Home > শিক্ষাঙ্গন > পিইসি-জেএসসি বাতিল: কার্যকর কৌশল তৈরির পরামর্শ শিক্ষাবিদদের

পিইসি-জেএসসি বাতিল: কার্যকর কৌশল তৈরির পরামর্শ শিক্ষাবিদদের

করোনার কারণে চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি), ইবতেদায়ি, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা বাতিল করেছে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকরা।

তবে, শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি মূল্যায়ন পদ্ধতি রাখা উচিত, যেন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনামুখী রাখতে সরকারকে কার্যকর কৌশল নিতে হবে বলেও মনে করেন তারা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রবিন মজুমদার নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা সিরাজ আলী মজুমদার বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থায় সরকার পরীক্ষা না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানাই।’

মাসুদুল হক নামের আরেক অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো। তবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যে ক্ষতি হচ্ছে, সে ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমে যে পাঠপ্রক্রিয়া, তা অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই পৌঁছাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের যে তদারকি করা দরকার, তাও যথাযথভাবে হচ্ছে না।’
মাইনুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় ভালো লাগছে। বাসায় শিক্ষক এসে পড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি যে পাঠ দিচ্ছেন, সেগুলো নিয়মিত পড়ছি।’

আরেক শিক্ষার্থী রিয়াজুল করিম রাফি জানান, ‘বাসায় টেলিভিশনের পাঠ দেখছি। আর পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো মা-বাবা পড়াচ্ছেন। ’

রোসাংগিরী আহমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের অবস্থা সংকটাপন্ন। এই অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করলে শিক্ষার্থীরা অনেকটাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ হয়েছে বলে মনে করি।’

জানতে চাইলে চন্দনা উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক জোবায়দা নিশাত বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে না করোনা কারণে। সরকারও পরীক্ষা বাতিল করেছে। তবে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বাসায় পড়াশোনা করছে না বলে আমি মনে করি। এক্ষেত্রে তদারকির বিষয়টি আমাদের সব শিক্ষকদের আরও জোরদার করা উচিত। ’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা এম এ খায়ের বলেন, ‘সারাদেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরও অনেক শিক্ষক জড়িত রয়েছেন এ পরীক্ষার আয়োজনে। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে এসে যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে, তার সঙ্গে পরিবার ছাড়াও হলের শিক্ষার্থী, শিক্ষকও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সব কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা বাতিল ছাড়া কোনো বিকল্প পথ ছিল না।’

প্রায় একই অভিমত জানালেন শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীদের একটি জাতীয় পরীক্ষার সম্মুখীন করা ঠিক হবে না। সরকার সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিয়েছে।’ তবে, খুদে শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে পিইসি ও ইবতেদায়ীর মতো এ জাতীয় পরীক্ষা একেবারে বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই পিএসসি-জেএসসি থেকে শুরু করে শিশুদের এ জাতীয় পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়। এতে তাদের মানসিক চাপ তৈরি হয়। উন্নত বিশ্বে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ’ পাবলিক পরীক্ষা না নিয়ে তাদের জন্য আলাদা মূল্যায়ন ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ