Home > আন্তর্জাতিক > মেয়র জিততে মরিয়া এরশাদ, নেতাকর্মীরা রংপুরে

মেয়র জিততে মরিয়া এরশাদ, নেতাকর্মীরা রংপুরে

ঘরের দুর্গ রংপুর সিটি করপোরেশন উদ্ধারে মরিয়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দুদিন পরই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এর মধ্যেই ছোটভাই জিএম কাদের, দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন বাবলু, মশিউর রহমান রাঙ্গা, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ সারাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে বৃহত্তর রংপুরে অবস্থান করছেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। ‘রংপুরের পল্লী নিবাস’ থেকে তিনি নিজেই সিটি নির্বাচন তদারকি করছেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন নেতাকর্মীদের।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে জেতাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন এরশাদ। রংপুরে অবস্থান নেওয়া প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী তারই নির্দেশে পালা করে ছুটছেন লাঙলের পক্ষে ভোট চেয়ে ঘরে ঘরে, পাড়া-মহল্লায়। দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে চষে বেড়াচ্ছেন পুরো নির্বাচনী এলাকা। ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন এরশাদ আমলের উন্নয়ন। নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা রংপুরে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।

যে কোনো মূল্যে এবার ক্ষমতাসীন দল থেকে ‘মেয়র’ চেয়ারটি ছিনিয়ে নিতে চান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। এই নির্বাচনে জিতে পাঁচ বছর আগে পরাজয়ের জ্বালা মেটাতে চান তিনি। পুনরুদ্ধার করতে চান হারানো ভাবমূর্তি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এরশাদের প্রার্থী মোস্তফাই জিতবেন, এমনটাই দাবি নেতাকর্মীদের।

দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার রংপুর থেকে রাইজিংবিডিকে জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয় আমাদের নিশ্চিত। সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের প্রার্থী হিসেবে রংপুরে আমাদের প্রার্থীর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ রংপুরে যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই এরশাদের উন্নয়ন দেখা যাবে। এই উন্নয়নকে পুঁজি করেই আমরা নির্বাচনী বৈতরণী পার হব। কোনো প্রকার কারচুপি না হলে এই নির্বাচনে আমরাই জিতব।’ তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হাওলাদার বলেন, নির্বাচনে যাতে কোনোপ্রকার কারচুপি না হয় সেজন্য আমাদের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র পাহারা দেবে। সবস্তরের নেতাকর্মীকে সকাল থেকে বিকেল ভোটগ্রহণ পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রংপুর ছাড়ব না আমরা।

রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সর্বশেষ তৎপরতা ও পরিস্থিতির খবর নিয়ে জানা গেছে, সিটি মেয়র জিততে মরিয়া এরশাদ এমপি হওয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ছোটভাই জিএম কাদেরসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে রংপুর নিজের পল্লী নিবাসে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে ভোটের কৌশল নির্ধারণ করছেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন নেতাকর্মীদের। পার্টির চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে নেতাকর্মী-সমর্থকরাও খুব খুশি।

এরশাদের পাশে রয়েছেন ছোট ভাই জিএম কাদেরসহ দলের শীর্ষনেতারা। মেয়র প্রার্থী মোস্তফাকে সঙ্গে নিয়ে লাঙলের পক্ষে অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন জিএম কাদের। সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে রংপুর সদরের শাপলা চত্বরে মেয়র প্রার্থী মোস্তফার পক্ষে বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা বলেন, রংপুরের উন্নয়নের জন্য এরশাদের প্রার্থীর বিকল্প নেই। কারচুপি হলে সরকার পতনের আন্দোলনের হুমকিও দেন নেতারা।

জাপা কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, রংপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে এরশাদের সম্পর্ক। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হলে আমাদের প্রার্থীই জিতবে। আশা করছি নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে তারা গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

জানা গেছে, দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপিসহ যেসব এমপি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে রংপুরে অবস্থান করছেন তারা নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন না, তবে তারা নির্বাচনী এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নেতাকর্মীদের লাঙলের পক্ষে করণীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

সারাদেশ থেকে রংপুরে অবস্থান নেওয়া প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী এখন অবস্থান করছেন রংপুর সিটি এলাকায়। তারা সেখানে লাঙলের পক্ষে ভোট চাইছেন। প্রচার-প্রচারণার সময় শেষ হয়ে গেলে তারা আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সোমবার লাঙলের প্রার্থীর পক্ষে রংপুরের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, জাতীয় শ্রমিক পার্টি, জাতীয় ছাত্রসমাজ, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা।

সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীরা তার একান্ত সচিব ও কেন্দ্রীয় জাপা সদস্য সুজনদের নেতৃত্বে সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, শাপলা চত্বর মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে লাঙলের পক্ষে গণসংযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর কারমাইকেল কলেজ ছাত্রসমাজের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, জাপা কদমতলী সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মাঈনুদ্দিন বাবু, যুবসংহতির সভাপতি আলমগীর হোসেন, দক্ষিণ যুবসংহতির সম্পাদক মো. মামুন প্রমুখ।

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি জানান, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। পার্টির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই নির্বাচনে জিতে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করব। এই নির্বাচনে ভোটাররা আমাদের প্রার্থীকেই জয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমাদের প্রার্থী মোস্তফার কোনো বিকল্প নেই। তিনি পৌরসভা মেয়র হিসেবে অতীতে উন্নয়নের স্বাক্ষর রেখেছেন। জনগণকে সেবা দিয়েছেন। তিনি অন্য প্রার্থীদের তুলনায় সবদিক দিয়ে যোগ্য ও অভিজ্ঞ।

দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে সোমবার রংপুর ছুটে যান এরশাদসহ শীর্ষনেতারা। একইদিন রংপুরে পৌঁছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, তার একান্ত সচিব সুজনদেসহ শীর্ষনেতারা।

এর আগে নির্বাচনী তদারকি ও গণসংযোগে অংশ নিতে রংপুরে অবস্থান নেন দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক ভূইয়া, হারুনুর রশিদ, জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফকরুল আহসান শাহজাদা, ছাত্রসমাজের সভাপতি সৈয়দ ইফতেখার আহসান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, জাপার কেন্দ্রীয় নেতা লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, দেলোয়ার হোসেন মিলন, মিয়া আলমগীর, শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি এ কে এম আসরাফুজ্জামান খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ শান্ত, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউনুস মৃধা, মো. বাচ্চু হাওলাদার, শেখ মুজিবুর রহমান সাগর, মহিলা সম্পাদক আন্জু আক্তার, লতিফ মিয়া, বেলায়েত হোসেন, জিএম বাবু মন্ডল, তিতাস মোস্তফা, জাতীয় পার্টি ও দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

জাপা কেন্দ্রীয় সদস্য সুজনদে রংপুর থেকে জানান, লাঙলের বিজয় সুনিশ্চিত। যেদিকে যাচ্ছি এরশাদের প্রার্থীর জয়জয়কার অবস্থা। ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারলে আমরাই জিতব।’ লাঙলের পক্ষে ভোট চাইতে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণসহ সারাদেশ থেকে ১০ হাজার নেতাকর্মী রংপুরে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।

রংপুর সিটি করপোরেশন হওয়ার প্রথম নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবিতে হাতছাড়া হয়ে যায় রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ। এতে দলের ভাবমূর্তির পাশাপাশি বৃহত্তর রংপুরে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে এরশাদের ইমেজ ও জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এবার নির্বাচনে জিতে সেই ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে চান সাবেক রাষ্ট্রপতি।

লাঙলের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, এই নির্বাচনে এরশাদের পক্ষে, জাতীয় পার্টির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর নির্বাচনে সেই জোয়ারের প্রতিফলন দেখবে দেশবাসী। ‍নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমার জয় সুনিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ