Home > শিক্ষাঙ্গন > প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরীক্ষায় স্বস্তি

প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরীক্ষায় স্বস্তি

সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চতুর্থ ধাপে কোনো প্রশ্নফাঁসের খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল শুক্রবার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাতেও কোনো প্রশ্নফাঁস হয়নি। তবে প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এমনকি প্রথম দুই ধাপের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনও করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে পরের দুটি ধাপে প্রশ্নফাঁসহীন পরীক্ষা দিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সারা দেশের সকল নিয়োগপরীক্ষা এমন হলে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারতো। বিনা দ্বিধায় চাকরির প্রতিযোগিতায় নিজেকে দাঁড় করাতে পারতো।

জানা যায়, সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনে ১৩ হাজারের মতো শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত বছরের ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেয়া হয়। এতে ২৪ লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন।

কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ছাড়া সারা দেশের সবগুলো জেলায় ৪ ধাপে এ পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ মে প্রথম ধাপে ২৬ জেলায় একসাথে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

৩১ মে সারা দেশের ২৬টি জেলায় দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর এই দুই ধাপের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দুই ধাপের পরীক্ষা বাতিলের জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ করা হয়। আন্দোলনকারীরা এখনো প্রথম দুই ধাপের পরীক্ষা বাতিল চান।

এদিকে প্রথম ধাপে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সতর্কতা অবলম্বন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নফাঁস রোধে নতুন করে চার পদক্ষেপ নেয় তারা। এগুলো হলো— একই জেলার প্রশ্ন প্রণয়ন ও প্রিন্টিং কাজের জন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে না।

অন্য জেলায় কর্মরতদের দিয়ে এসব কাজ করা হবে। আগের মতো আর অভিন্ন প্রশ্ন সেট দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে পরীক্ষা নেয়া হবে না। দুই বা তিনটি জেলায় একটি অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রথম ধাপে ২৬টি জেলায় অভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন তখন বলেছিলেন, প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষার দিন সাতক্ষীরায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। এ কারণে পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা আয়োজনে আমরা আরও কঠোর অবস্থান অবলম্বন করছি। নতুন করে চারটি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপের পরও দ্বিতীয় ধাপে এসে প্রশ্নফাঁস ঠেকানো যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতও হয় মন্ত্রণালয়। পরে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আরও কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেয়।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপে এবং গতকাল অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। তবে নেত্রকোনা থেকে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৩১ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রীয় পৌর শহরের শামীম আহমেদ নামের এক ব্যক্তির বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

চক্রটির প্রধান মুন্নাফকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। নেত্রকোনার কেন্দ্রীয় থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, আটক ৩১ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে মুন্নাফ ও বুলবুল ছাড়া কারো নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আটক করা ব্যক্তিদের থানা-পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

ওসি বলেন, আটক করার সময় তাদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়। তারা ওই ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করছিলেন।

সহকারী পুলিশ সুপার কেন্দুয়া সার্কেল মাহমুদুল হাসান জানান, ওই চক্রটি শামীমের মিলে বিভিন্ন প্রশ্নপত্র যোগাড় করে ফাঁস করার চেষ্টা করছে বলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সর্বশেষ ধাপের পরীক্ষাতেও প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরাও।

তারা বলছেন, প্রথম দুই ধাপের পরীক্ষায় যেভাবে অনিয়ম হয়েছে; শেষ দুই ধাপে তার কিছুই হয়নি। মন্ত্রণালয়ও বলছে, তৃতীয় ধাপের মতো এ ধাপেও বড় কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি। দুই-একটা বিষয়ে অভিযোগ এলেও সেটা বড় ইস্যু নয়।

আরিফুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, প্রশ্ন দিতে একটু দেরি হলেও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। যা খুবই সন্তুষ্টির বিষয়।

আবুল কালাম রুমেল নামের এক পরীক্ষার্থী বলেছেন, পরীক্ষা প্রতিযোগিতামূলক। তবে যেহেতু প্রতিযোগী সংখ্যা ২৪ লাখেরও বেশি; তাই যোগ্য ও দক্ষরাই টিকবে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস হলে প্রতিযোগিতা আর থাকে না। তখন ভালো পরীক্ষা দিয়েও অনেকেই ছিটকে পড়ে।

সুমন কুমার নামে এক শিক্ষার্থী জানান, প্রশ্ন ভালো হয়েছে, সহজ হয়েছে। টেকার আশা করছেন তিনি। তার বিশ্লেষণ, প্রশ্ন কিছুটা সহজ হওয়ায় ভালো করতে হবে; তা না হলে টেকা কঠিন। টিকবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়ত টিকব। কিন্তু চাকরি হবে- এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। যেহেতু এখানে মৌখিক পরীক্ষা বড় একটি ফ্যাক্টর।

সানজিদা সোনি নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, গতবার ভাইভা ফেস করেও চাকরি হয়নি। এবারও পরীক্ষা ভালো দিয়েছি। তাছাড়া প্রশ্নফাঁস হওয়ার খবর যেহেতু শোনা যায়নি, তাই আশা করছি টিকবো।

আবদুল আলিম নামের একজন অভিভাবক বলেন, দেশের সব নিয়োগ পরীক্ষা যদি প্রশ্নফাঁসহীনভাবে হতো, তাহলে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা পরীক্ষা দিয়ে স্বস্তি পেতো। তবে প্রথম দুই ধাপের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

প্রথম দুই ধাপের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছেন এমন অন্তত ৪ জন পরীক্ষার্থী বলেন, যেহেতু তৃতীয় এবং চতুর্থ ধাপের পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি, এতে প্রমাণ হয় সরকার চাইলে সুষ্ঠু পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রথম দুই ধাপের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার দাবি জানান তারা।

চতুর্থ ধাপে ২৪টি জেলায় পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো— ঢাকা জেলার একাংশ, গাজীপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, নড়াইল, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, রংপুর, নওগাঁ, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ। এতে প্রায় ৫ লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ