Home > খেলাধুলা > গেইল তাণ্ডবে ফাইনাল থেকে এক পা দূরে রংপুর

গেইল তাণ্ডবে ফাইনাল থেকে এক পা দূরে রংপুর

মেঘলা আবহাওয়া ও মিরপুরের পূর্বের রেকর্ডের কথা মাথায় রেখে টস জিতে বোলিং নিতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করেননি রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর আগে রংপুর ১২ ম্যাচের ৭টিতে টস জিতেছিল। টস জেতা ম্যাচগুলোতে দলটির জয়ের রেকর্ড ভালো না আবার। ৭ ম্যাচে জয় মাত্র ৩টিতে!

দুই দলের প্রথম মুখোমুখিতে মাশরাফি টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে হেরেছিলেন ৯ রানে। আজ আবারও টস জয়। আবারও ফিল্ডিং নিলেন মাশরাফি। সমীকরণ, রেকর্ড মাশরাফির দলের বিপক্ষে! তারপরও সাহস দেখালেন মাশরাফি, রংপুর। কারণ সমীকারণ উলট-পালট করার জন্য ছিলেন ক্রিস গেইল।

আগের আট ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ৫১। নামের পাশে আর একটি হাফ-সেঞ্চুরি। সেই গেইল আজ তাণ্ডব চালালেন। ৫১ বলে করলেন ১২৬ রান। তার তাণ্ডবে পুড়ল খুলনা, জিতল রংপুর। আগে ব্যাটিং করে খুলনা করেছিল ১৬৭ রান। জবাবে ২৮ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় রংপুর। এ জয়ে শিরোপার স্বপ্ন এখনও টিকে আছে রংপুরের। আর খুলনা খুব কাছে এসেও আরেকবার ছিটকে গেল শিরোপার লড়াই থেকে।

রান করি করি করেও রান করতে পারছিলেন না গেইল। ৮ ম্যাচে রান মাত্র ২১০। দল তারপরও আস্থা রাখছিলেন তার উপর। সেটাই হলো। বড় ম্যাচে আস্থার প্রতিদান দিলেন গেইল। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া গেইল ৫১ বলে ১২৬ রানের ইনিংসটি সাজান ১৪ ছক্কা ও ৬ চারে।

শুরু থেকেই গেইল ছিলেন আগ্রাসী। ২৩ বলে তুলে নেন ফিফটি। মাত্র ৯টি বল খেলেন ডট। প্রথম দুই ওভারে গেইল তুলেছিলেন ২২ রান, দলীয় রান ২৪। তৃতীয় ওভারে জোফরা আর্চার বোলিংয়ে এসে রংপুর শিবিরে জোড়া আঘাত করেন। গেইলের নতুন সঙ্গী সোহাগ গাজী ১ রানে বোল্ড হওয়ার পরপরই ব্রেন্ডন ম্যাককালাম শূন্যরানে সাজঘরে ফিরেন।

অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখলেও মেজাজ হারাননি গেইল। মোহাম্মদ মিথুনকে সাথে নিয়ে শুরুতে উইকেটে সেট হন। এরপর চালানো শুরু করেন তাণ্ডব। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে রংপুরের রান ২ উইকেটে ৫৯। গেইলের রান ৪৫। লেগ স্পিনার মোহাম্মদ ইরফানের করা সপ্তম ওভারের প্রথম বলে লং অফ দিয়ে ছক্কা মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

পরের গল্পটা পুরোটাই গেইলের। ২৩ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর পরবর্তী ২২ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছান বিস্ফোরক এ ব্যাটসম্যান। ১৬তম ওভারে নাজমুল হোসেন শান্তর বল ডিপ মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠানোর মধ্য দিয়ে শান্ত হন গেইল। এর আগ পর্যন্ত ১৪ ছক্কায় মিরপুরের প্রায় ২০ হাজার দর্শক মাতিয়ে রাখেন। সাথে ছিল ৬টি চারের মার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মোহাম্মদ মিথুন। ৩৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩০ রান করেন উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যান।

এর আগে শুরু থেকেই মাশরাফির নিয়ন্ত্রিত বোলিং। প্রথম পাঁচ বলে কোনো রান নিতে পারেননি শান্ত। ষষ্ঠ বলে এক রান নিয়ে রানের খাতা খুললেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সোহাগ গাজীর বলে সুইপ করতে গিয়ে হাওয়ায় বল ভাসান। নিজের বোলিংয়ে নিজে ফিল্ডিং করে বল তালুবন্দি করেন সোহাগ গাজী।

ক্রিজে এসে এক চার ও এক ছক্কায় ভালো ইনিংসের সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন আফিফ হোসেন। কিন্তু বাজে এক শট খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট বিসর্জন দেন। লাসিথ মালিঙ্গার বলে স্লগ খেলতে গিয়ে ১১ রানে বোল্ড হন আফিফ। চারে নেমে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ দারুণ শুরু করেন। মালিঙ্গা ও অপুর বলে এগিয়ে এসে লং অন দিয়ে দুটি ছক্কা হাঁকান। ৫ বলে করে ফেলেছিলেন ২০ রান। কিন্তু ষষ্ঠ বলে আবারও শট খেলতে গিয়ে আউট ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। অপুর বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে লং অনে সোহাগ গাজীর হাতে ক্যাচ দেন।

ওপেনিংয়ে নামা মাইকেল ক্লিঙ্গার ছিলেন না ছন্দে। উইকেটে সেট হয়েও বড় কিছু করতে পারছিলেন না। ২৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে ২১ রান করে বোপারার এক ইয়র্কারে আউট হন। ৮২ রানে ক্লিঙ্গারের বিদায়ে কিছুটা চাপে পড়ে খুলনা। পঞ্চম উইকটে রানের চাকা সচল রাখেন নিকোলাস পুরান ও আরিফুল হক। দলকে টেনে নেন ১২২ রান পর্যন্ত। ওভার প্রতি ৬ করে রান তুললেও বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি আসছিল না তাদের জুটিতে। ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে আরিফুলকে আউট করে ‘খাল কেটে কুমির ডেকে আনেন’ রুবেল।

৩০ বলে ২৯ রান করে আরিফুল আউট হলে ব্যাটিংয়ে আসেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। ৯ বলে ২৫ রান তুলে ব্রেথওয়েট খুলনাকে এনে দেন লড়াকু পুঁজি। ৩ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো তার কার্যকরী ইনিংসে স্বপ্ন দেখছিল খুলনা। কিন্তু গেইলের রান করার দিন কি অন্য কেউ স্বপ্ন দেখতে পারে?

বোলিংয়ে দারুণ ছিলেন মাশরাফি। উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে খরচ করেন মাত্র ২৩ রান। তবে সর্বোচ্চ ২ উইকেট পাওয়া লাসিথ মালিঙ্গা ছিলেন সবথেকে খরুচে। ৪ ওভারে ৪৯ রানে ২ উইকেট নেন দলে ফেরা মালিঙ্গা। ১টি করে উইকেট নেন গাজী, অপু, রুবেল ও বোপারা।

ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে এক পা দূরে রংপুর রাইডার্স। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ঢাকা ডানমাইটসের ম্যাচের পরাজিত দল।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ