Home > অন্যান্য > ফিচার > পুঠিয়ায় যুব দিবস পালিত, কষ্টে অর্জিত অর্থের একাংশ লুকিয়ে রাখতাম বললেন পারভিন বেগম

পুঠিয়ায় যুব দিবস পালিত, কষ্টে অর্জিত অর্থের একাংশ লুকিয়ে রাখতাম বললেন পারভিন বেগম

পারভিন বেগম রাজশাহী জেলার পুঠিয়ার বাসিন্দা। জীবন যুদ্ধের এক ওগ্রনী সেনা নায়ীকা। জীবনের শুরু থেকেই যেকিনা দু:খ – কষ্টকে আলিংগন করে চলেছে সীমাহীন পথ। অশান্তি যেন তার নিত্ব দিনের সঙ্গী। গরিব বাবারা একজন প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েকে নিয়ে যেমন চিন্তায় থাকতেন, তার বাবারো সেই চিন্তার ইয়োত্বা নেই । অবশেষে পাত্রর সন্ধান মেলে, আর পারভিন খাতুন হয়ে যায় পারভিন বেগম। শুরু হয় নতুন সংসারে যাত্রা পথ । কিন্তু সেই সংসারের পথ খুব বেশি এগুতে পারেনি যৌতুক লোভি সামির উচ্চভিলাসের কারনে। তখন পারভিন মনে করতেন প্রতিক্ষনের নির্জাতন যেন আর জীবনেরই একটি অংশ। এতো কিছু মেনে নেওয়ার পরেও সেই সংসার ভেঙে গেলো । বিবাহ বিচ্ছেদের পরে তাকে ফিরে আসতে হয় তাকে তার বাবার বড়ি। পাড়া প্রতিবেশিদের কথা তাকে কুড়ে কুড়ে খেতো । বাবার পছন্দ করা ছেলের সাথে কিছুদিন পর আবার পারভিন বেগমের বিয়ে হয়ে যায় । এইবার হয়তো তার সুখের দিন ফিরে আসতে পারতো , কিন্তু তাকি আর তার কপালে ছিলো ? হয়তো ছিলো , বা হয়তোবা একেবারেই নেই। আর সেটি বুঝতে তার বেশি দিন লাগলো না , কেননা তার এই সামিটিও নেশা ডুবে থাকতো সবসময়। শুধু মাত্র তিন বেলা তিন মুঠো খাবারের প্রয়াসেই তার জীবন কি কাটাতে হবে ?
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর পুঠিয়া অডিটরিয়মে পালিত হলো ”শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজ” – শ্লোগানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যুব দিবস । আইকেয়া ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে, অক্সফামের একটি পকল্প ” ইম্পওয়ার ইউথ ফর ওয়ার্ক” এসেডো এর সার্বিক পরিচালনায় ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি বেকার যুব ও যুবতীদের মিলনমেরায় রূপান্তরীত হয় পুরো অডিটরিয়াম চত্বর। প্রকল্পের ডিসট্রিক এডভাইজারি বোডের্র সদস্য আনিতা শামিমের উপস্থাপনায় প্রগ্রামটি পরিচালিত হয়। প্রগ্রামটির কর্মসূচির শুরুতে স্বাগত বক্তব্য নিয়ে আসেন নিলা ইয়াসমিন (যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, রাজশাহী জেলা)। পরবর্তীতে ইম্পওয়ার ইউথ ফর ওয়ার্ক” পকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক নজরে সকলের সামনে মেলে ধরেন পকল্প সমন্বায়ক মো: অহিদুল ইসলাম।
কর্মসূচির এক মুহুর্তে সফল ইয়ুথের অনুপ্রেরনাতে বাস্তব জীবনের কাতরতার কথা জানান পারভিন বেগম। প্রায় দুই শতাধীক যুবদের সামনে এসে কখন যে তিনি হারিয়ে যান তার পিছু ফেলা দিনগুলোতে । পরিবার পরিজনের অবহেলা আর অবজ্ঞাকে বয়ে চলতে চলতে সংসারে আসে নতুন মুখ। কিন্তু মেয়ে সন্তান হওয়াতে তার উপর নির্জাতনার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলে। কাঁদতে কাঁদতে এক পর্যায়ে তিনি তার সফলতার কথাও জানান । এলাকর মাতাব্বরের কথায় স্থানিয় বানেশ্বও বাজরের আওতাধীন সিমেন্ট খুটি বানানোর কারখানায কাজ নেন তিনি। সুরুতে তার কষ্টের সীমা না থাকলেও পরবর্তীতে সেই কাজকেই হাল হিসেবে ধরেন তিনি।
কষ্টে অর্জিত অর্থের একাংশ লুকিয়ে জমাতেন তিনি তার মেয়ে ও ভবিষ্যতে কিছু করার প্রয়সে – ফিকে হাঁসি দিয়ে বলেন পারভেন বেগম। পরবার্ততে তিনি নিজেই খুলে বসেন একটি কারখানা যেখানে তার মতো আরো দশ জন কাজ করে । পাঁচ বিঘা জমি ও ছয় ভরি সর্ন অলংকারের মালিক এখন তিনি বেশ গর্বেই বলেন পারভিন বেগম।
এখন আর তাকে তিন বেলা তিন মুঠো খাবারের জন্য হাত পাততে হয়না তার সামি অথবা লোকদেখানো আত্বিয়দের কাছে। তিনি হাঁসতে হাঁসতে গর্বের সাথে তার সম্মান পাশ করা মেয়ে জামায়ের কথাও জনান উপস্থিত যুব ও যুবতিদেও উদ্দেশ্যে।
কর্মসূচির একাংশে জাতিয় যুবনীতি ২০১৭ পড়ে শোননো হয়। এবং তার উপর একটি কুইজের আয়োজন করে। এত করে যুবরা যুব নীতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতে পারে।
কর্মসূচির শেষ অংশে বেকার মধ্যবিত্ব পরিবারের যুবদের হাঁসি কান্না মিশ্রিত জীবন ধারা তুলে ধরে একটি নাটিকা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নাটিকাটিতে অভিনয় করে পকল্পর ইউথরা।
যুবরাই শক্তি যুবরাই একটি দেশের জন্য সব, ”শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজ” শির্শক আন্তর্জাতিক যব দিবসে সেটি আরো একবার প্রমাণ করে দিলো পুঠিয়ার যুবরা কর্মসুচির শেষ অংশে বললেন পকল্প সমন্বায়ক মো: অহিদুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন আমি ভাবতেই পারি নাই যে আজকের এই কর্মসূচিগুলো এই ইয়ুথদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে । সর্বপরি সকল যব ও যুবতিদেও সাফল্য মন্ডিত জীবনের প্রত্যাশায় কর্শসূচির ইতি টানেন তিনি।
অন্যন্নদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন শিউলি সুুলতানা ( প্রজেক্ট টেকনিক্যাল অফিসার), চার ইউনিয়নের প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটেটর হাসান উদ্দৌলা শারাফি, কিসমোতারা খাতুন, রেহেনা বেগম ও ইসমাইল হোসেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ