Home > রাজনীতি > ৩৫০ পাগলের সঙ্গে তিন মাস জেলে ছিলেন বঙ্গবন্ধু : আমু

৩৫০ পাগলের সঙ্গে তিন মাস জেলে ছিলেন বঙ্গবন্ধু : আমু

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে সাড়ে তিনশ পাগলের সঙ্গে তিন মাস রাখা হয়েছিল। এ কথা অনেকেই জানেন না।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ- বিশ্ব ইতিহাসের অনন্য দলিল’শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি।

বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক সংগ্রামমুখর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, ছয় দফা ঘোষণার পর আইয়ুব খান অস্ত্রের ভাষায় মোকাবিলা করার কথা বলেছিল। বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু খুব বেশি সময় পান নাই। খুলনা, যশোর, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেট- প্রত্যেকটি জায়গায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতে হয়েছে। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে ১৯৬৬ সালের ৮ মে তিনি ফিরে আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। তখন কারাগারে সাড়ে তিনশ পাগলের সঙ্গে তাকে তিন মাস রাখা হয়েছিল। এ কথা অনেকেই জানেন না। এই কারাগারে থাকা অবস্থায় দুই বছরের মাথায় তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, তখন থেকে আমরা কেউ জানতাম না, পরিবারের কেউ জানত না, বঙ্গবন্ধু কোথায় আছেন, কেমন আছেন, জীবিত আছেন না মৃত। আগরতলা মামলা যেদিন শুরু হয়, সেদিনেই আমরা জানতে পারলাম তিনি জীবিত আছেন এবং তিনি এই মামলার প্রধান আসামি।

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরে আমির হোসেন আমু বলেন, ভাষণটি ছিল অত্যন্ত ক্যালকুলেটিভ। এই সাড়ে আঠার মিনিটের ভাষণের একটি পার্ট ছিল পাকিস্তানের ২৩ বছরের নির্যাতন-নিষ্পেষণের ইতিহাস। একটি পার্ট ছিল- তিনি যখন বক্তব্য দিচ্ছেন ওই দিন এবং তার আগের পাঁচ দিনে কীভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর থেকে শুরু করে রাজশাহী, খুলনায় মানুষের ওপর গুলি করা হচ্ছে, কীভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। আর তৃতীয় পার্ট হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পার্ট এবং একটি গেরিলা যুদ্ধের রূপরেখা।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। সেমিনার পরিচালনা করেন দলের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুনুর রশিদ। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম বীর প্রতীক, দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাংবাদিক বদরুল আহসান প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ