Home > খেলাধুলা > বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পায়নি জিম্বাবুয়ে। ৮ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।

সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে এক ওভার বাকি থাকতে জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে যায় ১৭০ রানে। জবাবে তামিম ইকবালের অপরাজিত ৮৪ রানের সুবাদে ১২৯ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। ৯৩ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৮৪ রানের ইনিংসটি সাজান তামিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১৭১/২ (ওভার ২৮.৩)। (তামিম (৮৪*, বিজয় ১৯, সাকিব ৪৭, মুশফিক ১৪*; রাজা ২/৫৩)।

তামিমের দারুণ ফিফটি: ব্যক্তিগত ৪১ থেকে সিকান্দার রাজাকে টানা দুই চারে তামিম পৌঁছে যান ৪৯ রানে। এক বল পরই সিঙ্গেল নিয়ে পূর্ণ করেন ফিফটি। ৬৬ বলে ফিফটি করতে ৫টি চার মেরেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

রিভিউ নিয়ে সাকিবকে ফেরাল জিম্বাবুয়ে: সিকান্দার রাজার বলে শট খেলতে গিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বল সরাসরি আঘাত হানে তার প্যাডে। জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার চান রিভিউ। তাতে পাল্টে সিদ্ধান্ত। ৪৬ বলে ৫টি চারে ৩৭ রান করে ফেরেন তিনে নামা সাকিব। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ১৯.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান।

সাকিব-তামিম জুটির পঞ্চাশ: এনামুল হক বিজয়ের বিদায়ের পর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তামিম ও সাকিব। এরই মধ্যে তাদের জুটির পঞ্চাশ পেরিয়েছে। ৫৯ বলে এসেছে জুটির পঞ্চাশ।

আক্রমণাত্মক শুরুর পর বিজয়ের বিদায়: প্রায় তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমেছিলেন। শুরুটা ভালোই করেছিলেন এনামুল হক বিজয়। মুখোমুখি প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে খোলেন রানের খাতা। এরপর আরো তিনটি দারুণ চার মারেন। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। চতুর্থ ওভারে স্পিনার সিকান্দার রাজার শেষ বল ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্রেইগ আরভিনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১৪ বলে ৪টি চারে বিজয় ১৯ রান করে ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ৩০।

বোলিংয়ে দুর্দান্ত বাংলাদেশ: টস জিতে বোলিং নিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাল বাংলাদেশ। সাকিব ইনিংসের প্রথম ওভারেই নিয়েছিলেন দুই উইকেট। এরপর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে তারা। সিকান্দার রাজার ফিফটিতে অলআউট হওয়ার আগে কোনোমতে ১৭০ রান করতে পেরেছে সফরকারীরা। ৪৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। রুবেল ২৪ রানে ২টি ও মুস্তাফিজ ২৯ রানে নিয়েছেন ২টি উইকেট। সানজামুল ও মাশরাফি পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

১৭০ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে: ব্লেসিং বুজারাবানিকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ইতি টেনেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৪৯ ওভারে ১৭০ রানে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে।

জোড়ায় রুবেলের সেঞ্চুরি: পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়েছেন রুবেল হোসেন। দুটিই বোল্ড। পিটার মুরের (৩৩) পর বোল্ড হয়েছেন টেন্ডাই চাতারা। এই দুই উইকেটে মাশরাফির পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় পেসার হিসেবে একশ ওয়ানডে উইকেটের স্বাদ পেলেন রুবেল

রানে আউটে ফিরলেন রাজা: সিকান্দার রাজার লড়াকু ইনিংস থেমেছে রান আউটে। নাসির হোসেনের বল স্কয়ার লেগে ঠেলে সিঙ্গেল নিতে ছুটেছিলেন রাজা। কিন্তু নন স্ট্রাইকে থাকা পিটার মুর ফিরিয়ে দেন রাজাকে। বল ধরে দ্রুত মুশফিকের হাতে দেন সাকিব। মুশফিক ভেঙে দেন স্টাম্প, ততক্ষণে রাজা আর ফিরতে পারেননি। ৯৯ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৫২ রান করেন রাজা।

রাজার ফিফটি: সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়ছেন সিকান্দার রাজা। নাসির হোসেনের বলে চার মেরে ৯২ বলে ফিফটি করেছেন তিনি। এটি তার নবম ওয়ানডে ফিফটি।

ওয়ালারকে ফেরালেন সানজামুল: এক বল আগে নিজের বলে ম্যালকম ওয়ালারের ফিরতি ক্যাচ ছেড়েছিলেন সানজামুল। তবে এক বল পরই ওয়ারলারের উইকেটটা পান বাঁহাতি এই স্পিনার। স্লিপে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দেন জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান। দুইবার জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি ওয়ালার (১৩)। জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ তখন ৫ উইকেটে ৮১।

সহজ ক্যাচ ছাড়লেন নাসির: ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় পেসার হিসেবে একশ উইকেট নিতে রুবেল হোসেনের চাই ২ উইকেট। উইকেটের সেঞ্চুরির পথে নিজের প্রথম ওভারেই এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারতেন ডানহাতি পেসার। কিন্তু স্লিপে ম্যালকম ওয়ালারের সহজ ক্যাচ ফেলেছেন নাসির হোসেন। ৪ রানে জীবন পেয়েছেন ওয়ালার।


টেলরকে ফেরালেন মুস্তাফিজ: মুস্তাফিজের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ব্রেন্ডন টেলর (২৪)। জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ তখন ৪ উইকেটে ৫১। সিকান্দার রাজার সঙ্গে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন ম্যালকম ওয়ালার।

এবার মাশরাফির ছোবল: সাকিবের পর জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত হেনেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অষ্টম ওভারে ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বলে শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হয়ে ফিরেছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (১৫)। জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৩০।

৩ বলে ২ উইকেট সাকিবের: বোলিংয়ে শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশের। ওপেনিংয়ে বোলিংয়ে এসে প্রথম তিন বলের মধ্যে ২ উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারের দ্বিতীয় বলটা ছিল ওয়াইড, আর সেই বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে স্টাম্পড হয়েছেন সলোমন মিরে। তৃতীয় বলে মিড উইকেটে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্রেইগ আরভিন। জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ২! দুজনই ডাক মেরেছেন।

টস: বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিন পেসার নিয়ে বাংলাদেশ: মাশরাফির সঙ্গে দুই পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। রুবেল ও মুস্তাফিজকে নিয়ে সাজানো হয়েছে বোলিং আক্রমণ। সাকিবের সঙ্গে বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে নেওয়া হয়েছে সানজামুল ইসলামকে। একাদশে রয়েছেন সাত বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

তিন বছর পর ফিরলেন বিজয়: প্রায় তিন বছর পর ওয়ানডে খেলছেন এনামুল হক বিজয়। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০১৫ সালের মার্চে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, সানজামুল ইসলাম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে দল: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, সলোমন মিরে, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেলর, সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, ম্যালকম ওয়ালার, গ্রায়েম ক্রেমার (অধিনায়ক), ব্লেসিং মুজারাবানি, টেন্ডাই চাতারা, কাইল জার্ভিস।

বাংলাদেশ ৩৯ : ২৮ জিম্বাবুয়ে: বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে ৬৭ বার। এতে বাংলাদেশের জয় ৩৯টিতে, জিম্বাবুয়ের ২৮টি। দুই দলের শেষ দশ মুখোমুখিতে ২টি জয় জিম্বাবুয়ের, বাকি ৮টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ।

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পর: মিরপুর শের-ই-বাংলায় দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে খেলছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পর আবারো রঙিন পোশাকে মিরপুরে নামছে টাইগাররা। সবশেষ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। মাশরাফির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয়ও পেয়েছিল টাইগাররা।

আট বছর পর ত্রিদেশীয় সিরিজ বাংলাদেশে: আট বছর পর ত্রিদেশীয় সিরিজের আয়োজক বাংলাদেশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সবশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করেছিল শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে নিয়ে। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশ দল দুটি করে ম্যাচ খেলেছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দুটি ম্যাচই হেরেছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল শ্রীলঙ্কা।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ