Home > শিক্ষাঙ্গন > গোপালগঞ্জে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছে। শিক্ষার্থীরা অমরণ অনশন শুরু করেছে। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নানা নাটকীয়তার পর বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাক্ষরিত এক আদেশে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেন। সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে বুধবার জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভিসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আজ সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে অমরণ অনশন শুরু করে। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিক সমিতি দুপুর ১২টায় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে।

এদিকে, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে শিক্ষার্থীদের করা ১৪টি দাবি মেনে নিয়ে পত্র জারি করেছে।

সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় ও ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট, ভিসি ও অন্য শিক্ষকদের ফেসবুক আইডি হ্যাকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয় জিনিয়ার বিরুদ্ধে। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেন জিনিয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আকিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের ১৪ দফা দাবি মেনে নিয়ে অফিস আদেশ দেয়া হযেছে। ওই আদেশের ৪নং ক্রমিকে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাক-স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হবে এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ ছাড়া বহিষ্কার করা হবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে অপমান করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, ‘‘ভিসি আগেও শিক্ষার্থীদের এমন অনেক দাবি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্ত কোনো দাবি বাস্তবায়ন করেননি। তাই আমরা এমন ভিসি চাই না। আমরা তার পদত্যাগ চাই।’’

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী আঞ্জুমানারা বলেন, ‘‘ভিসি’র পদত্যাগ এটাই ছাত্র সমাজের একমাত্র দাবি।’’

ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন বলেছেন, ‘‘বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে লাইভ করে বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। রাতেই আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১৪টি দাবি মেনে নিয়েছি। সকালে ওই সব দাবি মেনে নিয়ে অফিস আদেশ ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও কেন আন্দোলন, তা আমি বুঝি না।’’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ