শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

চাকরিচ্যুত সাবেক সেনা সদস্যের নেতৃত্বে ভুয়া এসআরবি চক্র

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাকরিচ্যুত সাবেক সেনা সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহরণের শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সুমন মুন্সি, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার মিজানুর রহমান, উখিয়া উপজেলার জয়নাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার আব্বাস উদ্দিন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা ছলিম ওরফে সেলিম এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার দেলোয়ার হোসেন। তাদের মধ্যে সুমন মুন্সি চাকরিচ্যুত সাবেক সেনা সদস্য।

পুলিশ জানায়, চক্রটির সদস্যরা কালো পোশাক, এসআরবির ভুয়া পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডকাফ ব্যবহার করে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিতেন। এভাবে ব্যবসায়ীদের দোকান থেকে তুলে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রাখা হতো। পরে তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হতো। চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন সুমন মুন্সি। ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে বসেছিলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসান।

এ সময় কালো পোশাকের ওপর এসআরবি লেখা জ্যাকেট, মাথায় কালো ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করেন। তারা নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীর যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে ব্যবসায়ী নিজের পরিচয় দিলে তারা তার দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরান।

একপর্যায়ে তাকে টানাহেঁচড়া করে দোকান থেকে বের করে একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে তাকে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যান অপহরণকারীরা।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ওই দিন রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসতে থাকে। ফোনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর ভাই মো. হোছাইন বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top