Home > রাজনীতি > নিরপেক্ষ সরকার ও সেনা মোতায়েন চান খালেদা জিয়া

নিরপেক্ষ সরকার ও সেনা মোতায়েন চান খালেদা জিয়া

 

শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে না জানিয়ে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পুনর্ব‌্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করার এবং বিতর্কিত ইভিএম পদ্ধতি প্রয়োগ না করার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে রোববার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজ ঘরে ঘরে কান্না ও আহাজারি। এই সরকারের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়, এই সরকারের পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে। সেজন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। যে নির্বাচনে মানুষ নির্দ্বিধায় ভোট দিতে যাবে এবং তাদের ভোট তারা যাকে পছন্দ তাকে দেবে। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তারা কি ধরনের চুরি করেছে তা সবাই দেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পেশাজীবীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, শিক্ষক সংগঠনগুলোর ভোটেও তারা একই কাজ করেছে। চুরি করে জনগণকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনে জয়লাভে কোনো আনন্দ নেই। এরপরও তারা নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে। কারণ, তারা জনগণকে ভয় পায়।

আপনারা যদি জনগণের পালস বোঝেন যে তারা কি চাচ্ছে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব‌্যবস্থা করুন। জনগণ চাচ্ছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।’

ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘মাঠে আপনারাও যাবেন, আমরাও যাবো। চ্যালেঞ্জ করছি একটি জায়গায় আপনারা সভা করেন, আমরাও করছি, দেখি কাদের কতো লোক আছে। জনগণই আমাদের শক্তি। তাদের নিয়ে আমাদের পথচলা।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের এতো ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঝে মাঝে সত্য কথা বলেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। তবে আপনাদের শুদ্ধ করবো। যে খারাপ কাজ করেছেন তা বাদ দিয়ে আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাবো।’

বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চায় জানিয়ে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে সে জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনের সংষ্কারের জন্য আমাদের কিছু কথা ইসিকে বলে এসেছি। বলেছি, যদি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে হয় তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আজকে নির্বাচন কমিশনকে বলি, সেনা মোতায়েন করতে হবে, ইভিএম হবে না। শুধু মেতায়েন করলে হবে না। সেনা টহল যাতে হয়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনারদের বলতে চাই, অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীও থাকতে পারে এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে বলে মন্তব‌্য করেন বিএনপি নেত্রী।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছিলো আওয়ামী লীগ ও  জামায়াতের। তার জন্য তারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছে, রাস্তাঘাট বন্ধ রেখেছে, হরতালের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এমনকি ইট দিয়ে পুলিশের মাথা থেতলে দিয়েছে, অফিসগামী বয়স্ক লোককে তারা দিগম্বর করেছে, সমুদ্রবন্দর দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছে, যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন দিয়ে মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে।’

নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেশের মানুষ কি চায় সেটা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালে কোনো নির্বাচন হয় নাই। তাহলে কি করে এই সরকার বৈধ সরকার। এই সরকার ও সংসদ অবৈধ। এই সংসদে কোনো বিরোধী দল নেই। যারা বিরোধী দল তাদের নেতারা মন্ত্রী হিসেবে সরকারেরও আছে আবার বিরোধী দলেও আছে। সুতরাং কোনো বিরোধী দল নাই।’

প্রধান বিচারপতিকে জোর করে পদত‌্যাগ করানো হয়েছে
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে দেশে বিচার বলে কিছু নেই। বিচারবিভাগ বলতে কিছু নেই। প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত জোর করে অসুস্থ বানিয়ে জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বিদেশে সরকারের এজেন্সির লোক পাঠিয়ে তাকে চাপ দিয়ে পদত‌্যাগপত্র নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন দেশে ফিরে আসতে। কিন্তু তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কিছু সত্য কথা বলেছেন।’

বিএনপি জবাবদিহিতামুলক সংসদ চায়
একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতামুলক সংসদ সম্ভব উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ‌্যমে তা হতে পারে। আমি আপনাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে চাই, হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? আপনারা ভোট দিতে পারবেন? আমি বলছি, পারবেন না।’

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চায় বিএনপি
বিএনপি সাংঘর্ষিক রাজনীতির পরিবর্তে ঐক্যের রাজনীতি চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য কিছু কাজ করতে চাই। সংঘর্ষের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তারা এই জনসভাকে ভণ্ডুল করতে চেয়েছে। এরপরও আজ নীরবে আমরা এই সভায় উপস্থিত হয়েছি। আমরা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। কিন্তু আলাপ আলোচনা ছাড়া তা সম্ভব নয়। আমরা জবাবদিহিতামুলক সংসদ দেখতে চাই, যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনা করবে, কোনো সমস্যা হলে সমাধান করবে।’

সরকারি চাকুরিজীবীদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার হয়তো আপনাদের বলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের চাকরি যাবে, মামলায় হয়রানি শিকার হতে হবে। কিন্তু তা হবে না। আমরা আগেই বলেছি আমরা হিংসাত্মক রাজনীতি করি না।’

‘সরকারি আদেশ নিষেধ মেনে চলাই আপনাদের দায়িত্ব। দলীয় পরিচয় নয়, আমরা দেখবো সরকারি চাকরিতে কে কতটা যোগ্য। সেখানে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ বলতে কিছু নেই। যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে তাদের পদোন্নতি হবে। আপনারা নির্ধিদ্বায় কাজ করতে পারেন।’

কথা রাখে নি সরকার
আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা রক্ষা করেনি দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই সরকার দেশকে শেষ করে দিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলো, ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। আজ ৭০ টাকায় মানুষ চাল খাচ্ছে। কেন, জনগণ জবাব চায়, জানতে চায়। ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু চাকরি দেয়নি। চাকরি না দিয়ে ঘরে ঘরে বেকার সৃষ্টি করেছে।’

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সবজি ও জিনিষের দাম ৭০-৮০ টাকা কেজির নিচে নয়। পেঁয়াজ একশ টাকা। প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এই অবস্থায় আবার বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের জীবন আজ দুর্বিসহ। তারা কথা দিয়েছিলো, বিনামুল্যে সার দেবে। বিনামুল্যে সার তো তারা দেয়-ই নি বরং কৃষককে বিএনপির সরকারের আমলের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষকরা আজ মহাদুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তারা কৃষি উপকরণ পাচ্ছেন না। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে চাল-ধান কিনছে না। ক্ষমতাসীনদের টাউট-বাটপাররা কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল কিনছে। শ্রমিকদেরও একই অবস্থা, তাদের ওপরও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন কিন্তু তারা তা করছে না।’

এ সময় তিনি শেয়ার বাজারে ধস, ব্যাংকে লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। সরকারের মন্ত্রী এমপিরা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন।

দুদকের সমালোচনায় খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। এটা আমাদের হিসাব নয়, আমেরিকা ভিত্তিক একটি কোম্পানির হিসাব। এই টাকা পাচার করেছে তারা, যারা ক্ষমতায় আছে। প্রতি পদে পদে দুর্নীতি। পাচার করা বিপুল অংকের টাকার খবর পানামা পেপারসে এসেছে। এই কেলেংকারী নিয়ে দুদক কিন্তু কোনো মামলা বা কোনো তদন্ত করেনি। অথচ দুদক পড়ে আছে আমাদের পেছনে। যার সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই তার পেছনে লেগে আছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে, গত সাত বছরে ব্যাংক থেকে চুরি হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। এ খাতের দুর্নীতির সঙ্গে কারা জড়িত মানুষ তা জানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮’শ কোটি টাকা কারসাজি করে পাচার করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কোনো তদন্ত হয় না। কাউকে ধরা হয়নি। এগুলো তো আ’লীগের টাকা নয়, জনগণের টাকা। জনগণের টাকা এভাবে পাচার হচ্ছে অথচ তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

প্রতিশ্রুতি
বেশ কিছু প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় গেলে তারা এসব বাস্তবায়ন করবেন। এর আগে ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষনায় এসব প্রতিশ্রুতির কথা বলেছিলেন তিনি।

‘যারা একবছরের বেশি বেকার থাকবে তাদের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে। সব ছাত্রছাত্রীর জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ ও মেয়েদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে, বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সবার জন্য পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে। সব শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকদের কৃষি উপকরণ কম দামে দেবো, ভর্তুকি দেবো। কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করবো। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে যাতে গ্রামের মানুষ শহরমুখী না হয়’, বলেন তিনি।

বাংলাদেশ আমার ঠিকানা
এক এগারোর সময়ে নির্যাতনের কথা স্মরণ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা চেয়েছিলো আমাকে সপরিবারে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে। আমি বলেছি বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। এদেশের মানুষই আমার ঠিকানা। এরপর আমার ছেলেদের নির্যাতন করেছে। এক ছেলেকে পঙ্গু করেছে। আরেক ছেলে মারা গেলো (এ সময় কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নিজেকে সামলে আবারও বক্তব্য রাখা শুরু করেন বিএনপি প্রধান)।  তারা বলেছে, আমি নাকি বাংলাদেশে ফিরে আসবো না। আমার ঠিকানা বাংলাদেশ। এখানের মানুষের কাছেই আমি থাকবো। আমাদের শক্তি গুলি নয়, এদেশের মাটি ও মানুষ।’

সরকার সমাবেশে আসতে নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জনসভা যাতে সফল না হয়, জনগণ যাতে আসতে না পারে, সেজন্যে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষকে অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে ও হোটলেগুলোতে তল্লাশি করা হয়েছে। পাবলিক যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু কী তাই, আমিও যাতে আপনাদের সামনে এসে পৌঁছাতে না পারি সে জন্য আমার বাসা থেকে বের হয়ে গুলশান পার হওয়ার রাস্তা বাস দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এরা যে কত ছোট মনের তা আবার প্রমান করলো। এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না।’

এ সময় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরেন প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা রোহিঙ্গা সমস্যা। একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমেরিকা, ব্রিটেন, ইন্ডিয়া, চীনের মতো বড় দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান, যাতে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে নির্ভয়ে সেখানে থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, তারা সে দেশের নাগরিক। বাংলাদেশের নাগরিক নয়। আমরা মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি কিন্তু দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব নয়।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, শওকত মাহমুদ, আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশিদ, হাবিব উন নবী খান সোহেল।

এর আগে বেলা পৌনে ২টায় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খানের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ২টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভা শুরুর এক ঘণ্টা পর খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে পৌঁছান। বিকেল সোয়া ৪টায় বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন খালেদা জিয়া।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ