কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়াকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে লেখালেখি ও অভিযোগ ছড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, বিভিন্ন আইডি থেকে যাচাইহীন ও প্রমাণহীন তথ্য প্রচার করে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জহুরুল ইসলাম হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দায়িত্ব নিঃসন্দেহে বহুমাত্রিক। প্রতিদিন রোগীদের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখা, চিকিৎসক ও কর্মীদের কার্যক্রম সমন্বয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সেবার মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন বিভাগ পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হয় তাঁকে। এর পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও নানা ধরনের প্রত্যাশা ও চাপ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে চাকরিপ্রত্যাশীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। অনেক প্রার্থীর প্রত্যাশা পূরণ না হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে কোনো ব্যক্তির আবদার পূরণ না হওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে—এমন অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট
প্রমাণ প্রকাশ্যে না থাকায় বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। গত দুই দিন ধরে তাঁকে নিয়ে ধারাবাহিক লেখালেখির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ, যাচাইহীন বক্তব্য কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা কোনো সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৯৮৯ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বর্তমানে ৫০০-এর বেশি শয্যাবিশিষ্ট একটি বৃহৎ চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়ার নাম উল্লেখ রয়েছে হাসপাতালের ইতিহাসে। তাঁর দায়িত্বকালে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে তাঁর ভূমিকা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা জরুরি।
২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২৭ সদস্যের র্যাপিড রেসপন্স টিম গঠনসহ সংক্রমণ মোকাবিলায় বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সে সময় পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া ২০২২ সালের নভেম্বরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের মাঠ কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে।
ইসলাম গ্রুপের আস্থার জায়গায় পরিচালক
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ইসলাম গ্রুপের কাছে একজন বিশ্বস্ত কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত। তাঁর সমর্থকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তথ্য-প্রমাণ ও বাস্তব কর্মপর্যালোচনার ভিত্তিতে বিষয়গুলো বিবেচনা করবে—এটাই প্রত্যাশিত।
অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিন, অপপ্রচার নয়
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার একটি অপরাধ বলে মনে করেন সেবাগ্রহিতা রোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা কিংবা একাধিক আইডিতে একই বক্তব্য প্রচারিত হওয়া কোনো অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ নয়।জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাজিতপুরসহ বৃহত্তর কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যক্তিগত বিরোধ বা অনলাইন বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে রোগীদের সেবার মান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়োগপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়াকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও অপপ্রচার একটি স্বার্থ হাসিলের পায়তারা





