষা কর্মকর্তার
কার্যালয় সূত্র
জানায়, জেলার নয়
উপজেলায় ১ হাজার
১২৪টি সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয় রয়েছে। গত
২৫ এপ্রিল ভূমিকম্পে
এসব বিদ্যালয়ের ৬১টি
ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর মধ্যে সদর উপজেলায়
১৪টি, সুজানগরে সাতটি,
চাটমোহরে আটটি,
সাঁথিয়ায় নয়টি,
ঈশ্বরদীতে দুটি,
বেড়ায় পাঁচটি,
ফরিদপুরে চারটি,
আটঘরিয়ায় আটটি ও
ভাঙ্গুড়ার চারটি
বিদ্যালয় ভবন রয়েছে।
ভূমিকম্পে এসব ভবনের
দেয়ালে ফাটল দেখা
দেয়। পলেস্তারা খসে
পড়ে। প্রায় ১২ হাজার
শিশু এসব বিদ্যালয়ে
পড়ালেখা করে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তারা
এখন ক্লাস করতে চাইছে
না।
কার্যালয়ের
কর্মকর্তারা পরিদর্শন
শেষে ক্ষতিগ্রস্ত
বিদ্যালয়ের তালিকা
প্রাথমিক শিক্ষা
অধিদপ্তর রাজশাহী
বিভাগীয় উপপরিচালকের
কার্যালয়ে
পাঠিয়েছেন। কিন্তু
এখনো ভবনগুলো মেরামত ও
নতুন ভবন তৈরির উদ্যোগ
নেওয়া হয়নি।
সোমবার সরেজমিনে
পাবনা সদর ও আটঘরিয়া
উপজেলার সাতটি
বিদ্যালয় ঘুরে দেখা
যায়, অধিকাংশ
বিদ্যালয়ই ১৯৯৫-১৯৯৬
অর্থবছরে স্থানীয়
সরকার প্রকৌশল
অধিদপ্তরের (এলজিইডি)
অর্থায়নে নির্মিত।
কিছু ভবনের দেয়ালে
বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি
হয়েছে। পলেস্তারা
খসে পড়েছে। কিছু
ভবনের বিমের রড বের হয়ে
গেছে। বিকল্প না
থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ
কিছু ভবনেই শিশুদের
পাঠদান করানো হচ্ছে।
আটঘরিয়ার হাপানিয়া
সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে দুটি ভবনই
ব্যবহারের অনুপযোগী
হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই
ঝুঁকি নিয়ে একটি
কক্ষে বসে আছেন
শিক্ষকেরা। আর শিশুদের
বসানো হয়েছে
স্কুলের খোলা মাঠে।
রোদ্রের খরতাপের
মধ্যেই শিশুরা ক্লাস
করছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়,
ভূমিকম্পের সময় ছাদের
পলেস্তারা খুলে
পড়ে। এরপর ভয়ে কয়েক
দিন তারা স্কুলে
আসেনি। পরে বাইরে
ক্লাস করার ব্যবস্থা
করায় আবার আসছে।
কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা
জানান, দেশের অধিকাংশ
পাকা ভবনের
স্থায়িত্ব থাকে ৫০
থেকে ১০০ বছর। কিন্তু
নির্মাণের মাত্র ২০
বছরেই এসব বিদ্যালয়ের
ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী
হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা এসব ভবনে
বসে ক্লাস করতে চাইছে
না। বহু শিক্ষার্থী
স্কুলে আসা বন্ধ করে
দিয়েছে। যারা আসছে
তারাও সারাক্ষণ ভয়ে
ভয়ে থাকছে।
হাপানিয়া সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক আবদুস
সালাম বলেন, তার
বিদ্যালয়ের পাঁচটি
শ্রেণিতে
শিক্ষার্থীর সংখ্যা
প্রায় ২৫০ জন।
ভূমিকম্পের পর সবাই
স্কুলে আসা বাদ
দিয়েছিল। এরপর বাইরে
ক্লাস করানোতে কিছু
শিক্ষার্থী আসছে। তবে
এখনো ৩০ শতাংশ
শিক্ষার্থী অনুপস্থিত
থাকছে। বিষয়টি
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে
জানিয়েছি। কিন্তু
এখনো ভবন মেরামত বা নতুন
ভবন তৈরির কোনো
উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে
কীভাবে স্কুল চালাব,
তা নিয়ে খুব
দুশ্চিন্তায় আছি।’
জেলা প্রাথমিক
শিক্ষা কর্মকর্তা
আবদুস সালাম বলেন,
‘আমরা সরেজমিনে
ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের
তালিকা করে ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের কাছে
পাঠিয়েছি। বরাদ্দ
এলেই এসব স্কুলে নতুন
ভবন তৈরি করা হবে।
বিকল্প হিসেবে কিছু
স্কুলে টিনের ঘর তুলে
ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।’
এলজিইডি পাবনা
কার্যালয়ের নির্বাহী
প্রকৌশলী আবদুল কাদের
বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে
স্বল্প ব্যয়ে
প্রাথমিক বিদ্যালয়
নির্মাণ প্রকল্পে কিছু
ভবন নির্মাণ করা
হয়েছিল। এসব ভবন
ভূমিকম্প সহনীয় ছিল
না। ফলে এ অবস্থার
সৃষ্টি হয়েছে। আমরা
পর্যায়ক্রমে এসব ভবন
ভেঙে চারতলার ভিত্তি
দিয়ে ভূমিকম্প সহনীয়
নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু
করেছি। সবগুলো স্কুলেই
নতুন ভবন তৈরি করা হবে।’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ