Home > রাজনীতি > ৫ জানুয়ারি বিএনপির জন্য ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস’

৫ জানুয়ারি বিএনপির জন্য ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস’

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের জন্য গণতন্ত্রের বিজয় দিবস আর বিএনপির জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ কর্মীরা মাঠে নামে না। আর বিএনপির কর্মীদের ক্ষোভ নেতারা মাঠে নামে না। তাদের নেতারা বলে কর্মীরা মাঠে না আর কর্মীরা বলে নেতারা মাঠে না।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, তাদের নেতারা ঘরের এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে হিন্দি ছবি দেখে সময় কাটায়। আর বসে বসে পুলিশের গতিবিধি গরম না নরম সে খবর নেয়।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের জন্য গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। আর বিএনপিরজন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস অর্থাৎ পলিটিক্যালি সুইসাইড দিবস।

বিএনপি আগামী নির্বাচনে না অংশ না নিলে বিরল প্রজাতির প্রাণির মতো হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেনের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭৩ সালে আপনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। আপনি নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি সেদিন অবৈধ এমপি ছিলেন? নিজের মুখটা আয়নায় দেখার চেষ্টা করেন। সারা পৃথিবীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে কেউ অবৈধ হয় না। আওয়ামী লীগ সরকারও অবৈধ নয়।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই হবে দাবি করে তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে বিলীন হয়ে যাবে মুসলিম লীগের মতো। তাদের সামনে কোনো পথ খোলা নেই।

পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে! তবে তিনি যদি না ওঠেন তাহলে ফেরিতে উঠতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, সেতু করতে হলে তো জোড়াতালি লাগবেই। জোড়া ছাড়া সেতু হয় না। কিন্তু উনি কী বলছেন, কেউ উঠবেন না। সেতুতে সকলে উঠবে। আর তিনি যদি না ওঠেন তাহলে ফেরিতে করে যেতে পারেন।

আসলে বেগম জিয়ার মাথাটা বোধহয় মামলায় হাজিরা দিতে দিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

দেশে গণতন্ত্র নেই বেগম জিয়া এবং ড. কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আইপিইউ ও সিপিইউ বাংলাদেশের সংসদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু স্বীকৃতি নয় বাংলাদেশকে এই দুটি সংস্থার প্রধান নির্বাচিত করেছে। তাহলে কি গণতন্ত্রের সংকট আছে? আপনারা নির্বাচনে অংশ নেননি। সেটা কি গণতন্ত্রের দোষ।

সময় আর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না দাবি করে কাদের বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। নির্বাচেনর ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না। এবার যদি মিস করেন তাহলে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মিস হয়ে যাবে।

বিগত সময়ে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের হুমকির প্রতি কটাক্ষ করে কাদের বলেন, আন্দোলন হবে কোন বছর মানুষ বাঁচে কয় বছর। মরা গাঙ্গে জোয়ার আর আসে না। এই নয় বছরেও আসেনি আর আন্দোলনের ভাঙা হাট জমবে, এটা কেউ বিশ্বাস করবে? আন্দোলনের ভাঙা হাট আর জমবে না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশর উন্নয়ন অর্জনের ধারা ধরে অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনার সরকারকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কার্যনির্বাহী সদস্য আমিরুল আলম মিলন প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী, দিলীপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ কামাল, গোলাম আশরাফ তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক গোলাম রাব্বনী বাবলু, সহদপ্তর সম্পাদক মিরাজ হোসেন, সদস্য নার্গিস আকতার, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণের সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ দক্ষিণের সভাপতি বায়োজিদ আহমেদ খান প্রমুখ।

যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন মহানগর দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন এবং সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মামুনুর রশিদ শুভ্র।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ