Home > অন্যান্য > লড়াইয়ের মাঠে জামায়াত একা, কেবল প্রার্থীতার বেলায় জোটগত স্বিদ্ধান্ত

লড়াইয়ের মাঠে জামায়াত একা, কেবল প্রার্থীতার বেলায় জোটগত স্বিদ্ধান্ত

লড়াইয়ের মাঠে একা রক্ত দিবে জামায়াত, কেবল প্রার্থীতার বেলায় জোটগত স্বিদ্ধান্ত, তাতো হতে পারে না,জোটগত রাজনীতি মানে একটি সংগঠন নয়, বরং কিছু রাজনৈতিক দলের সমষ্টি।

জোটগত সম্পর্কের একক বলি যখন জামায়াতে ইসলামী, হারিয়েছে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বও,জোটগত প্রধান দল যখন ভূমিকাহীন, তখন জামায়াত একক প্রার্থী দিতে দোষ কোথায়, এটা তো হতে পারে কেবল দলীয় স্বিদ্ধান্ত, তাই জামায়াতের এমন একক স্বিদ্ধান্তকে বিএনপির সাধুবাদ জানানোই উচিত।

রাজপথে রক্ত দিবে জামায়াত,তখন জোটের কেউ খবরও নিবে না, কেবল প্রার্থী দিতে জামায়াতের জোটগত স্বিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে, এ কেমন পদ্ধতির জোট! মার যখন একা খাবে, প্রার্থীও জামায়াত একক স্বিদ্ধান্তেই দিবে, আর কাউকে ছাড় দিলেও জামায়াতের এটা একক স্বাধীনতা।জোটগত আন্দোলনের কোন শরীক দল বিপদে পড়লে নিরব থাকা যদি জোটগত বাহিরের সিদ্ধান্ত হয়,দলগত স্বিদ্ধান্তও তেমনি যে কোন রাজনৈতিক দলের একক ইখতিয়ার।

রক্ত দিতে দিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দদের হারিয়ে পাশে থাকার নামে শরীক দলদেরও সাথে না পেয়ে আহত জামায়াত এখন একক স্বিদ্ধান্ত নেয়া শিখে গেছে, আর তা কেবল বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির স্বার্থে, দেশ ও জাতির মুক্তির সংগ্রামের অংশ হিসেবে।জামায়াত জোটগত রাজনীতির অংশ হলেও বিগত জোট সরকারের পতনের পর থেকে জামায়াতকে ঘীরে সকল প্রকার অপরাজনীতির অপকৌশলের সৃষ্টি হয়েছে, হারিয়েছে একে একে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকেও।

এতদসত্ত্বেও জামায়াত তার পাশে পায়নি জোটের অন্যতম শীর্ষ দল বিএনপিকে, এমতাবস্থায় সরকারের সকল অন্যায় অত্যাচার যখন কেবল একা জামায়াতকে সহ্য করতে হয়েছে,তাছাড়া গনতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের কোন জোটগত আন্দোলনের কর্মসূচীও নেই, সেহেতু নিস্ক্রিয় জোটের যে কোন শরীক দল তাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র বজায় রেখে যে কোন স্বিদ্ধান্ত নিতেই পারে,এ নিয়ে জোটগত বিরোধেরও কোন সুযোগ নেই।

জোটবদ্ধ রাজনীতির স্বিদ্ধান্তের বাহিরেও দলগত রাজনৈতিক স্বিদ্ধান্ত থাকে, আর তা মানা শ্রেয় হবে কিনা, সেটা দেখার স্বাধীনতা আছে যে কোন জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলের, আর যদি তা অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে যে কোন স্বিদ্ধান্ত দলগত ভাবেই নিতে হয়, সুতরাং জামায়াত জোটগত রাজনীতিতে রক্তের বিনিময়ে হলেও বিএনপিকে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে এসেছে,বিনিময়ে বিএনপির দায়িত্ব বোধের নিস্ক্রিয়তা দেশবাসীর কাছে আজ স্পষ্ট।তাই জামায়াতের যে কোন একক স্বিদ্ধান্ত আজ সময়ের দাবি।

নির্যাতিত মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে সকল রাজনৈতিক দল আজ ব্যর্থ,তাই অতীতের হালখাতায় কাউকে বড় দল কিংবা অধিক পরিমান মানুষ তাদের সমর্থক, এমন পরিচয় বহন করার মতো কোন রাজনৈতিক শক্তি পরিচয় দেয়ার মতো এখন জাতির পাশে নাই,তাই সময় এসেছে মুক্তির আহবান নিয়ে যারা রক্ত দিয়ে জাতির সামনে দাঁড়াতে পারবে, মানুষ তাদেরকেই গ্রহণ করে নিবে, আর সেই দৌড়ে জামায়াত কিছু করতে না পারলেও সততার পরীক্ষায় বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, আর সেই পরীক্ষার উত্তীর্ণ হিসেবে জাতি কেবল জামায়াতের তিমিরেই কিছুটা আলো দেখতে পায়।

তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের সকল রাজনৈতিক কাজকে নেতিবাচক চোখের মনোভাবে না দেখে বিএনপির সমর্থন জানানো উচিত,আর তারা যদি মনে করে তাদের ভিন্ন কোন স্বিদ্ধান্ত গঠন করা দরকার, তা তাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে গঠন করার ইখতিয়ার।জোটগত রাজনীতিতে সকল মতের মিল থাকতে হবে, এমন কোন কথা নেই।

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে জামায়াতের একক প্রার্থী প্রদান এই সময়ে অতিব প্রয়োজনীয় একটি স্বিদ্ধান্ত,যে দলটি অনৈতিকভাবে রাষ্ট্রীয় অবিচারের কবলে পড়ে নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব অবস্থান হারাতে বসেছে, আজ তাদের জন্য রাজনৈতিক প্রার্থীতাও দলের অবস্থানগত জনসাধারণের সমর্থন আদায়ের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ বিনে আর কোন দ্বিতীয় পথ খোলা নেই।
সুতরাং দলমত নির্বিশেষে গনতন্ত্রের স্বাধীনতাকামী জোটবদ্ধ কিংবা জোটের বাহিরের সকল রাজনৈতিক দলের জামায়াতের প্রার্থীতার স্বিদ্ধান্তকে সবাই সমর্থন করা উচিত এবং সকল প্রার্থীগনেরও সময়ের শ্রেষ্ঠ স্বিদ্ধান্ত হিসেবে জামায়াতকে সাধুবাদ জানানো উচিত।

আল্লাহ আমাদের সকলকে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার আন্দোলনে শরীক হওয়ার এবং জাতির ভোটাধিকার আদায়ে বিজয় দান করুক, আমীন।

লেখকঃ আবুল বয়ান হেলালী, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ