Home > বিনোদন > বাংলা গানে বারী সিদ্দিকী বেঁচে থাকবেন : শহীদুল্লাহ ফরায়জী

বাংলা গানে বারী সিদ্দিকী বেঁচে থাকবেন : শহীদুল্লাহ ফরায়জী

গুণী সংগীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী। অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে শুক্রবার পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন তিনি। জীবদ্দশায় অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এই লোকসংগীত শিল্পী।

প্রয়াত এ শিল্পীর সঙ্গে গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জীর বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। তার লেখা অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বারী সিদ্দিকী। এমনকি জীবদ্দশায় বারী সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, শহীদুল্লাহ ফরায়জীর লেখা গান চোখ বুজেই গেয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গানের বাহিরে ব্যক্তিগত জীবনে এ দুজনের পথচলাটাও দীর্ঘ।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা হয় শহীদুল্লাহ ফরায়জীর। তিনি বলেন, ‘আমরা বারী ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে নেত্রকোনা যাচ্ছি। এখন রাস্তায় আছি। আসরের নামাজের পর নেত্রকোনা সরকারি কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর নেত্রকোনার কারলি গ্রামে বাউল বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বারী সিদ্দিকীকে নিয়ে আমি একটি কথাই বলতে পারি, বারী সিদ্দিকী বাংলা গানে ভিন্ন ধারা সৃষ্টি করেছেন। তার গায়কী, সুরে সেই ভিন্নতা রয়েছে, যে ধারাটা মানুষ গ্রহণ করেছেন। এই ভিন্ন ধারা সৃষ্টির জন্যই বারী সিদ্দিকী বাংলা গানে অনেকদিন বেঁচে থাকবেন। আমি তার সঙ্গে অনেক গান করেছি। সবচেয়ে বেশি গান আমি করেছি। তাই আমারো বিশ্বাস বারী সিদ্দিকীর কিছু গান বেঁচে থাকবে। তাড়াতাড়ি বারী সিদ্দিকী হারিয়ে যাবেন না।’

বারী সিদ্দিকীর প্রথম অ্যালবাম ‘দুঃখ রইল মনে’। এই অ্যালবামের সব কটি গান লিখেন শহীদুল্লাহ ফরায়জী। প্রকাশের পর অ্যালবামটি খুবই শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এই জুটির উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো ‘চন্দ্র সূর্য যত বড়, আমার দুঃখ তার সমান’, ‘ছোট্ট একটা মাটির ঘর, কেউ আসে না নিতে খবর’, ‘আমার মন্দ স্বভাব জেনেও তুমি কেন চাইলে আমারে’, ‘এক মুঠো মাটির মালিকানা’, ‘আমি নাকি মন পোড়ানো কয়লার ব্যাপারী’ প্রভৃতি।

শিল্পী হিসেবে বারী সিদ্দিকী পরিচিতি পান ১৯৯৯ সালে। ওই বছর হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এতে তিনি ছয়টি গান গেয়ে রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন। ‘শুয়াচান পাখি’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’ ‘রজনী’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী বারী সিদ্দিকী। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করতেন।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বারী সিদ্দিকী। শৈশবে পরিবারের কাছে গানের হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারী সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন।

সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন বারী সিদ্দিকী। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের উপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এরপর নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন বারী।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ