Home > খেলাধুলা > মুশফিকের ‘বরিশাল অভিষেক’

মুশফিকের ‘বরিশাল অভিষেক’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের আমেজ এখনও আছে। সাকিব-মিরাজদের দুরন্ত পারফরম্যান্স এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে। তবে একটি প্রশ্ন সবার মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। তৃতীয় দিন চা-বিরতির পর বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেছিলেন কে? কাগজে-কলমে মুশফিকুর রহিম অধিনায়ক হলেও সে সময়ে সহঅধিনায়ক তামিমকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। আর তামিমের অধিনায়কত্বে এক সেশনে ইংলিশদের ১০ উইকেট তুলে নেওয়ার পর একটি বিষয় ভেবে দেখার সময় এসে গেছে বলেও মনে করেন অনেকে। মুশফিকের ওপর থেকে ভার কমিয়ে তামিমকে অধিনায়ক করে দেওয়া যায় কি-না! এমন একটি আলোচনা যখন চলছে তখনই কি-না বিপিএলে পরস্পরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক এবং সহঅধিনায়ক। নেতৃত্বের পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে বিপিএলের এ লড়াই। আজ দুপুর ২টায় মুখোমুখি হবেন দু’জন।

কাগজে-কলমে এবারের আসরের অন্যতম শক্তিশালী দল তামিমের চিটাগাং ভাইকিংস। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে আরও আছেন আবদুর রাজ্জাক, এনামুল হক বিজয়, জহুরুল ইসলাম অমি, তাসকিন আহমেদ, শুভাশীষ রায়, নাজমুল মিলনের মতো পরীক্ষিত পারফরমাররা। আসলে চিটাগাংয়ের দেশি তালিকাটা তেমন আহামরি কিছু নয়। তবে তাদের বিদেশি সংগ্রহ দারুণ। ডোয়াইন স্মিথ, শোয়েব মালিক, গ্রান্ট ইলিয়ট, তায়ামল মিলস, মোহাম্মদ নবি, জীবন মেন্ডিসের মতো তারকা ক্রিকেটার রয়েছেন চট্টগ্রাম শিবিরে। শেষ দিকে টি২০র সবচেয়ে বড় নাম ক্রিস গেইল যোগ দেবেন তামিমের দলে। সেদিক থেকে মুশফিকের বরিশাল বুলস কিছুটা পিছিয়ে। এর পরও দেশি ক্রিকেটারদের তালিকাটা তাদের মোটামুটি ভালোই। মুশফিক ও তাইজুলের সঙ্গে অভিজ্ঞ শাহরিয়ার নাফীস ও শামসুর রহমান শুভ আছেন। আল-আমিন, কামরুল ইসলাম রাবি্ব ও আবু হায়দার রনিকে নিয়ে গড়া তাদের পেস আক্রমণও বেশ ভালো। তবে তাদের বিদেশি সংগ্রহ খুব একটা সমৃদ্ধ নয়। ইংলিশ ব্যাটসম্যান জসুয়া কব, ডেভিড মালান, ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার রায়াদ এমরিত, শ্রীলংকার দিলশান মুনাবিরা তাদের ভরসা। ড্রাফটে তারা পাকিস্তানি অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজকে নিলেও তিনি নিউজিল্যান্ড সফরের পাকিস্তানের টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ায় আসতে পারছেন না। টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ ওভারে চারটি ছয় মেরে ক্যারিবীয়দের শিরোপা জেতানো কার্লোস ব্রাফেট আসবেন গ্রুপ পর্যায়ের শেষ দিকে।

তাই বলে মোটেও হতাশ নন বরিশাল বুলস অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম; বরং দেশি ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারে মনোযোগ তার, ‘সত্যি বলতে কি, আমাদের দলটা হয়তো কাগজে-কলমে অতটা শক্তিশালী নয়। এমন কোনো সুপারস্টার নেই। কিন্তু কার্যকরী কিছু খেলোয়াড় আছে যারা কি-না টি২০ ক্রিকেটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যেমন আল-আমিন জাতীয় দল এবং টি২০ সংস্করণে দেশের অন্যতম সফল বোলার। রনি গত বছর সর্বাধিক উইকেটশিকারি ছিলেন। রাবি্ব অনেক ভালো পেসার। আরও কিছু ব্যাটসম্যান আছে। স্পিনার তাইজুল আছে, মনির আছে, মেহেদিও ভালো অফস্পিন করে। আমার দল নিয়ে আমি অনেক খুশি। এখন নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলে ম্যাচের ফল আমাদের পক্ষে আসবে।’

তবে শক্তিশালী দল নিয়েও চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না তামিম ইকবাল। গত আসরেও তারা কাগজে-কলমে চমৎকার দল গড়েছিলেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সবার পেছনে ছিলেন তারা। এবার যেন তেমন কিছু না হয় সেটাই তামিমের সবচেয়ে বড় চিন্তা, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা খুব ব্যালেন্স একটি দল তৈরি করেছি। দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারে বেশ সমৃদ্ধ দল। তবে গতবারও দল হিসেবে খারাপ ছিলাম না। কিন্তু ভালো করতে পারিনি। যেটা আমি সব সময় বলে আসছি, আমাদের মাঠে ভালো খেলতে হবে। আমরা যদি দলগতভাবে ভালো খেলতে পারি তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব। আমাদের প্রথম লক্ষ্য টিম স্পিরিট তৈরি করা। একটা টিম হিসেবে খেলতে পারলে অবশ্যই এ বছর ভালো ফল আসবে।’ দল জিতলে তিনি নিজে রান না পেলেও মন খারাপ করবেন না তামিম।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ