Home > লাইফস্টাইল > অবসরের প্রস্তুতি

অবসরের প্রস্তুতি

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রোদ নেই বৃষ্টি নেই যখন অফিসের উদ্দেশ্যে বেরোতে হতো তখন মনে হতো, অনেক তো হলো, এবার একটু বিশ্রাম দরকার। অবচেতন মনে নিশ্চয় এঁকে ফেলতেন অবসর জীবনের এক খন্ডচিত্র, যেখানে অফিসের কাজের চাপ নেই, দায়িত্বের বোঝা নেই। আছে শুধু ব্যাংকে টাকার মজুত আর ইচ্ছেমতো নিজের সময় নিয়ে খেলা করার অবাধ স্বাধীনতা।

কিন্তু যখন সত্যি সত্যি এই দিনটা জীবনে এসে হাজির হতে যাচ্ছে, ততই যেন একটা ‘হারাই-হারাই’ ভাব মনকে চেপে ধরছে। এতদিনের কর্মজীবন, সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডা, সংসারের বাইরে নিজের একটা আলাদা অস্তিত্ব সবই মুছে যেতে চলেছে জীবন থেকে। এ বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া বড় কঠিন। তারপরও সময়ের অমোঘ নিয়ম মেনে দিনটি আসবেই। আর জীবনের এই বড় পরিবর্তনকে মেনে নেওয়ার জন্য আপনার মনকেও করতে হবে তৈরি। আর এই মেনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে খানিকটা সহজ করতেই আপনার জন্য কিছু পরামর্শ।

* পরিকল্পনা করে চলুন
অবসর জীবন মানেই হলো দৈনন্দিন রুটিন থেকে ছুটি। তাড়া নেই সকালে অফিসে যাবার। বিকেলে ফেরার পথে বাজার করার ঝামেলা নেই। যখন যেখানে ইচ্ছে যেতে পারবেন। তারপরও আপনার অবসর জীবনের একটি পরিকল্পনা না থাকলে আপনি পারবেন না সে জীবনটাকেও মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে। যারা অফিস-অন্তপ্রাণ, তারা কিন্তু এই জীবনে হাঁপিয়ে উঠবেন। তাই কয়েকমাস যাবার পর ভাবতে পারেন পার্ট টাইম কিছু করার। নিজের কোনো বিশেষ দক্ষতার কাজকে এক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন। কেউ করতে পারেন কনসালটেন্সি, কেউবা পড়াতে পারেন ছাত্র-ছাত্রীদের কিংবা করতে পারেন অন্য কোনো কিছু। আর সবসময় যে টাকার বিনিময়ে কাজ করতে হবে তা তো নয়। আপনি আপনার সময় কাটাবার জন্য কাজ করতে পারেন সেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্লাব বা সংস্থায়। দেখবেন সময় কেমন আনন্দে কেটে যাবে।

* বেছে নিন সঠিক সঙ্গ
আপনার খুব ইচ্ছে ছিল অবসর নিলে শুধু না পড়া বইগুলো পড়বেন। কিংবা প্রাণভরে টিভি দেখবেন। কিন্তু দিনের পর দিন কাটানো যায় না শুধু বই পড়ে বা টিভি দেখে। তাই অখন্ড অবসর যাপনের জন্য দরকার হয় সঠিক সঙ্গ। অফিস-অফিস করে হয়তো যেতে পারেননি আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে। গ্রামে হয়তো পড়ে আছে আপনার বৃদ্ধ ফুপু। আপনাকে একটিবার দেখার জন্য যার মন উচাটন। কিংবা অন্য কোনো শহর থেকে আপনার বান্ধবী হয়তো বারবার দাওয়াত দিয়েও আপনাকে নিতে না পেরে অভিমান করে বসে আছে। এখনি সময় এই শূন্যস্থানগুলো পূরণ করার। যোগাযোগ বাড়ান আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন আপনজনের সুবিধা-অসুবিধায়। নাতি-নাতনিদের কাছ থেকে শিখে নিন কম্পিউটার ও নেট সার্ফিং। দেখবেন সময় কেমন আনন্দে কেটে যাবে।

* ঘুরে বেড়ান নিত্য-নতুন জায়গা
কতো দেশ ঘুরে দেখার স্বপ্ন ছিল আপনার কিংবা দেশের ভেতরও অনেক সুন্দর জায়গা রয়েছে যা অদেখাই রয়ে গেছে। ছুটি ম্যানেজ করতে পারেননি তাই কোথাও যাওয়াও হয়নি। এবার শুধু সময় বেরিয়ে পড়ার। তবে বয়স যেহেতু বেশি তাই এখন কোনো ট্র্যাভেল এজেন্টের সাহায্য নিয়ে বের হওয়া ভালো। কিংবা গ্রুপ ট্যুরেও যেতে পারেন। এতে করে অচেনা জায়গায় গিয়ে বিপদে পড়বেন না।

* নিজেকে নিয়ে ভাবুন
সংসার এবং অফিসের পেছনে অনেক শ্রমই তো দিলেন, এবার নিজেকে সময় দেবার পালা। খাবার-দাবারের ওপর নজর দিন। সকালে তো এখন তাড়াহুড়া নেই। বেরিয়ে পড়ুন মর্নিং ওয়াক এ। ফার্স্ট ফুড এবং এবং লাল মাংসকে বিদায় বলুন। নিজের শখের কোনো কাজ যা এতদিন করতে পারেননি তা এবার শুরু করুন। মন ভালো থাকবে। মোটকথা সার্বিকভাবে নিজের ভালো থাকা নিশ্চিত করুন।

প্রত্যেক সমাপ্তির পেছনে একটি নতুন সূচনার বীজ নিহিত থাকে। অবসর জীবন মানেই নিজেকে চিনে নেবার পালা। শুধু এ জীবনটাকে মজার ও তৃপ্তিদায়ক করে তুলুন। তাহলে থাকবে না আর আপনার কোনো আফসোস।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ