Home > তথ্য ও প্রযুক্তি > আপনার ডিজিটাল ফাইলগুলো যেভাবে নিরাপদ রাখবেন

আপনার ডিজিটাল ফাইলগুলো যেভাবে নিরাপদ রাখবেন

কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনি প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে যে সমস্ত তথ্য অন্যদের সঙ্গে শেয়ার বা পাঠাচ্ছেন, তা যেকোনো সময় হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে। হ্যাকার এর হাতে আপনি যেকোনো সময় হারাতে পারেন আপনার মূল্যবান ডিজিটাল ফাইল।

আর এক্ষেত্রে অনলাইনে এনক্রিপশন ব্যবহার করাই উত্তম। এনক্রিপশন এমন একটি পদ্ধতি যা কম্পিউটারের হিউমার রিডেবল কোনো তথ্যকে এমন ভাবে পরিবর্তন করে যা মানুষ পড়তে এবং বুঝতে পারে না। তাই কেউ যদি কোনো ডাটা এনক্রিপটেড অবস্থায় থাকা কম্পিউটারে অ্যাকসেস করতে পারে তবুও সে সেই ডাটাকে রিড করতে পারবে না, যদি না তার কাছে ‘এনক্রিপটেড ডাটা কি’ থাকে।

এনক্রিপশন এর বেসিক ফাংশন হল, কোনো নরমাল টেক্সটকে পরিবর্তন করে সাইফার টেক্সট এ পরিবর্তন করা। এনক্রিপশন এটার নিশ্চয়তা প্রদান করে যে, এটা কোনো অসাধু মানুষের হাতে গেলে সে যেন ডাটাটাকে পড়তে না পারে।

এই পদ্ধতিতে ফাইল সংরক্ষণ করলে দ্রুততম কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেও কেউ আপনার ফাইল ক্র্যাক করতে সক্ষম হবে না। আপনার যদি আপনার ডিজিটাল ফাইলগুলোর সুরক্ষার প্রয়োজন হয়, তবে নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

* আপনার ফাইলগুলো শেয়ার করার সময় সেগুলো এনক্রিপ্ট করুন

অধিকাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই এটি সম্পর্কে চিন্তা করে না। কিন্তু ইন্টারনেটে অন্য কারো সঙ্গে যেকোনো ফাইল শেয়ার করার আগে সেটিকে এনক্রিপ্ট করে নেয়াই শ্রেয়। সুসমাচারটি হচ্ছে, এটা করা সত্যিই সহজ। শুধু এনক্রিপশন বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ফাইল ট্রান্সফার ওয়েবসাইট খুঁজে নিতে হবে। এছাড়াও আপনি এক্ষেত্রে এমন একটি ইমেইল পরিষেবাকে বেছে নিতে পারেন, যা ফাইল এনক্রিপশন সুবিধা দেয়। এনক্রিপশন সুবিধা পেতে আপনি senditonthenet.com, sendinc.com, tutanota.com, protonmail.com ওয়েবসাইটগুলোকে বেছে নিতে পারেন।

* আপনার ক্লাউড সার্ভিস এর জন্য একটি ভালো এনক্রিপশন বেছে নিন

আপনার ক্লাউড সার্ভিসে সংরক্ষিত ফাইলগুলোর নিরাপত্তার জন্যও একটি ভালো এনক্রিপশন সার্ভিস ব্যবহার করা উচিত। আর এক্ষেত্রে আপনি ‘বক্সক্রিপটর’ নামের একটি পরিষেবাকে বেছে নিতে পারেন। এই পরিষেবাটি অধিকাংশ ক্লাউড সার্ভিস প্রদানকারীরা সমর্থন করে। এছাড়াও এটি সব জনপ্রিয় ডেস্কটপ এবং মোবাইল প্ল্যাটফর্মেই কাজ করে।

* আপনার ই-মেইলগুলো নিরাপদ রাখুন

এক্ষেত্রে ‘সেন্ডসেইফলি’ নামক পরিষেবাটিকে বেছে নিতে পারেন। এটি শেষ পর্যন্ত এনক্রিপশন সরবরাহ করে যাতে আপনি আরো নিরাপদ পদ্ধতিতে ই-মেইলগুলো প্রেরণ করতে পারেন। আপনি এটিকে এমনকি একটি এক্সটেনশন হিসেবে জিমেইল এবং আউটলুকের মতো ই-মেইল সার্ভিসগুলোর সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন। ফ্রি সংস্করণ ব্যবহার করলে আপনি প্রতি মাসে প্রায় ৫০ এমবি স্পেস পাবেন।

* আপনার তথ্যগুলো টুলস এর মাধ্যমে গোপন রাখুন

এমন কিছু সময় আসে যখন আমাদেরকে বন্ধুদের সঙ্গে এটিএম কার্ডের পিন বা ক্রেডিট কার্ডের বিবরণ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো শেয়ার করতে হয়। আমরাও তখন বাধ্য হয়ে এসব তথ্য অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করি। কিন্তু এর ফলে আমাদেরকে একাধিক পাসওয়ার্ড পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আপনি চাইলে প্রিভোট নামক একটি টুল ব্যবহার করে এই জটিলতা এড়াতে পারেন। এটি আপনাকে একটি নোট পাঠাতে দেয় যা পড়া হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুছে যায়। উপরন্তু, আপনি এটি একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে আরো নিরাপদ করতে পারেন। পরিষেবাটিতে আপনার নোটটি ধ্বংস করা হয়েছে কিনা তা জানাতে আপনাকে একটি ই-মেইল পাঠানোরও বিকল্প রয়েছে।

* আপনার জিমেইলকে এনক্রিপ্ট করুন

আপনি যদি জিমেইল ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি ক্রিপ্টআপ নামের একটি টুল ব্যবহার করতে পারেন, যা ক্রোম ব্রাউজারে এক্সটেনশন হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। টুলটি আপনার জিমেইল ইনবক্সের শুরু-থেকে-শেষ পর্যন্ত এনক্রিপশনের কাজ করে যাবে। যখন আপনি এক্সটেনশন যুক্ত করবেন, তখন এটি জিমেইলের নিয়মিত ‘কম্পোজ’ বাটনের পাশের একটি ‘সুরক্ষিত কমপোজ’ বাটন যুক্ত করবে। আপনি এটি ব্যবহার করে আপনার অ্যাটাচ ফাইলগুলোও এনক্রিপ্ট করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র : গেজেটস নাউ

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ