Home > শিক্ষাঙ্গন > ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘সরকার ও প্রশাসনবিরোধী প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন বহন’ ও ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নুরউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত গত ৩০ মে জারি করা এক নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওই ১৪ শিক্ষার্থী হলেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের দিগন্ত লস্কর, শেখ মেহেদী হাসান, নিউটন মজুমদার; ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ৩য় বর্ষের ইসমাইল হোসেন রিয়াদ, সিকদার মাহবুব; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৩য় বর্ষের মো. নাজমুল হুদা, রথীন্দ্রনাথ বাপ্পী, মো. শিবলী সাদিক; ৪র্থ বর্ষের মো. সিরাজুল ইসলাম; লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের মো. মিথুন সোহাইন; ২য় বর্ষের সৌরভ সমাদ্দার; পরিসংখ্যান বিভাগের ২য় বর্ষের বিসালাত আহমেদ অর্ণব; আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের এস এম আব্দুল্লাহ কাফি ও ইংরেজি বিভাগের বুলবুল আহমেদ।

নোটিশ থেকে জানা গেছে, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অভিপ্রায়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকার ও প্রশাসনবিরোধী প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা, অতি উৎসাহী হয়ে আন্দোলন করার চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা লিখিতভাবে জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

গত ১৬ মে ‘ধানের ন্যায্যমূল্য চেয়ে’ মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল− ‘আর করব না ধান চাষ, দেখব এবার কী খাস’, ‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ’, ‘পাকা ধানে আগুন কেন’, ‘কৃষক মরে হীরক রাজার টনক কী নড়ে’, ‘ফসল জ্বললে জ্বলবে গদি’। তবে মানববন্ধন করার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না তা পত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রথীন্দ্রনাথ বাপ্পী বলেন, কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে করা মানববন্ধনে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়া হয়নি। একটি সিস্টেমের বিরুদ্ধে স্লোগান ও বক্তব্য দেয়া হয়েছিল। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অধিকারের কথা বলতে গেলেই এ ধরনের নোটিশ পাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও যৌন হয়রানির প্রতিকার চেয়ে কথা বলার কারণে নোটিশের মুখোমুখি হতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। আসলে নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অপর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা বলেন, ‘‘আমরা কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের জন্য মানববন্ধন করি। সেখানে না কি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছি। যে কারণে আমাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে, এটা সঠিক নয়।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভূইয়া বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসনবিরোধী প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন বহন’ ও ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার জন্য ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন করার কারণে নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। নোটিশে কারণ দর্শানোর বিষয়টি উল্লেখ করা আছে।’’

কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচি করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সব ধরনের কর্মসূচি করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি যদি না থাকে তাহলে যে কেউ যেকোনো কিছু করে বসবে। আমরা এদের অভিভাবক। যাই করুক অনুমতি নিয়েই করতে হবে।’’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ